শর্বরী চক্রবর্তী : কলকাতা, ২২ জুন ২০২২২। ১৫ বছরের একটা মেঘাচ্ছন্ন অধ্যায় অবশেষে শেষ হলো এই রাজ্যে- নৈমিত্তিক জীবনে যা নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে, তার প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প (চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, সাহিত্য) এতো অন্ধকার জমেছে এই ক’বছরে- কোনো জাদুমন্ত্রে এক লহমায় সব কিছু সুস্থ, স্বাভাবিক, মালিন্যমুক্ত হবে এ প্রত্যাশা আমি করি না। সাগ্রহে খবর রাখি কোথায় কি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগত সম্বন্ধে আমার আগ্রহ আছে বলে দু-চার কথা লিখছি।
ভয়াবহ রাজনৈতিক আগ্রাসন আর স্বৈরাচারের অভিঘাতে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দৈন্যদশা। অবিশ্বাস, অসূয়া, আর দূর্নীতির পঙ্কিলতায় পারষ্পরিক সৃজনশীল সম্পর্কগুলোই প্রায় নষ্ট হতে বসেছে। একটা প্রোজেক্ট ফ্লোরে যাওয়া থেকে হল রিলিজ সবটা জুড়ে এতোটাই ক্ষমতার আস্ফালন শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় “বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান” বলে আবেদন করতে হয়। ফেডারেশান নামক ছাতার তলায় যে মাত্রাছাড়া রাজনৈতিক খবরদারি চলেছে তা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।
গত ৪ঠা মে পট পরিবর্তন হল। এবারে একজন ইন্ডাস্ট্রি থেকে নির্বাচিত বিধায়িকা এককভাবে “কনফেডারেশান” তৈরি করার কথা ঘোষণা করে দিলেন। কি ভাবে, কোন সিদ্ধান্তে হলো জানা গেলো না। তারপরে আবার টালিগঞ্জের সুদিন ফেরাতে নতুন উপদেষ্টা কমিটি তৈরি হলো। নতুন মুকুট মুখগুলো সব একই প্রায়।
একটা প্রশ্ন মনে জাগে। ইন্ডাস্ট্রি কি পুরনোকে সম্মান দিতে ভুলে গেছে? ৬০-৭০-৮০-৯০ দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা অপরিমেয় অসুবিধের মধ্যে সৃজনশীল কাজে পারদর্শীতা দেখিয়েছিলেন সেরকম বেশ কিছু মানুষ এখনও আমাদের মধ্যেই আছেন, এই শহরেই আছেন। তাঁদের মধ্যে দু-একজনকে কি পরামর্শদাতা হিসেবেও রাখা যেতো না ? তখন এতো টেকনোলজির রমরমা ছিল না, এতো স্পন্সরের আধিক্য ছিল না, কেউ বুঝত না সেই ভাবে। বাঙালি জীবনের সংগে সম্পৃক্ত সাহিত্য নিয়ে ধারাবাহিক হতো, সিনেমা হতো। শ’য়ে শ’য়ে সিঙ্গল ও স্ক্রিন হলে মানুষ হৈহৈ করে ছবি দেখতো। সেই সময় যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করেছেন, তাঁদের তো কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। তখন পায়োনিয়ারদের মধ্যে একজন ছিলেন রবিন ঘোষ (ইনফোকমের প্রতিষ্ঠাতা), পরিচালক ইন্দর সেন,
গৌতম ঘোষ, প্রবীর রায় (২৪ ফ্রেমস)। টালিগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী প্রবীর রায়ের সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন সে সমন্ধে উনি কিছু আলোকপাত করতে পারবেন। দূরদর্শনে প্রথম রঙীন সম্প্রচার, পণ্ডিত রবিশঙ্করের প্রথম দূরদর্শনে আবির্ভাব সবই অভিনেতা প্রযোজক ও পরিচালক প্রবীর রায়ের হাত ধরে এসেছে। আজ তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। রবিন ঘোষ, ইন্দর সেন, গৌতম ঘোষ জীবিত এবং কর্মক্ষম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এনাদের সাহায্য চাইলে, নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।
আমাদের মধ্যেই রয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন এবং বিশিষ্ট পরিচালক সন্দীপ রায়। এঁদের পরামর্শের গুরুত্ব অপরিসীম।
এক কথায়, রাজনীতির উর্ধে উঠে অভিজ্ঞ এবং কৃতবিদ্য ব্যক্তিত্বদের যথাযোগ্য সম্মান জানিয়ে উপদেষ্টা মন্ডলী তৈরি করলে আখেরে ইন্ডাস্ট্রির লাভ। এক কথায় ইন্ডাস্ট্রিকে হতে হবে- all inclusive. না হলে পুরোটাই সেই চর্বিত চর্বন হয়ে দাঁড়াবে- সেটা বোধ হয় কাম্য নয়।




















Be First to Comment