নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ২৫ মে, ২০২৬।বখরি ঈদের প্রাক্কালে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাবে নিদান দিয়েছে মুসলমান ধর্মাচরণ এবং ঈদের ধর্মীয় রীতি নীতির সাথে গোহত্যা বা গোমাংস ভক্ষণের কোন সম্পর্ক নেই । কিন্তু গরু কেনা বেচার বিষয়ে এবং গো মাংস বিক্রির পক্ষে কথা বলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মত কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব । এরই মধ্যে গোসম্পদকে সংরক্ষণ বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তার সরকারের নেওয়া কর্মসূচিকে সার্বিক সমর্থন জানালো ভারতের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা । রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই পঁচিশ জন সদস্যের প্রতিনিধি মন্ডল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যপাল আর.এন.রবি. ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চিফ সেক্রেটারির কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন । হিন্দু মহাসভার রাজ্য কমিটির সদস্যরা নাখোদা মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা মহম্মদ সাফিক কাসমির সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন । কিন্তু এরপর আজ তারা বখরি ঈদের প্রাক্কালে ধর্মতলা চত্বরে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালেন এবং হেয়ার স্ট্রীট থানায় গিয়ে মহুয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন । হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই হিন্দু মহাসভা গোহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং গোমাতাকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণা করার জন্য আন্দোলন করে আসছে । হিন্দু মহাসভার সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলেই ১৯৫০ সালে গোসংরক্ষণ বিষয়ে সরকারি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সনাতনী জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যতগুলো সরকার এসেছে তারা প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মুসলিম মৌলবাদকে তোষণ করেছে এবং হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করেছে । কিন্তু আজ ভারতের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বাংলার জনগণের কর্মনিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় যেভাবে গোমাতাকে সংরক্ষণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছেন তাকে আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করছি এবং বুকের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । কিন্তু আমরা বিস্মিত তৃণমূলের মত একটি জিহাদী ও মুসলমান মৌলবাদকে তোষণকারী দলের বিতর্কিত সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও মৌলবাদী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলছে গরু কুরবানি করতে দিতেই হবে কারণ এটা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার । কিন্তু আসলে কোরআন বা হাদিসে কথাও গোহত্যার কথা বলা নেই । হিন্দুদের দেবাদিদেব মহাদেব বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে গোমাতা পূজিত হন বলেই একটি অংশের মৌলবাদী মুসলমানরা হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার উদ্যেশ্যে গোহত্যা করে । গোমাংস খাওয়ার সাথে শুয়োরের মাংসের তুলনা কখনোই করা যায়না কারণ হিন্দুরা গোমাংস খায়না গরুকে মায়ের মত শ্রদ্ধা করে বলে । কিন্তু শুয়োরকে মুসলমানরা ঘৃণা করে বলে খায়না । ভারতে গোহত্যা করা বা গোমাংস খাওয়া মানে সরাসরি আমাদের সনাতনীদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে চ্যালেঞ্জ করা । মহুয়া মৈত্র ও হুমায়ুন কবীরদের মত গদ্দারদের জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় । আমরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে আবেদন করছি গোহত্যা করা থেকে এবং গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে । এতেই সবার মঙ্গল হবে এবং দেশে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চিরস্থায়ী ভাবে বজায় থাকবে । কিন্তু মহুয়া মৈত্র নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং আমাদের হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধিতা করছে আসলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজ্যে দাঙ্গা লাগানোর উদ্যেশ্যে । আজ থানায় অভিযোগ দায়ের করলাম, এরপর মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আগামী দিনে আমরা আইনি পদক্ষেপের পথে এগোতে বাধ্য হবো । আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি ও থানায় অভিযোগ করার সময় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও প্রীতম বালা, অন্তরা মিত্র, অভিষেক বোস, প্রিয়ব্রত ভট্টাচার্য্য, রিষা বসাক, মিন্টু ঘোষ সহ একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন ।

গো সংরক্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ হিন্দু মহাসভার, ক্ষমা না চাইলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি….।
More from GeneralMore posts in General »





Be First to Comment