চন্দন রুদ্র : কলকাতা, ২৫ জুন, ২০২৬। সেই ছবি! লডর্সের মাঠে কপিল দেবের হাতে এক দিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। পাশে জয়ের আর এক নায়ক মহিন্দর অমরনাথ। সত্যি, আজও ভাবলে অবিশ্বাস্য মনে হয়! ৪৩ বছর আগে আজকের দিনে সেই কাণ্ডটাই ঘটিয়েছিল কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট দল।
১৯৮৩ সালের ২৫ জুন লডর্সের মাঠে সেদিন দু’বারের বিশ্বজয়ী দুর্ধর্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে কপিল দেব, মহিন্দর অমরনাথ, মদনলালরা প্রমাণ করেছিলেন, ‘আমরাও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারি।’
সেইসময় স্কুলে পড়ি। সেই দিনের সন্ধ্যেটা আজও ভুলতে পারিনি। সাদা কালো টিভিতে দারুণ এক উত্তেজনা নিয়ে বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে পাড়ার নিলু কাকুদের বাড়িতে খেলা দেখতে বসেছিলাম। মিডিয়াম পেসার বলবিন্দর সিংহ সাঁধুর বলে গর্ডন গ্রীনিজের স্টাম্প ছিটকে যাওয়া দিয়ে শুরু হয়েছিল অঘটন!
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৮৩ রানে ভারতের সবাই আউট হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত ওপেনার কৃষ্ণামাচারি শ্রীকান্তই সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছিলেন। তখন কে আর ভেবেছিল ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে ডেসমন্ড হেইন্স, ভিভ রিচার্ডসরা ৬০ ওভারে ১৮৪ রান করতে নেমে মাত্র ১৪০ রানেই গুটিয়ে যাবে!
অথচ সারা ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিয়ে আমাদের সেদিন অবাক করে কপিল বাহিনী সেই বিস্ময়কর কাণ্ডই ঘটিয়েছিল। আগের দু’বারের বিশ্বজয়ী ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে তৃতীয় প্রুডেনশিয়াল কাপ জিতে লর্ডসের মাঠে নতুন ইতিহাস গড়েছিল কপিল অ্যান্ড কোম্পানি।
যে দেশটিকে ক্রিকেটের জন্মভূমি বলা হয় সেই ইংল্যান্ডের মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো কপিল বাহিনীর মুখগুলো আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মহিন্দর অমরনাথ। আপাত নিরীহ খেলোয়াড়টি এমন সাফল্য পেয়েছিলেন যেখানে সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও তাঁর হাতে উঠেছিল ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার।
আইপিএল ইত্যাদির মোড়কে আজকের ক্রিকেট রীতিমতো ব্যবসা। এখন ক্রিকেটকে ঘিরে কোটি কোটি টাকা উড়ছে। ক্রিকেট থেকে আবেগ অনেকদিন আগেই উবে গিয়েছে। এখন ক্রিকেটাররা এক একজন অর্থ উপার্জনের বড় যন্ত্র।
কিন্তু সেদিন ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার দিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দর্পচূর্ণ করে এক ধাক্কায় ভারতীয় ক্রিকেট অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছিল। আজকের ক্রিকেটে তারই ফল পাচ্ছি আমরা।
১৯৮৩ সালে সেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ে শুধু সচিন তেণ্ডুলকরের মতো উঠতি ক্রিকেটাররাই নন, ওই অবিশ্বাস্য জয়ে সেদিন অনুপ্রাণিত হয়েছিল আমার আপনার মতো কোটি কোটি ভারতবাসী। সেই সাফল্যের প্রিয় নায়কদের আজ অজস্র অভিনন্দন।











Be First to Comment