নিজস্ব প্রতিনিধি : নিউ দিল্লি, ২০ জুলাই, ২০২৬। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক আবহ টানটান উত্তেজনায় ভরা। একদিকে সংসদ অভিযান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি), অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের। দিনের শেষে সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কিছুটা ইতিবাচক বার্তা মিলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের ধর্না তুলে নেওয়ার আহ্বান জানায় নরেন্দ্র মোদি সরকার। একইসঙ্গে সূত্রের খবর, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পরই ২৩ দিনের অনশন ভেঙ্গেছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
দিল্লি পুলিশের অনুমতি না থাকলেও আজ পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকালে সংসদ অভিযানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। রাজধানীতে ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা মিছিল শুরু করেন। সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে তাঁদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙ্গে এগিয়ে যেতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে দিল্লি পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় রণক্ষেত্রের চেহারা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা এবং বিশৃঙ্খলায় রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং দলের নেতা আশুতোষ রঙ্কার সঙ্গে এই বৈঠক হয়। পরে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের অনুরোধেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, সোমবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ বৈঠকটি হয় এবং সেই সময় আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিদাওয়া সংবলিত একটি পিটিশনও তাঁর হাতে তুলে দেন।
বৈঠকের পর জে পি নাড্ডা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন নিজেদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। তাঁর কথায়, দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শান্তি ফিরিয়ে আনা সবার দায়িত্ব। একইসঙ্গে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকেও আন্দোলনকারীদের শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি কোনও গুজব বা ভুল তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই বিষয়েও সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার খবর সামনে আসে। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই দীর্ঘ ২৩ দিনের অনশন ভেঙ্গেছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এই আন্দোলনে তিন দফা দাবি জানানো হয়। প্রথমত, সোনম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তৃতীয়ত, আত্মঘাতী হওয়া সমস্ত নিট পরীক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি। এই দাবিগুলিকেই সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সিজেপি। সোমবারের বৈঠক ও অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা শান্ত হলেও আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।











Be First to Comment