সুদীপা চৌধুরী: মেদিনীপুর, ১৬ জুন, ২০২৬। কিছু কণ্ঠস্বর সময়কে অতিক্রম করে যায়।” আজ ১৬ জুন শ্রদ্ধেয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন।
ক্যালেন্ডার বলছে তাঁর জন্মদিন এসেছে, অথচ মনে হয় তিনি কোথাও যাননি। এখনও বর্ষার দুপুরে, শরতের নীল আকাশে, কিংবা শীতের নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায় হঠাৎ ভেসে ওঠে তাঁর কণ্ঠ। তখন বোঝা যায়, কিছু মানুষের বয়স বা চলে যাওয়া যেন কোনো ম্যাটার করে না।
আসলে তাঁরা স্মৃতির মধ্যে নয়, জীবনের মধ্যেই বাস করেন।
আমাদের সকলের প্রিয় হেমন্তবাবু শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালির আবেগের এক নীরব ভাষ্যকার। প্রেমের কথাও তিনি বলতেন আস্তে, বিরহের কথাও বলতেন সংযত স্বরে। তাঁর গান কখনও চিৎকার করে না, তবু হৃদয়ের গভীরতম দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ে।
আজকের দ্রুতগতির সময়ে, যখন শব্দ অনেক কিন্তু সুরের গভীরতা কমে যাচ্ছে, তখন হেমন্ত যেন আমাদের মনে করিয়ে দেন—শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি উচ্চকণ্ঠ হওয়া নয়, মানুষের মনের মধ্যে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা।
তাই তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা যায়—
“কিছু মানুষ জন্মদিনে স্মরণীয় হন,
আর কিছু মানুষ জন্মদিনের কারণেই নয়,
প্রতিটি দিনেই প্রয়োজনীয় হয়ে থাকেন।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সেই বিরল মানুষদের একজন।”
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়, চিরসবুজ হেমন্ত।


















Be First to Comment