Press "Enter" to skip to content

পাসপোর্ট তৈরির খরচ বাড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার….।…

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৮ জুন, ২০২৮। বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে বহু ভারতীয়ই পাসপোর্টধারী। এতদিন অনেকেই এটিকে পরিচয়পত্র হিসেবেও ব্যবহার করতেন। তবে সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাসপোর্ট বিদেশ ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও এটি ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ বা সরকারি পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা হয় না। নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় ভারতের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী। জন্ম, বংশসূত্র, নিবন্ধন, স্বাভাবিকীকরণ (Naturalisation) বা ভারতের সঙ্গে কোনও এলাকা যুক্ত হওয়ার মতো নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। তাই শুধুমাত্র পাসপোর্ট থাকলেই কেউ ভারতীয় নাগরিক—এমন দাবি করা যায় না।

তার মধ্যেই খবর পাসপোর্টের খরচ বাড়ছে। ১ জুলাই থেকে পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবার ফি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা। নতুন পাসপোর্ট তৈরি, পাসপোর্ট নবীকরণ (রিনিউ), হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু, সব ক্ষেত্রেই ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। ফলে আগামী দিনে পাসপোর্টের আবেদনকারীদের আগের তুলনায় খরচ বেড়ে গেল।

নতুন ফি অনুযায়ী, ৩৬ পাতার সাধারণ (Normal) পাসপোর্ট তৈরি বা নবীকরণের জন্য এখন ২,৫০০ টাকা দিতে হবে। আগে এই ফি ছিল ১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইভাবে ৬০ পাতার পাসপোর্টের জন্য নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩,৫০০ টাকা, আগে লাগত ২,০০০ টাকা।

যাঁরা জরুরি ভিত্তিতে তৎকাল (Tatkal) পরিষেবার মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে চান, তাঁদেরও বেশি টাকা গুনতে হবে। আগে এই পরিষেবার জন্য প্রায় ৪,০০০ টাকা লাগত, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ৫,০০০ টাকা দিতে হবে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, চুরি হয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে। নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী, যদি ৩৬ পাতার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়, চুরি হয়ে যায় বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাহলে নতুন পাসপোর্ট পেতে ৫,০০০ টাকা ফি দিতে হবে। আগে এই খাতে লাগত ৩,০০০ টাকা। অর্থাৎ ২,০০০ টাকা ফি বেড়েছে।

অন্যদিকে ৬০ পাতার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন করে পেতে এখন ৬,০০০ টাকা দিতে হবে। আগে এই ফি ছিল ৩,৫০০ টাকা। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রেও ২,৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়াও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত অন্যান্য পরিষেবার ফি-তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC), সারেন্ডার সার্টিফিকেট (Surrender Certificate), গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রাম (Global Entry Program)-এর ভেরিফিকেশন এবং আরও কিছু পরিষেবার জন্য ভারতে ৭৫০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। বিদেশে এই পরিষেবাগুলির জন্য ৪০ মার্কিন ডলার (USD 40) দিতে হবে।

এদিকে ইমার্জেন্সি সার্টিফিকেট (Emergency Certificate) ভারতে আগের মতোই বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে বিদেশে আবেদন করলে এর জন্য ১৫ মার্কিন ডলার (USD 15) ফি দিতে হবে। আবার সার্টিফিকেট অব আইডেন্টিটি (Certificate of Identity)-এর জন্য ভারতে ১,০০০ টাকা এবং বিদেশে ৫০ মার্কিন ডলার (USD 50) ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু, এই সবই তো সরকারী খরচ। পাসপোর্ট অফিসে চক্কর কাটার অভ্যাস থাকলে বোঝা যায় বেসরকারি খরচ কত ! আগেকার সরকারী খরচ আর বেসরকারি খরচ যোগ করলে দেখা যাবে, তাও এখনকার সরকারি খরচের থেকে হয়ত কম ! তারপর দালালচক্র ! আমার একটাই প্রশ্ন, সরকারী খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি কি বেসরকারি খরচও বাড়বে ?

 

 

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *