Press "Enter" to skip to content

অভিনেত্রী শ্রীলেখা কি গ্রেফতার হতে পারেন…। 

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৬ জুলাই, ২০২৬। নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে গত ২৪ জুলাই ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলন হয় ! তার রেশ এখনও কাটেনি। আন্দোলনের পাশাপাশি সেই দিনের ঘটনাকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক ! ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার। সেই আবহেই এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রীলেখা মিত্র !

অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিকৃত ও কুরুচিকর ছবি প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয় ! এতে শুধু প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাতেই আঘাত লাগেনি, বরং সাধারণ মানুষের অনুভূতিও আঘাতপ্রাপ্ত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার থানাতেও বিজেপির নেতা-কর্মীরা পৃথক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। শুধু একটি থানাতেই নয়, একাধিক থানায় শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের।

কেয়া ঘোষের দাবি, শ্রীলেখা মিত্র তথাকথিত ‘টুকরে গ্যাং’-এর সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার রাজনীতিতে সামিল ! তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বিজেপির।

অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা হলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও গেরুয়া শিবিরের। ফলে বিষয়টি এখন শুধু একটি পোস্টার বিতর্ক নয় ! রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছে।

শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে যে ধারাগুলিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ৩৫২ ধারা।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই ধারায় ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ করা হয়েছে যা কোনও ব্যক্তির ভাবমূর্তি বা মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। এছাড়াও ৩৫৩ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে প্রকাশ্যে উসকানিমূলক তথ্য, ছবি বা আচরণের মাধ্যমে জনরোষ সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা যায়। অভিযোগে সংবিধানের ১৯(১)(২)-এর প্রসঙ্গও টানা হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, সংবিধান নাগরিককে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দিলেও সেই অধিকার শর্তসাপেক্ষ এবং সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কোনও ব্যক্তি অন্যের মর্যাদা বা সামাজিক সম্প্রীতিতে আঘাত করতে পারেন না। পাশাপাশি ৩৫৬ ধারার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ইচ্ছাকৃত মানহানির মাধ্যমে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগের বিধান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই অভিযোগের সূত্রপাত গত শুক্রবারের ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি থেকে। সেই আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলেখা মিত্র। অভিযোগ, সেখানেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিকৃত ও কুরুচিকর ছবি-সহ পোস্টার হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে দাঁড়ান। সেই ছবি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়েই শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে অপমান করা কোনওভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

শ্রীলেখার দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। তিনি বলেন, “আমি যতই বিজেপি বা মোদি বিরোধী হই, আমাকে যদি কেউ দেশদ্রোহী আখ্যা দেন, সেটা যেমন হাস্যকর, ঠিক তেমনই এটা ভাবাও ভুল যে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ধরনের ছবি হাতে নিয়েছিলাম। পেটে কিছুটা হলেও তো শিক্ষা আছে। আসলে তখন আমার চোখে রোদচশমা ছিল। সেই সময় পুলিশের লাঠিচার্জও চলছে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে কোনওরকমে একটি পোস্টার তুলে নেই। সেটি ঘুরিয়েও দেখিনি। পোস্টারটাও খুব ছোট ছিল। তাই বুঝতেই পারিনি সেখানে মোদিজির বিকৃত কোনও ছবি রয়েছে।”

তাঁর কথায়, তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, যাঁদের একের পর এক আপ্তসহায়কের মৃত্যু হয়েছে, সেই ঘটনাগুলির প্রকৃত দায়ীদের আগে আইনের মুখোমুখি করা হোক। সেই চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন।

একেই কি বলে দশচক্রে ভগবান ভুত ! চারপাশে এত পোস্টার সেদিন, নানা সাইজের ! না দেখে ওই পুঁচকে পোস্টারটাই না হয় তুলেই নিয়েছেন ! চড়া রোদ, পুলিশের লাঠিচার্জ মাথা ঠিক নাও থাকতে পারে ! তাই তিনি পাশে আরেকজনকে নিয়ে, হাতে ওই পোস্টার, ছবি তুললেন ! সেটাই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দিতে হল !

 

 

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *