ইন্দ্রাণী দত্ত : বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী। আজ বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন—খবরটা শুনে মনটা ভীষণ ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল। সরাসরি একসঙ্গে পর্দায় কাজ করার সুযোগ না হলেও, তাঁর প্রতি আমার অনুরাগ ও শ্রদ্ধা ছিল অপরিসীম।
‘লড়াই’ ছবিতে কাজ করার সূত্রে সহ-অভিনেত্রী ঋতু দাসের কাছে তাঁর এই প্রিয় মাসিমণি মিঠু মুখার্জির কত গল্পই না শুনতাম! সেসব গল্প শুনতে শুনতে কখন যেন ওঁর প্রতি একটা গভীর ভালোবাসা আর আবেগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। একবার তো কলকাতায় ওঁর বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছিলাম; যদিও উনি তখন মুম্বাইয়ে থাকায় দেখা হয়নি, তবুও ওঁর ঘরের আমেজটুকু স্পর্শ করেও মনটা এক অনাবিল আনন্দে ভরে উঠেছিল। পরে মুম্বাইয়ে শুটিংয়ের সময়ও দেখার খুব ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ব্যস্ত শিডিউলের কারণে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছিল ঋতু দাসের বিয়েতে। সেদিন হুইলচেয়ারে বসে থাকা সত্ত্বেও মিঠুদিকে কী যে অপরূপ সুন্দর লাগছিল! আমি নিজেই এগিয়ে গিয়ে পরিচয় করেছিলাম; ওঁর সেই মিষ্টি হাসি আর অল্প কিছুক্ষণের ছোট্ট আলাপ আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
চলচ্চিত্রে ওঁর অনবদ্য কাজ এবং ওঁর ওপর চিত্রায়িত আইকনিক গানগুলো আমাকেও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ‘বাজে গো বীণা’ কিংবা ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’-র মতো অসাধারণ সব গানে মুগ্ধ হয়ে আমার নিজস্ব ডান্স ট্রুপের জন্য নানা কোরিওগ্রাফি করেছি এবং বহু মঞ্চে পারফর্মও করেছি। আর দীর্ঘ বিরতির পর যখন ওঁর ‘আশ্রিতা’ সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলাম, ওঁর রূপ আর অভিনয় দেখে নতুন করে আবার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
এমন একজন গুণী ও প্রিয় মানুষের প্রয়াণ সত্যিই এক অপূরণীয় ক্ষতি। মিঠুদি, তুমি যেখানেই থাকো খুব শান্তিতে থাকো, ভালো থাকো। We will miss you very much.










Be First to Comment