খারাপ খবর ইস্টবেঙ্গলে
কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ১২ জুলাই, ২০২৬। ইমামী-ইস্টবেঙ্গল আর বলা যাবেনা আগামী মরশুমে। ছবি অবশ্য এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে একটা বিষয় এখন নিশ্চিত,লাল-হলুদের প্রধান বিনিয়োগকারী আর থাকছে না ইমামি। গত কয়েক বছর ধরে ইমামির আর্থিক সহায়তায় দল গঠন, বিদেশি ফুটবলার আনা থেকে শুরু করে আইএসএলে প্রতিযোগিতামূলক দল তৈরির চেষ্টা করেছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এবার সেই সম্পর্কে চিড় ! তাই নতুন বিনিয়োগকারী কে হবে, তা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সমর্থকদের মধ্যে জল্পনার শেষ নেই।
শোনা যাচ্ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধজাত সংস্থা আমুলের নাম। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি বড় শিল্প বিনিয়োগের ঘোষণা তাদের। তাই অনেকের ধারণা ছিল, শিল্পের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফুটবলেও তারা পা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হলে তা দুই পক্ষের কাছেই লাভজনক। কিন্তু সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিল সাম্প্রতিক খবর। জানা গিয়েছে, আমুলের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের কোনওরকম চুক্তি হচ্ছে না। অন্তত এই মুহূর্তে লাল-হলুদের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে তাদের আসার সম্ভাবনা নেই।
আগে ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার জানিয়ে ছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমামি প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে থাকতে আগ্রহী নয়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে তাদের এই সিদ্ধান্ত। একদিকে ক্লাব পরিচালনার বিপুল আর্থিক দায়ভার, অন্যদিকে ভারতীয় ফুটবলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই দুই বিষয়ই ইমামির সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে তিনি জানান। ফলে নতুন মরশুমের আগে নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই ইস্টবেঙ্গলের সামনে।
আমুলের নাম উঠে আসার পিছনেও যথেষ্ট কারণ ছিল। দেশের অন্যতম পরিচিত এই দুগ্ধজাত সংস্থা ইতিমধ্যেই ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে নিজেদের নাম জুড়েছে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে কেরালা পর্বের টাইটেল স্পনসর তারা। তবে কোনও ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি বিনিয়োগকারী হিসেবে এখনও পর্যন্ত যুক্ত নয়। তাই আপাতত ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনাও শেষ !
তবে বিনিয়োগের সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হয়নি। ক্লাব সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইস্টবেঙ্গলের সভাপতি মুরারীলাল লোহিয়ার সংস্থা জুপিটার ওয়াগন আগামী মরশুমে ক্লাবকে বড় অঙ্কের স্পনসরশিপ দিতে চলেছে। তবে প্রধান বিনিয়োগকারীর ভূমিকা কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। ইমামি প্রধান বিনিয়োগকারীর দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চাইছে না। বরং সাধারণ স্পনসর হিসেবে ভবিষ্যতেও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ সম্পর্কের রং কিছুটা ফিকে হলেও ফ্যাটফ্যাটে সাদা হচ্ছে না।
মাঠের বাইরের এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বড় ধাক্কা মাঠেও। শুক্রবার বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই অন্য চমক, গত মরশুমে লাল-হলুদের জার্সিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করা ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে দু’বছরের চুক্তিতে দলে তুলে নিল মোহনবাগান। আইএসএলের গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল্ডেন বল জয়ী এই তারকার সবুজ-মেরুন শিবিরে যোগ দেওয়া লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে বড় ধাক্কা !
তার ঠিক একদিনের মধ্যেই খবর, আমুলও আপাতত ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে যাচ্ছে না। ফলে মরশুম শুরুর আগে ক্লাবের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রধান বিনিয়োগকারী কে ? সেই উত্তর এখনও অজানা। তবে সমর্থকদের আশা, শত জল্পনা আর অনিশ্চয়তার মাঝেও লেসলি ক্লডিয়াস সরণির শতাব্দীপ্রাচীন এই ক্লাব নতুন ভরসা খুঁজে নেবে। কারণ ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত, প্রবল ঝড়েও কাবু হয়না লাল-হলুদ ! আপনাদের কি মনে হয়, নিতু সরকার এন্ড কোম্পানি পারবে সবকিছু সামলাতে ::











Be First to Comment