Press "Enter" to skip to content

তারাতলায় ধ্বংসস্তূপে বহু শ্রমিক….।

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৪ জুন, ২০২৬। বুধবার দুপুরে কলকাতার তারাতলা এলাকায় ঘটে গেল দুর্ঘটনা। ব্যস্ত দিনের মাঝেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে নির্মীয়মাণ তিনতলা গোডাউনের ছাদ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক, আর্তনাদ এবং প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেই সময় গোডাউনের ভিতরে কাজ করছিলেন বহু শ্রমিক। ছাদ ধসে পড়তেই লোহার ভারী বিম, কংক্রিটের স্তূপ এবং নির্মাণসামগ্রীর নিচে আটকে পড়েন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন। প্রাথমিকভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই মুহুর্তের খবর অনুযায়ী ২১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভবপর হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য। স্থানীয় মানুষজন প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা। আনা হয় ক্রেন ও গ্যাস কাটার। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত ২১ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করতে পারা গিয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসনও দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিধায়ক তথা মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি জানান, শ্রমিকদের উদ্ধার করতে যা যা প্রয়োজন, তার সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য আটকে পড়া মানুষগুলোর প্রাণ বাঁচানো। উদ্ধারকার্যে সেনাবাহিনীকেও নামানো হয়েছে। সেনা, পুলিশ ও দমকলের যৌথ তৎপরতায় উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং উদ্ধারকার্যে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, উদ্ধারকার্যের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদানপ্রদানের জন্য এই কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়, সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর জন্য।

জানা গিয়েছে, যে ভেঙ্গে পড়া গোডাউনটির জমি বন্দরের অধীনস্থ। লিজ নিয়ে সেখানে বন্দরের কাজের জন্য গোডাউন নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে দুর্ঘটনার পর থেকেই নির্মাণকাজের গুণমান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোডাউন তৈরীর ঠিকাদারের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। শুধু তাই নয়, নিম্নমানের সামগ্রীও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ দাবি করেছেন, তৃণমূল আমলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই নির্মাণকাজ করা হচ্ছিল, যার ফলেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর সামনে আসতেই রাজ্য প্রশাসনও দ্রুত তৎপর। নবান্নে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫ নম্বরে। উদ্ধারকার্যের প্রতিটি মুহূর্তের খবর সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে এই কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু উদ্বিগ্ন পরিবার সেখানে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লোহার কাঠামো, ভারী কংক্রিটের স্তূপ এবং ছোট জায়গার মধ্যে চলছে উদ্ধারকার্য !

মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেছেন, তৃণমূল সরকারের সময় এই কাজ শুরু হয়। তাই ঘোটালা থাকতেই পারে।

 

 

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *