#প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শুভেন্দুর#
কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ১০ আগস্ট, ২০২৬। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও গাফিলতি চান না বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন তীব্র বিতর্ক। তখন সোমবার সরাসরি মমতাকে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত শুভেন্দুর। তাঁর বার্তা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই যান না কেন, সফরের কথা সময়মতো পুলিশকে জানালে তাঁর নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা করবে রাজ্য প্রশাসন।
রবিবার হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়িতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়েও। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ক্ষমতার পালাবদল যাই থাকুক না কেন, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, সেই প্রসঙ্গই উঠে আসে এই ঘটনার পর।
সোমবার হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর বাড়ি থেকে বার হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই রবিবারের ঘটনার প্রসঙ্গ ওঠে। সেই প্রসঙ্গেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনি তো গতকাল পুলিশকে না জানিয়ে এসেছিলেন। জনরোষ তৈরি হয়েছিল। আমাদের বিধায়ক তা জানামাত্র পুলিশকে দিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমার অনুরোধ, এবার থেকে আপনি যেখানে যাবেন, সময়মতো পুলিশকে জানাবেন। আপনার যাঁকে খুশি, কলকাতার সিপি বা ডিআইজিকে জানাবেন। ডিজিকে আপনার পছন্দ না হলে অন্য কাউকে বলবেন। আমাদের পুলিশ আপনার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবে।’’
শুভেন্দুর বক্তব্যে স্পষ্ট, রবিবারের ঘটনার সময় মমতার সফর সম্পর্কে প্রশাসনকে আগে থেকে জানানো হয়নি বলেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক বিষয়টি জানালে পুলিশ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্যই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আগে থেকে পুলিশ প্রশাসনকে তাঁর সফরের কথা জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।
তাঁর কথায়, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি কিংবা অন্য কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিককে সফরের বিষয়ে জানালেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি ডিজির সঙ্গে যোগাযোগ করতে মমতার কোনও অসুবিধা বা অনীহা থাকলেও, তিনি অন্য কোনও পুলিশ কর্তাকে জানাতে পারেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্ক বহুদিন ধরেই সাপে নেউলে ! একসময় সহযোদ্ধা হলেও আজ তাঁদের রাজনৈতিক পথ আলাদা। তার মধ্যেও সোমবারের এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি প্রশাসনের দায়িত্ব অস্বীকার করা যায়না শুভেন্দুর বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে এল।
রবিবার হালিশহরের ঘটনার পর মমতার গাড়িতে হামলার বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময় তাঁর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল ? সেই বিতর্কের মধ্যেই সোমবার হালিশহরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক আশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায়।
জেড প্লাস প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার সাংবিধানিক কর্তব্য ও দায়িত্ব সরকারের। প্রাক্তনের নিরাপত্তায় তাই কোনও গাফিলতি নয়, মুখ্যমন্ত্রী তা নিশ্চিত করলেন। বর্তমানের প্রশাসনিক দায়িত্বের ছায়ায় তাই সুরক্ষিত থাকবেন প্রাক্তনও, আমাদের আশা। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও দায়িত্ব ও কর্তব্য তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে ওয়াকিবহাল রাখা। তা তাঁর অপছন্দের পুলিশ কর্তা হলেও। একই সঙ্গে, মনে হয়, মনে রাখা ভাল কে পুলিশের কর্তা হবেন তা আগে তাঁর সরকার ঠিক করত, এখন সেই দায়িত্ব কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের। তাই পছন্দের পুলিশ কর্তা নাও হতে পারেন।












Be First to Comment