Press "Enter" to skip to content

রেড রোডে ১২ তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর যোগাভ্যাস…।

#মোদী রেড রোডে কি বললেন#?

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২১ জুন, ২০২৬। ১২ তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকেই কলকাতার রেড রোড যেন এক বিশাল যজ্ঞস্থল ! আর সেই যজ্ঞস্থলে এক বিশাল যোগমঞ্চ ! প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত হয় মেগা যোগ কার্নিভাল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি-সহ রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্যের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান এত বড় পরিসরে আয়োজন করা হল। একই সঙ্গে এটিই ছিল কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন।

সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী রেড রোডে পৌঁছলে তাঁকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ছৌ নাচ ও ঢাকের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। এরপর যোগমঞ্চে উঠে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং যোগের বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ২১ জুন এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উৎসব ! কলকাতার মানুষ আন্তরিকতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ কেবল শরীরচর্চা নয়, এটি মানুষকে মানুষে যুক্ত করার এক অনন্য মাধ্যম। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতেও যোগের গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। যোগ মানুষের জীবনযাত্রায় ভারসাম্য আনে, মনকে স্থির করে এবং দৈনন্দিন জীবনের চাপ সামলাতে সাহায্য করে। তাঁর মতে, নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষকে বয়সের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে আরও কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, ৭০ বছর বয়সেও ৫০ বছরের মতো উদ্যম অনুভব করা কিংবা ৪০ বছর বয়সে ২০ বছরের মতো ফিট থাকা সম্ভব যোগের মাধ্যমে।

বক্তৃতার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও যোগাভ্যাসে অংশ নেন ! তাঁকে একাধিক যোগাসন করতে দেখা যায়। শুধু নিজে অনুশীলন করেই থেমে থাকেননি, তিনি ঘুরে ঘুরে অন্যদের যোগচর্চাও পর্যবেক্ষণ করেন। কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর আসনের ভঙ্গি সংশোধন করে দিতেও দেখা যায় তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরাও এই যোগাভ্যাসে অংশ নেন।

বিশ্বমঞ্চে যোগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৯২টি দেশে যোগ দিবস পালিত হচ্ছে এবং ১২০টিরও বেশি দেশের প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ এ বছরের উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, যোগ এমন একটি শক্তি যা ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক সীমানার ভেদরেখা মুছে দিয়ে গোটা বিশ্বকে একসূত্রে বেঁধেছে।

যোগের উপকারিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষাতেও অত্যন্ত কার্যকর। আধুনিক জীবনের উদ্বেগ, অস্থিরতা ও চাপের মধ্যে যোগ মানুষকে শান্ত থাকতে এবং চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে এলেও নিয়মিত যোগচর্চা সেই সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং আরও উন্নত করতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন, যোগ কেবল তরুণদের জন্য নয়; শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের জন্যই এটি সমানভাবে প্রয়োজনীয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি সুস্থ ব্যক্তি যেমন একটি সুস্থ পরিবার গড়ে তোলে, তেমনই সুস্থ পরিবার মিলেই গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সমাজ ও উন্নত দেশ। সেই কারণে যোগকে শুধু একদিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পরিবারের প্রতিটি সদস্য এবং আগামী প্রজন্মকে যোগের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সকলের কাছে সংকল্প গ্রহণের আবেদনও জানান।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি উদ্যোগে যোগ দিবসকে সেইভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যার কারণ তাঁর কাছে স্পষ্ট নয় ! অথচ যোগ পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি বলেন, যে যোগচর্চা ধীরে ধীরে বিস্মৃত হতে বসেছিল, তাকে নতুন করে মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি শতকোটি প্রণাম জানান। বিশ্বদরবারে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে যোগকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় যোগের অপরিসীম গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।

রেড রোডের এই বিশাল আয়োজন শুধু একটি সরকারি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক সংহতির এক বৃহৎ বার্তা বহন করেছে। হাজার হাজার মানুষের একসঙ্গে যোগাভ্যাস যেন প্রমাণ করে দিল, শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার এই প্রাচীন ভারতীয় পদ্ধতি আজ আর কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের সম্পদ নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য এক জীবনদর্শন। কলকাতার বুকে আয়োজিত এই মহাউৎসব সেই বার্তাকেই আরও একবার জোরালোভাবে তুলে ধরল।

২০১৪ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ যোগ দিবসের স্বীকৃতি দিলেও, পশ্চিমবঙ্গে এতদিন এই দিনটি বিয়োগই ছিল ! রাজনীতি নয়, সুস্থতা এবং ঐক্যর জন্য আগের সরকারের কি উচিৎ ছিল এই দিনটি পালন করা। আপনাদের কি মনে হয় ? মাননীয়ার অনীহার কারণ কি ::

 

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *