Press "Enter" to skip to content

রহস্যময় পুরীর জগন্নাথ মন্দির…।

ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতা।

নীল সাগরের বুকে দাঁড়িয়ে, নীলাচল ডাকে অনন্ত সুরে, যেখানে সময় নতজানু হয়, জগন্নাথ থাকেন বিশ্বপুরে।

পাথরের নয়, প্রাণের মন্দির, অদৃশ্য লীলার অপার দেশ, প্রতি ইটেতে যুগের ধ্বনি, প্রতি শঙ্খে অনাদি রেশ।

পতাকা ওড়ে বাতাসের বিপরীতে, কোন অজানা শক্তির টানে! মানুষ বলে— অলৌকিক রহস্য, ভক্ত বলে— প্রভুরই বিধানে।

সুদর্শন চক্র শিখরে বসে, যেদিকে চাও সেদিকেই চায়, কোটি চোখের অন্তর্যামী, এক দৃষ্টিতে বিশ্ব গায়।

সিংহদ্বারে ঢেউয়ের গর্জন, ভিতরে এলেই নীরবতা— বাইরের শব্দ হারিয়ে ফেলে, জেগে ওঠে অন্তরের কথা।

রান্নাঘরের অগ্নিশিখায়, শত শত হাঁড়ি একের পর এক, উপরের হাঁড়ি আগে সিদ্ধ হয়— বিজ্ঞানও থেমে যায়।

মহাপ্রসাদের অমৃত গন্ধে, জাতিভেদ সব মুছে যায়, একই অন্নে একাকার হয়, মানবধর্মের মহিমা গায়।

নবকলেবরের গোপন রাতে, ব্রহ্মপদার্থের রহস্যঘেরা, চোখ বাঁধা সেবক কাঁপা হাতে স্পর্শ করে চিরন্তন ধরা।

কী সেই ব্রহ্ম? জানে না কেউ, জানে কেবল জগন্নাথ; যেখানে ভাষা থেমে যায়, সেখানেই শুরু পরমপথ।

অসম্পূর্ণ দুটি বাহু যেন সম্পূর্ণ প্রেমের আহ্বান, “এসো সবাই”— ডাকে অবিরাম, নেই কোনো ভেদ,নেইঅপমান।

বলরাম শক্তি, সুভদ্রা করুণা, জগন্নাথ প্রেমের সাগর, তিন মূর্তিতে ত্রিলোক মিশে জাগে সনাতন ঈশ্বর।

রথের চাকা ঘুরে চলে, জন্ম-মৃত্যুর আবর্তন, প্রভুর রথে যে বাঁধে প্রাণ, সেই পায় মুক্তির স্পন্দন।

রহস্য খুঁজে কী হবে তবে? রহস্য তো হৃদয়ের দ্বার, যেখানে অহং ভস্ম হয়ে যায়, সেখানেজাগেনারায়ণ-সার।

জগন্নাথ কোনো কাঠের মূর্তি নন, তিনি চেতনার মহাসাগর, যতই তাঁকে জানতে চাও, ততই তিনি হন অন্তরাত্মার।

হে নীলমাধব! তোমার রহস্য যেন জ্ঞান নয়, হয় ভক্তির আলো; আমার অন্তর-রথে এসো, অহংকার করো কালো।

যেদিন মন হবে নীলাচল, প্রেম হবে মহাপ্রসাদ, সেদিন বুঝি জগন্নাথই সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নাথ।

 

 

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *