Press "Enter" to skip to content

কোচিং সেন্টারেও সিসিটিভি!  এডু-মাফিয়াদের ডেরায় সুপ্রিম ধাক্কা…!

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। রাজস্থানের কোটা (Kota) থেকে শুরু করে দিল্লির ওল্ড রাজিন্দর নগর—দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট কোচিং ইনস্টিটিউটগুলোর একাধিপত্য ও কোটি কোটি টাকার ব্যাবসায় এবার যৌথভাবে হাড়হিম করা কোপ বসাল দেশের শীর্ষ আদালত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক!

লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী ও চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটানো অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর এলো এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন জয়।

 

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং আদালতের যৌথ হাই-পাওয়ার্ড কমিটির করা খসড়া মেনেই আজ দেশজুড়ে সমস্ত ছোট-বড় কোচিং সেন্টারের জন্য জারি হয়ে গেল চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক ফতোয়া।

 

প্রতি কোণায় থাকবে সচল নজরদারি !

নতুন এই অফিশিয়াল গাইডলাইনের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক টেকনিক্যাল পয়েন্ট হলো— প্রতিটি কোচিং ইনস্টিটিউটের প্রতিটা ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, করিডোর, প্রবেশদ্বার এবং কমন এরিয়াতে ২৪ ঘণ্টার সচল সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হলো।

শুধু ক্যামেরা বসালেই হবে না, সেই সিসিটিভি ফুটেজের ব্যাকআপ ন্যূনতম ৩০ দিন পর্যন্ত প্রশাসনের স্ক্রুটিনির জন্য সেভ করে রাখতে হবে।

কোনো সেন্টারে ক্যামেরা খারাপ থাকলে বা ফুটেজ গায়েব হলে, সেই সংস্থাকে আর এক মুহূর্তের জন্য ক্লাস চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

রাজিন্দর নগর’ ট্র্যাজেডি ও সুপ্রিম কোর্টের ধমক !

দিল্লির ওল্ড রাজিন্দর নগরের ‘রাও’স আইএএস স্টাডি সার্কেল’-এর বেসমেন্ট লাইব্রেরিতে জল ঢুকে যেভাবে শ্রেয়া যাদব, তানিয়া সোনি ও নেভিন ডেলভিনের মতো ৩ জন তরুণ ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক সলিলসমাধি ঘটেছিল, তা গোটা দেশের চোখ খুলে দিয়েছে।

 

এই চরম বাণিজ্যিক লোভ ও এডমিনিষ্ট্রেটিভ গাফিলতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য বিচারপতি জাস্টিস সূর্য কান্ত এবং জাস্টিস উজ্জ্বল ভুঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এবার কড়া অবস্থান নিল।

কোচিং সেন্টারগুলোকে সরাসরি “মৃত্যুপুরী” (ডেথ চেম্বার্স) দেগে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিকাঠামো ও ফায়ার সেফটি অডিট ছাড়া মাটির নিচে বেআইনিভাবে বেসমেন্টে ক্লাস বা লাইব্রেরি চালানো হলে লাইসেন্স রাতারাতি বাতিল হবে!

অডিট না মানলে ডিরেক্ট জেল হেফাজত!

বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ কড়া ফতোয়া জারি করে জানিয়েছে, প্রতিটি সেন্টারের জন্য ফায়ার সেফটি অডিট এবং আপৎকালীন নিকাশি পথ বা এমার্জেন্সি এক্সিট রাখা বাধ্যতামূলক।

পড়ুয়াদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে কোনো বহুতলের বেসমেন্টে বেআইনি ব্যাবসা চালালে এবার কোটি টাকার ফাইন থেকে শুরু করে ডিরেক্ট জেল হেফাজতের কড়া আইনি ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষা মাফিয়ারা এতদিন পকেটে টাকা গুঁজে যেভাবে নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছিল, আদালতের এই কড়া নির্দেশ তাদের সেই কোটি টাকার সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে প্রশাসনের এই মেগা অ্যাকশন এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার শীর্ষবিন্দুতে!

More from EducationMore posts in Education »
More from WorldMore posts in World »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *