নেদারল্যান্ডস ৩ (৩’ – এলিস সখিরি (তিউনিসিয়ার আত্মঘাতী গোল)
৭’ – ব্রায়ান ব্রোবি
৬২’ – ইয়ান পল ভান হেকে)
তিউনিসিয়া ১ (৫৪’ – হাজেম মাস্তুরি)
কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৬ জুন, ২০২৬। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা দাবিদার হিসেবে মাঠে নেমেছিল নেদারল্যান্ডস। এখনও পর্যন্ত পূর্ণ মর্যাদায় রোনাল্ড কোম্যানের দলের। গ্রুপ ‘এফ’-এর শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৩-১ উড়িয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে ডাচরা। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে অপরাজিত থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করল তারা। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘সি’-এর রানার্স আপ মরক্কো। ভারতীয় সময় আগামী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় মেক্সিকোর মন্তেরেইয়ে সেই ম্যাচ। অন্যদিকে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের পর্বে জাপান। চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিল সুইডেন। আর তিন ম্যাচে একটি পয়েন্টও না পেয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল তিউনিসিয়ার।
শুক্রবার ভোরে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগেই বজ্রপাত ও ঝড়ের আশঙ্কায় কিছুটা উদ্বেগ। স্টেডিয়ামে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ শুরু হয় এবং শুরু থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেদারল্যান্ডসের হাতে।
খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় ডাচরা। ডান দিক থেকে ড্যানজেল ডামফ্রিসের বিপজ্জনক ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়ার মিডফিল্ডার এলিস সখিরি। আত্মঘাতী গোলেই এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও গোল হজম আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। সপ্তম মিনিটে তিইয়ানি রেইনডার্সের ফ্রি-কিক থেকে ভার্জিল ফন ডাইকের হেড ব্রায়ান ব্রোবির সামনে ! সান্ডারল্যান্ডের এই স্ট্রাইকারের কাছ থেকে জোরালো শট, বল জালে ! ব্যবধান ২-০। চলতি বিশ্বকাপে ব্রোবির তৃতীয় গোল। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণে তিউনিসিয়ার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে নেদারল্যান্ডস। কমলা জার্সি পরা ডাচ সমর্থকরাও তখন গ্যালারিতে উৎসবে মেতে ওঠেন, মেক্সিকান ওয়েভে ভরে যায় স্টেডিয়াম। যদিও প্রথমার্ধে আর কোনও গোল হয়নি।
বিরতির পর কিছুটা বদলে যায় ম্যাচের ছবি। পিছিয়ে পড়েও লড়াই ছাড়েনি তিউনিসিয়া। ৫৪ মিনিটে হানিবাল মেজব্রির কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন হাজেম মাস্তুরি। বিশ্বকাপে চলতি আসরে এটাই ছিল তিউনিসিয়ার প্রথম গোল। ২-১ হওয়ায় কিছুটা আশা তাদের শিবিরে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ! মাত্র কয়েক মিনিট, আবার আঘাত হানে নেদারল্যান্ডসের। রেইনডার্সের নেওয়া কর্নার থেকে ইয়ান পল ভান হেকে হেড করেন। বল ডিফ্লেকশন খেয়ে জালে। ৬২ মিনিটেই ৩-১ ! শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে সহজ জয় তুলে নেয়।
গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের পারফরম্যান্স সত্যিই নজরকাড়া ! প্রথম ম্যাচে জাপানের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অপরাজিত থেকেই নকআউটে পৌঁছল ডাচরা। তিন ম্যাচে মোট ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম আক্রমণাত্মক দল হিসেবে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ! আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে দখল এবং রক্ষণে ভারসাম্য—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার, মনে হচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত শিরোপাহীন নেদারল্যান্ডস ! তবু এই বারের দলকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি।
অন্যদিকে তিউনিসিয়ার জন্য এবারের বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ হতাশার। তিনটি ম্যাচেই হার, শূন্য পয়েন্ট এবং মোট ১২টি গোল হজম করে বিদায় নিতে হল তাদের। মেক্সিকোয় সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারের পরই কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ড। কিন্তু তাঁর হাত ধরেও ভাগ্য বদলায়নি। জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হারার পর শেষ ম্যাচেও নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে একটি গোলও না খেয়ে মূলপর্বে উঠেছিল তিউনিসিয়া। অথচ মূল প্রতিযোগিতায় এসে তিন ম্যাচে ১২ গোল হজম করে হতাশাজনকভাবে বিদায় তাদের !
এবার রাউন্ড অব ৩২। মরক্কোর সামনে কঠিন পরীক্ষা। সংগঠিত ফুটবল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের জন্য মরক্কো ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু বর্তমান ফর্ম, আক্রমণভাগের ধার এবং সামগ্রিক ভারসাম্যের বিচারে নেদারল্যান্ডসই এই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।











Be First to Comment