মহম্মদ নঈম, হাওড়া, ১০ জুন, ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গ মোমিন আনসার সভার উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জানাতে হাওড়ার রেবেকা ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী দানিশ আজাদ আনসারি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতী পড়ুয়াদের হাতে পদক, শংসাপত্র ও স্মারক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পশ্চিমবঙ্গ মোমিন আনসার সভার কার্যকরী সভাপতি মহম্মদ নঈম আনসারি তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান। এছাড়াও বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চা, বিহারের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আনসারি, ন্যাশনাল হোটেলের কর্ণধার আলিমউদ্দিন শাহ, সংকল্প টুডের প্রতিষ্ঠাতা ইমতিয়াজ ভারতী এবং অমরজিৎ সিং তাঁকে ফুলের তোড়া ও উত্তরীয় প্রদান করেন। এদিন পশ্চিমবঙ্গ মোমিন আনসার সভার পক্ষ থেকে দানিশ আজাদ আনসারিকে ‘পিছিয়ে পড়া সমাজ সম্মান ২০২৬’ প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দানিশ আজাদ আনসারি বলেন, “শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। আজ যেসব ছাত্রছাত্রী কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছে, তারা শুধু তাদের পরিবার নয়, সমগ্র সমাজের গর্ব।” তিনি পড়ুয়াদের ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
রেবেকা বিলিলিয়াস ইনস্টিটিউশনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মামুন আখতার বলেন, “এই মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাই আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎ। তাদের সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।” তিনি শিক্ষার প্রসারে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
পশ্চিমবঙ্গ মোমিন আনসার সভার সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম আনসারি বলেন, “একটি জাতির উন্নয়ন শিক্ষিত যুবসমাজের হাত ধরেই সম্ভব। তাই ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তারা বলেন, মেধার স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং আরও ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহ জোগায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ, হায়দার আলি, নূরুল হক, হাজি সালাউদ্দিন, শাহিদ আখতার, আওয়েস রেজা আনসারি, উবায়েদ রেজা আনসারি, রাগিব নওয়াজ, জিতু, লাড্ডান, শামীম খানসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শেষে সফল ছাত্রছাত্রীদের হাতে পদক, শংসাপত্র ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সকলেই তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, উচ্চশিক্ষা এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান। শিক্ষার প্রসার এবং ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন উপস্থিতরা।














Be First to Comment