Press "Enter" to skip to content

কার দখলে থাকবে তৃণমূলের তহবিল…. ?

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২২ জুন, ২০২৬। নারদ, নারদ ! ‘আমায় দে মা তবিলদারী’, সাধক রামপ্রসাদ সেনের এই গানটা খুব মনে পড়ছে ! রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে ! এবার সেই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু দলের বিপুল অঙ্কের তহবিল। দলের সাড়ে চারশো কোটিরও বেশি টাকার তহবিল ঘিরে অরূপ বিশ্বাস এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের মধ্যে প্রবল টানাপোড়েন ! এই সংঘাত এখন এমন পর্যায়ে, বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপ ! তাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে !

সূত্রের খবর, এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে থাকা দলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আপাতত ‘ডেবিট ফ্রিজ’ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা জমা পড়লেও সেখান থেকে কোনও অর্থ তোলা বা খরচ করা যাবে না। ফলে দলের আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং তহবিল ব্যবহারের উপর আপাতত বড়সড় প্রভাব বলেই ধারণা !

এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার নিয়ে। গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে অরূপ বিশ্বাস শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের মধ্যে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে চরম মতবিরোধ তৈরি হয়। প্রথমদিকে বিষয়টি দলীয় স্তরে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা ক্রমশ বড় আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন ময়দানে !

আগে অরূপ বিশ্বাস প্রকাশ্যে এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন। এবার পাল্টা অবস্থান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের। জানা গিয়েছে, ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ ১০ জন বিধায়ক একযোগে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাঁদের অভিযোগ, দলের তহবিলের বিপুল অঙ্কের টাকার উৎস (!), ব্যবহার এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই। সেই কারণেই তাঁরা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি অবিলম্বে ব্লক করার দাবি জানান।

ঋতব্রত-পন্থী বিধায়কদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে। তদন্ত ও যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন যাতে অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও অর্থ লেনদেন না হয়, সেই কারণেই এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্টে ডেবিট ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আপাতত ওই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যবহারের সমস্ত পথ বন্ধ।

এদিকে এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, একই সঙ্গে তৃণমূলের অন্দরেও জল্পনা। তবে দলের মূল শিবির এই বিতর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে সমস্ত বিভ্রান্তি ! তাই তা দূর করার জন্যই দলের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, অরূপ বিশ্বাস একসময় দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সেই পদে নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন দলের কার্যসমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শুভাশিস চক্রবর্তীই এখন তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ। তবু সংবাদমাধ্যমে অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে সমস্ত জল্পনা এবং প্রচার ! অথচ, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দলের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ৫ জুন থেকেই শুভাশিস চক্রবর্তী কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং দলের আর্থিক বিষয়গুলির দেখভাল করছেন।

একদিকে অরূপ বিশ্বাস, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং তার মাঝখানে দলের সরকারি অবস্থান তুলে ধরছেন কুণাল ঘোষ। তাই কি এখন কার্যত ত্রিমুখী সংঘাত !

 

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *