Press "Enter" to skip to content

কলসির জল থেকে মন্ত্রিসভার টেবিলে….।

সুদীপা চৌধুরী : মেদিনীপুর, ১ জুন, ২০২৬। রাজনীতির ইতিহাসে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু গল্পের জন্ম হয় যা পরিসংখ্যান বা নির্বাচনী ফলাফলের গন্ডি ছাপিয়ে স্বপ্নের ভাষা হয়ে ওঠে।

আউশ গ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক কলিতা মাঝির জীবন কাহিনী যেন মেলে দিলো ডানা।

আউশ গ্রাম নামটা শুনলেই মনে হয় না কোন সে এক অজানা গাঁ , মানচিত্রে স্থান খুঁজেই পাওয়া যায় না। সেই গ্রাম আজ খবরের শিরোনামে। হ্যাঁ মেয়েরা চেষ্টা করলে সবই পারে।

যে হাত একদিন অন্যের রান্নাঘরে বাসন মেজে সংসারের চাকা ঘুরিয়েছে, সেই হাতেই আজ রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বের এক অংশ। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বোধহয় এখানেই—মানুষের ঘরের কাজ করা এক নারীও একদিন মন্ত্রিসভার টেবিলে জায়গা করে নিতে পারেন।

কলিতা মাঝির গল্প কোনও রূপকথা নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের গ্রামবাংলার মাটি থেকে উঠে আসা এক নারীর দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ভোরবেলা ঘুম ভাঙত কাজের তাগিদে, দিন কেটে যেত অন্যের ঘর সামলাতে সামলাতে। সংসারের অভাব, অনিশ্চয়তা আর প্রতিদিনের লড়াই ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সেই কঠিন জীবনই তাঁকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছে, শিখিয়েছে সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার ভাষা।

নির্বাচনের ময়দানে তাঁর কাছে ছিল না নামের জৌলুস, ছিল না প্রচারের চাকচিক্য। ছিল শুধু মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে আস্থা হয়ে ফিরে এসেছে। আর সেই আস্থার পথ ধরেই এক গৃহসহায়িকার জীবন পৌঁছে গেছে মন্ত্রিত্বের দরজায়।

আজ কলিতা মাঝি শুধু একজন মন্ত্রী নন; তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সমাজের সবচেয়ে সাধারণ মানুষও অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন। তাঁর সাফল্য হাজার হাজার পরিশ্রমী নারীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাবে—কারণ স্বপ্নের কোনও সামাজিক পরিচয় নেই, কোনও অর্থনৈতিক সীমারেখাও নেই।

 

@সুদীপা

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *