Press "Enter" to skip to content

মাঝরাতে কলকাতা মেট্রোয় মণিরত্নম…।

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ১ আগস্ট ২০২৬।  শহর তখন ঘুমে কাদা ! অথচ কলকাতার মেট্রো চালু! তবে সেই ট্রেনে নেই নিত্যযাত্রীদের ভিড়। তার বদলে ক্যামেরা, লাইটস, সাউন্ড, আর্টিস্টরা আর পরিচালকের “অ্যাকশন” ! আসলে শনিবার রাতের কলকাতা কয়েক ঘণ্টার জন্য শ্যুটিংয়ের সেট !

খুলেই বলি ব্যাপারটা । শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত মেট্রো চলবে সিনেমার শুটিংয়ের জন্য ! ছবির পরিচালক ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি মণি রত্নম !

মণি রত্নমের নতুন ছবির নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে কাস্টিং শেষ ! ছবির মুখ্য ভূমিকায় সাই পল্লবী এবং বিজয় সেতুপতি। এই দুই স্টারকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পরিচিত জায়গায় শুটিং করেছেন পরিচালক। শহরের পুরনো স্থাপত্য, নদীর ধারের আবহ, ব্যস্ত রাস্তা, ঐতিহ্য—সবকিছুকেই নিজের ক্যামেরায় ধরে রাখতে চেয়েছেন তিনি। কলকাতার আবেগ, সৌন্দর্য এবং নিজস্ব চরিত্রকে বড় পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা এই ছবিতে !

জানা গিয়েছে, কলকাতার এই শুটিং সূচিতে মূলত এ. আর. রহমানের সুরে একটি বিশেষ গানের সিন শ্যুট করা হয়েছে। শহরের একাধিক আউটডোর লোকেশনে গানের শুটিং শেষ। পাশাপাশি ছবির গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ এবং বেশ কয়েকটি ইনডোর শুটিং হয়েছে উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বেলগাছিয়া রাজবাড়িতে। শুধু তাই নয় হাওড়া ব্রিজ, জগন্নাথ ঘাট এবং জেনারেল পোস্ট অফিস বা জিপিও-সহ কলকাতার একাধিক আইকনিক জায়গাতেও ক্যামেরা কাঁধে মণি। শনিবার সকাল থেকেই জিপিও চত্বরে শুটিংয়ের ব্যস্ততা। অন্যদিকে হাওড়া ব্রিজে সাই পল্লবী এবং বিজয় সেতুপতির শুটিংয়ের একাধিক ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বিশেষ করে বিজয় সেতুপতির সম্পূর্ণ ক্লিন শেভড নতুন লুক দর্শকদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে।

এবার কলকাতা পর্বের শেষ অধ্যায়। সূত্রের খবর, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিশেষ অনুমতি নিয়ে রবীন্দ্র সরোবর থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত চলবে মেট্রো। এই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চলন্ত মেট্রোর ভিতরে এবং বিভিন্ন স্টেশনে ছবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং হবে।

জানা যাচ্ছে, কলকাতাতেই শুরু হয়েছে এই ছবির প্রথম শুটিং সূচি। প্রায় দশ দিনের কাজ শেষ করে গোটা ইউনিট পাড়ি দেবে পুদুচেরির উদ্দেশে। তবে খবর, এখনও চল্লিশ দিনের শুটিং বাকি।

ছবির গল্প কিংবা নাম নিয়ে নির্মাতাদের মুখে কুলুপ ! বিভিন্ন সূত্রের দাবি এটি একটি রোম্যান্টিক ড্রামা। ছবির সঙ্গীত পরিচালক এ. আর. রহমান। ফলে মণি রত্নম, এ. আর. রহমান, সাই পল্লবী এবং বিজয় সেতুপতির এই সমীকরণ ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।

কলকাতার সঙ্গে মণিরত্নমের সম্পর্ক নতুন নয়। আগেও তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই শহরের নানা রূপ। বহু বছর পর আবারও তিনি কল্লোলিনী তিলোত্তমায়। শহরের অলিগলি, ঐতিহ্য, স্থাপত্য আর মানুষের আবেগকে আবার বড় পর্দায় তুলে ধরার প্রস্তুতি তাঁর। তাই এই শুটিং কলকাতাকে নতুন চোখে দেখারও এক বিশেষ সুযোগ !

কলকাতা মেট্রোয় সিনেমার শুটিং এই প্রথম নয়। ২০১২ সালে সুজয় ঘোষের ‘কাহানি’র কিছু দৃশ্যের শুটিং হয় মেট্রো রেলে। কালীঘাট এবং তৎকালীন টালিগঞ্জ স্টেশনে চার দিন শুটিংয়ের অনুমতি পায় ছবির ইউনিট। ছবির ট্রেলারে বিদ্যা বালনের চলন্ত মেট্রোর সামনে পড়ে যাওয়ার একটি দৃশ্য দেখানো হয়। দৃশ্যটি প্রকাশ্যে আসতেই আপত্তি কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষর। পরে পরিচালক সুজয় ঘোষ ব্যাখ্যা করেন, সেটি ছবির একটি স্বপ্নদৃশ্য বা ড্রিম সিকোয়েন্স। মেট্রোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আপত্তি তুলে নেয় এবং ছবিতে রাখাও হয় সেই সট।

তাই চলচ্চিত্রপ্রেমী তিলোত্তমার কাছে এ এক অন্যরকম রাত ! ঘুমন্ত শহরের ছুটে চলা মেট্রোয় জন্ম নেবে বড় পর্দার নতুন স্মৃতি ! আমরাও অপেক্ষায় থাকলাম কলকাতা মেট্রোকে নতুন ভাবে জানার, নতুন ভাবে চেনার ! রবীন্দ্র সরোবর বা শ্যামবাজারে সুযোগ নেবেন নাকি আপনারা উঁকিঝুঁকি মারার।

 

 

 

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *