Press "Enter" to skip to content

মগজ ধোলাই… !     

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার: কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। মগজ ধোলাই ! সায়েন্স ফিকশন এবার বাস্তব প্রথম বাণিজ্যিক ছাড়পত্র।

হীরক রাজার সেই ‘মগজ ধোলাই’ এবার বাস্তবে!

১৯৮০ সালে সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘হীরক রাজার দেশে’ চলচ্চিত্রে মগজের চিন্তাভাবনা জোরপূর্বক বদলে দেওয়ার কাল্পনিক ‘মগজ ধোলাই’ যন্ত্রের কথা বলেন।

৪৬ বছর পর আজ বিশ্বজুড়ে আক্ষরিক অর্থেই তা সত্যি !

সায়েন্স ফিকশন বা সিনেমার পর্দা ছেড়ে মানুষের মগজ সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার প্রযুক্তি এবার ল্যাবরেটরিতে বাস্তব !

আপনার অজান্তেই বদলে যাবে ফেলে আসা অতীত !

মানুষের মস্তিষ্কে কৃত্রিম বা সাজানো স্মৃতি (Artificial Memory) ইনজেক্ট করার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও যুগান্তকারী প্রযুক্তির চূড়ান্ত বাণিজ্যিক অনুমোদন দিলো আন্তর্জাতিক নিউরো-এথিক্স কাউন্সিল (International Neuroethics Council)।

কোথায় এই কাউন্সিল?🇫🇷

প্যারিস ও ওয়াশিংটন:

বিশ্বের সমস্ত উন্নত নিউরো টেকনোলজি ও মগজ সংক্রান্ত গবেষণার নৈতিকতা নিয়ন্ত্রণকারী এই সর্বোচ্চ গ্লোবাল কাউন্সিলের সদর দফতর মূলত প্যারিস, ফ্রান্সে (UNESCO-এর সহায়তায়)।

তবে মূল বৈজ্ঞানিক প্যানেলটি পরিচালিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি. থেকে।

 

কি এই কৃত্রিম স্মৃতি ?

দুর্ঘটনার স্মৃতি বদল:

ধরুন, কোনো মানুষ অতীতে এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন (Severe Trauma)। প্রতি রাতে সেই দুর্ঘটনা মনে করে তিনি আতঙ্কে জেগে ওঠেন।

মেমোরি সোয়াপ:

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর মস্তিষ্কের নিউরনে একটি ‘মিথ্যে বা সাজানো স্মৃতি’ ইনজেক্ট করা হবে !

সেই ইনজেক্টেড স্মৃতি তাঁর মগজকে বিশ্বাস করাবে, সেদিন কোনো দুর্ঘটনাই ঘটেনি, বরং তিনি একটি চমৎকার পাহাড়ি রাস্তায় শান্তিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন!

অর্থাৎ, আসল সত্যি স্মৃতি মুছে সেখানে একটি কৃত্রিম সুখের স্মৃতি বসিয়ে দেওয়া হবে।

 

১২ বছরের ল্যাব ট্রায়াল !

দীর্ঘ ১২ বছরের গোপন ট্রায়াল:

এই প্রযুক্তি রাতারাতি আসেনি। বিগত ১২ বছর ধরে (২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত) আমেরিকার বোস্টন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাবে ইঁদুর, বানর এবং প্রাইমেটদের ওপর এর সফল নিউরাল ট্রায়াল চালানো হচ্ছিল।

 

MIT ও ক্যালিফোর্নিয়া ল্যাব:

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার (UCSD) ল্যাবে অপটোজেনেটিক্স (Optogenetics) এবং AI-গাইডেড ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে ভয় বা আনন্দের স্মৃতি তৈরি করার পর এবার মানুষের ওপর গ্রিন সিগন্যাল মিলল !

 

কোথাকার ট্রমা ক্লিনিকে গেলে স্মৃতি বদলানো যাবে?

আমেরিকার সুপার-স্পেশালিটি জোন:

ইউএস ফেডারেল গাইডলাইন ও আন্তর্জাতিক কাউন্সিলের শর্ত মেনে প্রথম দফায় আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া (California), টেক্সাস (Texas) এবং পেনসিলভেনিয়া (Pennsylvania)-র মাত্র কয়েকটি নির্বাচিত লেভেল-১ (Level-I) ট্রমা সেন্টার ও প্রিমিয়াম নিউরো-মেডিক্যাল সংস্থাকে এই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

 

খরচ কত ?

বিপুল খরচ:

এই মেমোরি ইমপ্লান্ট বা সোয়াপিং মোটেও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পার্সোনালাইজড AI-গাইডেড ব্রেন স্টিমুলেশন এবং সার্জারির পুরো প্যাকেজের খরচ শুরু হচ্ছে ১,৫০,০০০ মার্কিন ডলার থেকে ৩,০০,০০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ থেকে আড়াই কোটি টাকা)!

ফলে চাইলে কারা করাতে পারবেন বুঝতেই পারছেন ! অঢেল টাকার মালিকরা।

তারা চাইলে নিজেদের অতীতের কোন কালো অধ্যায় বা ডিপ্রেশন মুছে ফেলতে এই টাকা খরচ করতে পিছপা হবেনা।

 

কোন্ শর্তে পাওয়া যাবে অনুমতি ?

শর্ত নং ১ (কোনো অপরাধী নয়): কোনো রানিং ক্রিমিনাল কেস বা আইনি তদন্ত চলছে এমন কোনো ব্যক্তিদের ওপর এই মেমোরি মডিউলেশন করা যাবে না।

শর্ত নং ২ (ব্যক্তিত্বের ক্ষতি রোধ): শুধুমাত্র চিকিৎসকের দ্বারা প্রমাণিত ‘severe PTSD’ (পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) বা আত্মহত্যার প্রবণতা আছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রেই স্মৃতি আংশিক বদলানো যাবে !

কোনো সুস্থ মানুষের শখের মেমোরি চেঞ্জ করার অনুমতি নেই !

 

ভয়াবহ অন্ধকার দিক (The Dark Future):

মগজ হ্যাকিং: আইন তো শর্ত দিয়েছে, কিন্তু যদি কোনো অপরাধী চক্র বা আন্ডারওয়ার্ল্ড এই প্রযুক্তি ব্ল্যাক মার্কেটে পেয়ে যায় ? তখন কি হবে ?

আপনার মগজে হয়ত তারা এমন স্মৃতি ঢুকিয়ে দেবে, তখন আপনি নিজে কোনোদিন খুন না করেও আমৃত্যু বিশ্বাস করবেন আপনিই খুনি !

সত্যি আর মিথ্যের কোনো তফাতই থাকবে না পৃথিবীতে।

বিশ্লেষণ:-  রাজনীতি আর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির বাইরে গিয়ে এই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশঙ্কার অন্দরমহল !

 

 

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *