Press "Enter" to skip to content

স্পেনের জয়ে উরুগুয়ের বিদায়, ইতিহাস গড়ল কাবো ভার্দে….।

স্পেন ১ (আলেক্স বায়েনা (৪২’) উরুগুয়ে ০

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার: কলকাতা, ২৭ জুন, ২২৬।  বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে নাটক ! উত্তেজনা আর স্বপ্নভঙ্গ, সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর সন্ধ্যা ! একদিকে ইউরোপের স্পেন ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দিল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেও ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে কাবো ভার্দে ! আর এই দুই ফলের জেরেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল উরুগুয়েকে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই স্পেনকে অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। তবে প্রথম ম্যাচে কাবো ভার্দের কাছে পয়েন্ট হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই হতাশা কাটিয়ে পরপর দুটি ম্যাচ জিতে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচের আগে চারটি দলের সামনেই নকআউটে ওঠার সুযোগ ছিল। তবে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল স্পেন। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ড্র করলেও তাদের পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু শুধুমাত্র এক পয়েন্টের জন্য রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে নামেনি স্পেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে তারা। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকেও প্রথম একাদশে রেখেই দল সাজান কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। বোঝাই যাচ্ছিল, প্রতিপক্ষকে একটুও হালকাভাবে নেননি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল এবং আক্রমণের ধার—দুই দিক থেকেই এগিয়ে ছিল স্পেন। যদিও কাঙ্ক্ষিত গোল আসছিল না। অবশেষে ৪২ মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় এগিয়ে যায় স্প্যানিশরা। আলেক্স বায়েনার একটি তুলনামূলক দুর্বল শট সহজেই আটকে দেওয়ার কথা ছিল উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার। কিন্তু অবিশ্বাস্য ভুলে বলটি হাত ফসকায়। ধীরে ধীরে গড়িয়ে বল জালে ঢুকতেই উৎসব স্পেন শিবিরে। সেই ভুলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠার কথা ছিল উরুগুয়ের। কারণ তাদের সামনে একটাই সমীকরণ ছিল—জিততেই হবে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ম্যাচের এক পর্যায়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় মার্সেলো বিয়েলসার দল। গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ফেডেরিকো ভালভের্দেকে তুলে এক ডিফেন্ডারকে নামান কোচ। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও উঠতে শুরু করে। অন্যদিকে স্পেন একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ফেরান তোরেস একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ম্যাচের শেষ দিকে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে উরুগুয়ে। কিন্তু স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টে হতাশা থেকে মেজাজ হারিয়ে শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আগস্টিন কাবানি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় উরুগুয়ের বিদায়। গ্রুপে তৃতীয় হলেও সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী আট দলের মধ্যে জায়গা পাওয়ার মতো পয়েন্ট তাদের ছিল না। ফলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের !

সৌদি আরব ০। কেপ ভার্দে ০

অন্য ম্যাচে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেও আনন্দে ভাসল কাবো ভার্দে। বিশ্বকাপে এই প্রথম অংশগ্রহণ করেই গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে নকআউটে ওঠা নিঃসন্দেহে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য। ম্যাচের আগে গোলরক্ষক ভোজিনহা বলেছিলেন, তাঁদের স্বপ্ন দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলের রক্ষাকবচ হয়ে ওঠেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত কাবো ভার্দেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেয়। স্পেনের কাছে উরুগুয়ের হারের ফলে সেই এক পয়েন্টই হয়ে ওঠে ইতিহাস গড়ার চাবিকাঠি।

মাত্র দেড় লাখের মতো জনসংখ্যার ছোট্ট দেশ কাবো ভার্দে এবার বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের সাহস, শৃঙ্খলা এবং লড়াই করার মানসিকতার পরিচয় দিল। প্রথম বিশ্বকাপেই নকআউটে ওঠার কীর্তি গড়ে তারা এখন আরও বড় পরীক্ষার সামনে। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসিদের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে স্বপ্নের ডানায় ভর করে এগিয়ে চলা এই ছোট্ট দেশ।

একটা প্রশ্ন সবার কাছে, কাবো ভার্দে দেশটির নাম কজন আপনারা আগে শুনেছেন ! আমি অন্তত শুনিনি। জনসংখ্যা দেড় লাখের মত ! অথচ, তারাও বিশ্বকাপ খেলছে ! শুধু খেলছে নয়, স্পেনের সঙ্গে ড্র ! এবার দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে ! কাবো ভার্দেকে আমাদের তরফ থেকে অভিনন্দন ! ভাবছি ভারতের কথা ! এত মাতামাতি, তারপরেও….!!

 

More from SportsMore posts in Sports »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *