ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কলকাতা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬। মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, কর্মজীবন, সামাজিক যোগাযোগ এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। আমরা পৃথিবীর রং দেখি, প্রিয়জনের মুখ চিনতে পারি, বই পড়ি, রাস্তা পার হই, কাজ করি, প্রযুক্তি ব্যবহার করি—এসবের পেছনে কাজ করে চোখ ও দৃষ্টিশক্তির অত্যন্ত জটিল ব্যবস্থা।
কিন্তু দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব আমরা অনেক সময় উপলব্ধি করি তখনই, যখন চোখে কোনো সমস্যা দেখা দেয়। অথচ চোখের বহু রোগ ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সময়মতো শনাক্ত করা গেলে প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ অথবা চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালিত হয় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস (World Sight Day)। আমাদের মত চিকিৎসক ও অপট্রোমেট্রিস্টদের কাছে তাই এই দিনটি তাই নানা প্রচার প্রচারণায় কাটে ৷ এবারে ২০২৬ সালে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হচ্ছে ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। দিবসটির আন্তর্জাতিক আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে LoveYourEyes—অর্থাৎ নিজের চোখের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত দৃষ্টি পরীক্ষা করা এবং সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চক্ষুসেবা নিশ্চিত করার দাবি।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস তাই কেবল একটি সচেতনতামূলক দিবস নয়; এটি দৃষ্টিশক্তিকে একটি মৌলিক স্বাস্থ্যসম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে সামাজিক ও বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস কী?
আগেই লিখেছি বিশ্ব দৃষ্টি দিবস হলো চোখের স্বাস্থ্য, দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা ও অন্ধত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির একটি আন্তর্জাতিক দিবস। যা প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালিত হয়।
এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো—
চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা;
দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা ও অন্ধত্বের কারণ সম্পর্কে মানুষকে জানানো;
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা;
প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমানো;
শিশুদের চোখের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া;
চক্ষুসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করা;
দরিদ্র, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য চক্ষুসেবা সহজলভ্য করা;
সরকার, চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিদ্যালয়, পরিবার এবং সামাজিক সংগঠনকে চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সম্পৃক্ত করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অন্তত ২.২ বিলিয়ন মানুষ কোনো না কোনোভাবে নিকট বা দূরের দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত। এর মধ্যে অন্তত ১ বিলিয়ন মানুষের দৃষ্টি সমস্যা প্রতিরোধ করা যেত অথচ এখনো যথাযথভাবে চিকিৎসা/সেবা দেওয়া হয়নি।
অর্থাৎ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়—এটি একটি বড় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের ইতিহাস
বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের ইতিহাস আন্তর্জাতিক অন্ধত্ব প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে অন্ধত্ব প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। তাদের SightFirst কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী চোখের চিকিৎসা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে International Agency for the Prevention of Blindness (IAPB) এবং World Health Organization (WHO)-এর নেতৃত্বে VISION 2020: The Right to Sight উদ্যোগ বৈশ্বিক পর্যায়ে এ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে। IAPB-এর ইতিহাস অনুযায়ী, ২০০০ সালে VISION 2020-এর অধীনে World Sight Day-এর আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক প্রচার শুরু হয় এবং Lions Clubs International Foundation গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠে।
VISION 2020-এর মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া।
পরবর্তীকালে World Sight Day বিশ্বব্যাপী চোখের স্বাস্থ্য আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
২০২৬ সালের বিশ্ব দৃষ্টি দিবস
২০২৬ সালের বিশ্ব দৃষ্টি দিবস অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৮ অক্টোবর।
IAPB-এর ২০২৬ সালের প্রচারে LoveYourEyes আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বছরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—শুধু চোখের যত্নের সাধারণ বার্তা নয়, মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, গল্প, সামাজিক উদ্যোগ এবং community action-কে সামনে আনা।
অর্থাৎ ২০২৬ সালের বার্তাটি অনেকটা এমন—
নিজের চোখকে ভালোবাসুন, নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলুন, অন্যকে সচেতন করুন এবং সবার জন্য চোখের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে অংশ নিন।
IAPB ২০২৬ সালের প্রচারে “Every Story Counts” ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক চোখের স্বাস্থ্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করছে।
এ বছর বিশ্বব্যাপী চক্ষুসেবাকে আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন চোখ এত গুরুত্বপূর্ণ?
চোখ শুধু দেখার অঙ্গ নয়। চোখের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য গ্রহণ করি।
চোখের মাধ্যমে আমরা—
মানুষের মুখ চিনতে পারি;
লেখা পড়তে পারি;
দূরত্ব ও গতি বুঝতে পারি;
রং ও আকৃতি শনাক্ত করতে পারি;
রাস্তা ও যানবাহন দেখতে পারি;
কাজের পরিবেশ বুঝতে পারি;
খেলাধুলা করতে পারি;
শিল্প, প্রকৃতি ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারি;
শিশুদের ক্ষেত্রে শেখা ও সামাজিক বিকাশে অংশ নিতে পারি।
দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে শুধু দেখার ক্ষমতাই কমে না; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাফেরা, আত্মনির্ভরতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং মানসিক সুস্থতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
শিশুর ক্ষেত্রে অচিকিৎসিত দৃষ্টি সমস্যা পড়াশোনা ও শিক্ষাগত সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দৃষ্টি সমস্যা কর্মক্ষমতা ও দৈনন্দিন জীবনের স্বাধীনতা কমিয়ে দিতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা পড়ে যাওয়া, দুর্ঘটনা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং নির্ভরশীলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই চোখের স্বাস্থ্য মূলত জীবনের মানের বিষয় ।
বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার চিত্র
WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে অন্তত ২.২ বিলিয়ন মানুষ নিকট বা দূরের দৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্ত।
এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে সমস্যা প্রতিরোধযোগ্য বা এখনো যথাযথভাবে সমাধান করা সম্ভব।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
অনসংশোধিত refractive error বা চশমার প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়া;
ছানি;
গ্লুকোমা;
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি;
বয়সজনিত macular degeneration;
কর্নিয়ার রোগ;
চোখের সংক্রমণ;
চোখের আঘাত;
শিশুদের বিভিন্ন জন্মগত বা বিকাশজনিত চোখের সমস্যা।
WHO বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে cataract এবং uncorrected refractive error বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—সব দৃষ্টি সমস্যা জটিল বা দুরারোগ্য নয়। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে সঠিক পাওয়ারের চশমা, ছানি অপারেশন বা সময়মতো চিকিৎসাই দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।
চোখের সাধারণ সমস্যা
১. মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি
মায়োপিয়ায় কাছের জিনিস তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার দেখা গেলেও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা যায়।
শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মায়োপিয়ার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। এর পেছনে বংশগত কারণের পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের near work, পর্যাপ্ত outdoor activity-এর অভাব এবং জীবনযাপনের পরিবর্তন ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশু দূরের লেখা দেখতে না পারা, টেলিভিশনের কাছে বসা, বই খুব কাছে এনে পড়া, চোখ কুঁচকে দেখা বা স্কুলে বোর্ড দেখতে না পারার অভিযোগ করলে চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
২. হাইপারোপিয়া
Hyperopia বা farsightedness-এ বিশেষ করে কাছের কাজ করতে সমস্যা হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সবসময় সহজে বোঝা যায় না।
চোখের স্বাভাবিক বিকাশ ও দৃষ্টিশক্তির ওপর এর প্রভাব থাকতে পারে। তাই শিশুদের নিয়মিত vision screening গুরুত্বপূর্ণ।
৩. অ্যাস্টিগমাটিজম
Cornea বা lens-এর আকৃতিতে অনিয়ম থাকলে astigmatism বিষম দৃষ্টি হতে পারে। এতে দূর ও কাছে উভয় ক্ষেত্রেই দৃষ্টি ঝাপসা বা বিকৃত হতে পারে।
চশমার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এটি সংশোধন করা সম্ভব।
৪. Presbyopia
বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের কাছের জিনিসে focus করার ক্ষমতা কমে যায়। সাধারণত ৪০ বছরের পর এটি স্পষ্ট হতে শুরু করে।
বই পড়তে দূরে ধরে পড়া, ছোট লেখা দেখতে সমস্যা বা পড়ার সময় চোখে চাপ অনুভব করা এর সাধারণ লক্ষণ।
সঠিক reading correction ব্যবহার করলে সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।
ছানি: অন্ধত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য কারণ
ছানি বা cataract হলো চোখের lens ঘোলাটে হয়ে যাওয়া।
সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়ে। তবে ডায়াবেটিস, চোখের আঘাত, কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য কারণেও ছানি অপেক্ষাকৃত কম বয়সে হতে পারে।
লক্ষণ হতে পারে—
ধীরে ধীরে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া;
আলোতে glare;
রাতে দেখতে সমস্যা;
রঙ ফ্যাকাশে মনে হওয়া;
বারবার চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়া।
ছানির ক্ষেত্রে যখন দৃষ্টি দৈনন্দিন জীবনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে, তখন ophthalmologist-এর পরামর্শে অস্ত্রোপচার কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে।
গ্লুকোমা: নীরব দৃষ্টিঘাতক
গ্লুকোমা হলো এমন একদল রোগ, যাতে optic nerve ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং স্থায়ী দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে।
বিশেষ বিপদ হলো—অনেক ধরনের glaucoma-এর প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সুস্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
তাই শুধু “আমি ভালোই দেখতে পাচ্ছি” বলে চোখ সম্পূর্ণ সুস্থ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ঝুঁকি অনুযায়ী ophthalmic examination, intraocular pressure measurement, optic nerve evaluation এবং প্রয়োজনে visual field ও অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।
ডায়াবেটিস ও চোখ
ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার রোগ নয়; দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত diabetes চোখের retina-এর সূক্ষ্ম রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর ফলে diabetic retinopathy হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে diabetic retinopathy অনেক সময় কোনো ব্যথা বা স্পষ্ট দৃষ্টি সমস্যা সৃষ্টি করে না।
তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত retinal examination অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে glucose নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে lipid management—সবই চোখের পাশাপাশি সামগ্রিক vascular health-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চোখ ও উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপও চোখের রক্তনালি ও retina-কে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য শুধু চোখের চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়। বরং—
রক্তচাপ + রক্তে শর্করা + রক্তের চর্বি + ওজন + খাদ্যাভ্যাস + শারীরিক সক্রিয়তা
—এসবের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য কেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?
শিশুদের দৃষ্টি বিকাশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শিশু যদি স্পষ্টভাবে দেখতে না পারে, তাহলে সে বোর্ড দেখতে, বই পড়তে, খেলাধুলায় অংশ নিতে অথবা শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিতে সমস্যায় পড়তে পারে।
বিশেষ করে uncorrected refractive error শিশুর শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই—
শিশুকে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো;
স্কুলে vision screening;
শিশুর চোখ কুঁচকে দেখা;
বই খুব কাছে এনে পড়া;
টিভি বা মোবাইল খুব কাছে নিয়ে যাওয়া;
মাথাব্যথা;
পড়াশোনায় হঠাৎ অনীহা;
একটি চোখ বন্ধ করে দেখা;
এসব লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।
স্ক্রিন-টাইম: আধুনিক জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জ
স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার, অনলাইন শিক্ষা, ভিডিও গেম এবং ডিজিটাল বিনোদন আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তাই “স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ” করা বাস্তবসম্মত নয়।
বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত—
সুষম ও স্বাস্থ্যকর screen use।
দীর্ঘক্ষণ একটানা স্ক্রিন দেখলে digital eye strain বা computer vision syndrome-এর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে—
চোখ শুষ্ক লাগা;
চোখে জ্বালা;
চোখ ভারী লাগা;
ঝাপসা দেখা;
মাথাব্যথা;
চোখ দিয়ে পানি পড়া;
focus পরিবর্তনে অস্বস্তি;
ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা।
স্ক্রিন ব্যবহারের সময় মানুষ সাধারণত কম blink করে। ফলে tear film দ্রুত ভেঙে গিয়ে চোখের শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
স্ক্রিন-টাইম এবং মায়োপিয়া: বিজ্ঞান কী বলছে?
এখানে বৈজ্ঞানিক তথ্যকে অতিরঞ্জিত না করাও জরুরি।
“মোবাইল দেখলেই চোখ নষ্ট হয়ে যায়”—এমন সরল বক্তব্য বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
তবে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বেশি screen exposure, দীর্ঘ near work এবং কম outdoor time-এর সঙ্গে myopia-এর সম্পর্ক নিয়ে ক্রমবর্ধমান গবেষণা রয়েছে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি বড় systematic review ও dose-response meta-analysis-এ ৪৫টি গবেষণায় ৩৩৫,৫২৪ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দৈনিক digital screen time বৃদ্ধির সঙ্গে myopia-এর odds বৃদ্ধির সম্পর্ক ছিল। গবেষণায় প্রতি অতিরিক্ত এক ঘণ্টা screen exposure-এর সঙ্গে myopia-এর odds প্রায় ২১% বেশি ছিল।
তবে এটি মূলত observational evidence-এর সমন্বয়; তাই এটিকে সরাসরি “প্রতি ঘণ্টা স্ক্রিন দেখলে ২১% নিশ্চিতভাবে মায়োপিয়া হবে”—এভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
মায়োপিয়া একটি multifactorial condition। বংশগত প্রবণতা, শিক্ষাজীবনের near work, outdoor exposure এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণ একসঙ্গে কাজ করে।
শিশুদের জন্য outdoor activity-এর গুরুত্ব
মায়োপিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো outdoor activity।
WHO-ও শিশুদের ক্ষেত্রে near-work-এর ভারসাম্য এবং বাইরে সময় কাটানোর গুরুত্ব উল্লেখ করেছে।
বিভিন্ন systematic review ও meta-analysis-এ শিশুদের বেশি outdoor time-এর সঙ্গে myopia onset-এর ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
অতএব শিশুর স্বাস্থ্যকর routine হতে পারে—
পড়াশোনা + সীমিত ও উদ্দেশ্যপূর্ণ screen use + পর্যাপ্ত ঘুম + নিয়মিত outdoor activity।
স্ক্রিন কমানোর অর্থ শিশুকে সারাদিন ঘরে বসিয়ে রাখা নয়; বরং স্ক্রিনের পরিবর্তে খেলাধুলা, হাঁটা, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো এবং সামাজিক কার্যক্রম বাড়ানো।
২০-২০-২০ নিয়ম
স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত একটি ব্যবহারিক কৌশল হলো 20-20-20 rule।
অর্থাৎ—
প্রতি ২০ মিনিট পর প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকানো।
এর উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘক্ষণ একই near-focus অবস্থায় থাকার বিরতি দেওয়া।
এটি চোখের সব রোগ প্রতিরোধ করে—এমন দাবি করা ঠিক নয়; তবে দীর্ঘক্ষণ screen/near work-এর সময় বিরতি নেওয়া চোখের strain কমাতে সহায়ক হতে পারে।
স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কীভাবে চোখকে আরাম দেব?
১. একটানা স্ক্রিন দেখবেন না
দীর্ঘ সময় কাজ করতে হলে মাঝেমধ্যে চোখকে দূরের দিকে তাকানোর সুযোগ দিন।
২. বেশি blink করুন
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে blink rate কমে যায়। সচেতনভাবে কয়েকবার পূর্ণ blink করা চোখের tear film বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
৩. স্ক্রিন খুব কাছে রাখবেন না
কম্পিউটার মনিটর সাধারণত প্রায় এক হাত দূরে বা আরামদায়ক viewing distance-এ রাখা ভালো।
মোবাইল ফোন মুখের একেবারে কাছে এনে দীর্ঘক্ষণ পড়া উচিত নয়।
৪. স্ক্রিনের আলো পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন
অন্ধকার ঘরে অত্যন্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন বা খুব উজ্জ্বল পরিবেশে অত্যন্ত কম brightness—দুই অবস্থাই অস্বস্তিকর হতে পারে।
৫. glare কমান
জানালা বা আলো যেন সরাসরি স্ক্রিনে প্রতিফলিত না হয়।
৬. স্ক্রিনের অবস্থান ঠিক করুন
কম্পিউটার স্ক্রিন চোখের সামান্য নিচে এবং উপযুক্ত দূরত্বে রাখলে ঘাড় ও চোখের ওপর চাপ কমতে পারে।
Blue light সম্পর্কে বাস্তব বৈজ্ঞানিক অবস্থান
Blue-light blocking glasses নিয়ে প্রচুর প্রচার রয়েছে।
কিন্তু “blue-light glasses চোখের ক্ষতি থেকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করে”—এমন শক্তিশালী প্রমাণ নেই।
Digital eye strain-এর ক্ষেত্রে screen-এর ergonomic arrangement, বিরতি, blink এবং viewing distance অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বিষয়।
তাই শুধু বিশেষ blue-light blocking চশমা কিনলেই চোখের স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়—এমন ধারণা থেকে দূরে থাকা উচিত।
চোখ ভালো রাখার জন্য খাদ্যাভ্যাস
চোখের জন্য কোনো একটি “জাদুকরী খাবার” নেই।
তবে সুষম খাদ্য চোখের পাশাপাশি সমগ্র শরীরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে—
সবুজ শাকসবজি;
গাজর ও অন্যান্য রঙিন সবজি;
বিভিন্ন ফল;
ডাল;
বাদাম ও বীজ;
মাছ;
ডিম;
পর্যাপ্ত protein;
সম্পূর্ণ শস্য।
Vitamin A চোখের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। Vitamin C, Vitamin E, zinc এবং কিছু carotenoid চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার vitamin বা supplement খাওয়া উচিত নয়।
ধূমপান ও চোখ
ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না; এটি চোখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত।
তাই চোখ ভালো রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো—
ধূমপান না করা এবং ধূমপান ত্যাগ করা।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখের সুরক্ষা
অতিরিক্ত ultraviolet exposure চোখের বিভিন্ন কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রবল রোদে বাইরে থাকার সময় যথাযথ UV protection-যুক্ত sunglasses এবং প্রয়োজনে hat ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে sunglasses-এর ক্ষেত্রে শুধু গাঢ় রং নয়—বিশ্বস্ত UV protection থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
চোখ ঘষার অভ্যাস কেন কমানো উচিত?
চোখ চুলকালে বারবার জোরে চোখ ঘষা উচিত নয়।
বিশেষ করে শিশু ও যাদের allergy আছে তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের vigorous eye rubbing ক্ষতিকর হতে পারে।
চোখ চুলকানো, লাল হওয়া বা অস্বস্তির কারণ খুঁজে বের করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Contact lens ব্যবহারকারীদের বিশেষ সতর্কতা
Contact lens সুবিধাজনক হলেও এটি সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে চোখে infection-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই—
পরিষ্কার হাতে lens ধরতে হবে;
নির্ধারিত সময়ের বেশি lens ব্যবহার করা উচিত নয়;
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া lens solution পরিবর্তন করা উচিত নয়;
lens পরে ঘুমানো এড়ানো উচিত, যদি না নির্দিষ্ট lens ও চিকিৎসকের নির্দেশে তা অনুমোদিত হয়;
চোখ লাল, ব্যথাযুক্ত বা আলো সহ্য না হলে lens খুলে দ্রুত eye-care professional-এর পরামর্শ নিতে হবে।
কখন দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে?
নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়—
হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া;
চোখের সামনে হঠাৎ অসংখ্য কালো দাগ/floaters দেখা;
flashes of light দেখা;
চোখের সামনে পর্দা নামার মতো অনুভূতি;
তীব্র চোখের ব্যথা;
চোখ লাল হওয়ার সঙ্গে দৃষ্টি কমে যাওয়া;
আঘাতের পর দৃষ্টি সমস্যা;
রাসায়নিক পদার্থ চোখে পড়া;
এক চোখে হঠাৎ দৃষ্টি পরিবর্তন;
তীব্র headache-এর সঙ্গে চোখের সমস্যা।
বিশেষ করে হঠাৎ দৃষ্টি হারানো বা পর্দার মতো shadow দেখা জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা কেন জরুরি?
চোখের অনেক রোগ প্রাথমিক অবস্থায় উপসর্গহীন থাকতে পারে।
তাই শুধুমাত্র “চোখে সমস্যা হলে ডাক্তার দেখাব”—এই পদ্ধতি সবসময় যথেষ্ট নয়।
কারও চোখ পরীক্ষার সময় ও frequency নির্ভর করে
রোগীর বয়স; পূর্বের চোখের রোগ;
diabetes; hypertension;
glaucoma-এর পারিবারিক ইতিহাস;
পূর্ববর্তী eye surgery;
contact lens ব্যবহার;
শিশুর refractive error;
অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি;
ইত্যাদির ওপর।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন অনুযায়ী visual acuity, refraction, intraocular pressure, slit-lamp examination, retina examination এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
WHOeyes: প্রযুক্তির মাধ্যমে দৃষ্টি সচেতনতা
WHO ২০২৩ সালে WHOeyes নামে একটি বিনামূল্যের অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে মানুষ কাছের ও দূরের visual acuity সম্পর্কে একটি প্রাথমিক self-assessment করতে পারে এবং চোখের যত্ন সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে।
তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
WHOeyes বা কোনো ঘরোয়া vision test পূর্ণাঙ্গ চক্ষু পরীক্ষা নয়।
স্বাভাবিক ফল পাওয়া গেলেও glaucoma, retinal disease, diabetic retinopathy বা অন্যান্য চোখের রোগ সম্পূর্ণ বাদ যায় না।
অতএব self-screening হলো সচেতনতার একটি মাধ্যম; ophthalmologist-এর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা তার বিকল্প নয়।
ভারত ও চোখের স্বাস্থ্য
ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে চোখের স্বাস্থ্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয়।
ভারত সরকার ১৯৭৬ সালে National Programme for Control of Blindness (NPCB) চালু করে। পরবর্তীতে এটি National Programme for Control of Blindness and Visual Impairment (NPCBVI) হিসেবে বিস্তৃত হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় cataract, refractive errors, glaucoma, diabetic retinopathy, childhood blindness এবং corneal blindness-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভারতের মতো দেশে চক্ষুসেবার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—
বিপুল জনসংখ্যার জন্য সেবা সম্প্রসারণ;
গ্রামীণ অঞ্চলে eye-care access;
সাশ্রয়ী চশমা;
cataract surgery;
শিশুদের vision screening;
diabetes-related eye disease শনাক্তকরণ;
glaucoma-এর early detection;
trained ophthalmologists, optometrists ও অন্যান্য eye-care personnel;
telemedicine ও technology-enabled screening;
জনসচেতনতা।
ভারতে ২০২৬ সালের বিশ্ব দৃষ্টি দিবস
২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর ভারতেও বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হচ্ছে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে।
চোখের হাসপাতাল, optometry প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংগঠন সাধারণত এই উপলক্ষে—
vision screening;
eye-health awareness programme;
public lectures;
school awareness;
eye camps;
cataract ও refractive error সম্পর্কে সচেতনতা;
diabetes-related eye disease সম্পর্কে প্রচার;
কর্মক্ষেত্রে eye safety; শিশুদের eye health;
social-media awareness campaign
ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
২০২৬ সালের একটি উল্লেখযোগ্য ভারতীয় উদাহরণ হলো Dr Agarwal’s Eye Hospital ও Dr Agarwal’s Institute of Optometry-এর “See What They See” সচেতনতামূলক উদ্যোগ, যেখানে cataract, glaucoma, age-related macular degeneration, diabetic retinopathy এবং refractive error-এর মতো রোগে মানুষের দৃষ্টির অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে তা simulation glasses-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে।
এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব হলো—চোখের রোগকে শুধু পরিসংখ্যান হিসেবে নয়, একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে বোঝানো।
ভারতীয় শিশুদের জন্য বিশেষ বার্তা
ভারতে দ্রুত পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থা, smartphone, tablet, online education এবং urban lifestyle শিশুদের দৈনন্দিন near-work-এর পরিমাণ বাড়িয়েছে।
এখানে লক্ষ্য হওয়া উচিত না—
“শিশুকে মোবাইল একেবারেই দেওয়া যাবে না।”
বরং—
“প্রয়োজনীয় screen use-এর সঙ্গে পর্যাপ্ত outdoor activity, ঘুম, physical activity এবং নিয়মিত eye check-up-এর ভারসাম্য তৈরি করা।”
শিশুদের ক্ষেত্রে screen-এর পাশাপাশি বই পড়া, লেখা, drawing, homework—সব ধরনের near work-এর সঙ্গে outdoor time-এর ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মক্ষেত্রে চোখের যত্ন
কম্পিউটার-নির্ভর কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ screen exposure সাধারণ ব্যাপার।
কর্মক্ষেত্রে—পর্যাপ্ত আলো; glare কমানো;
monitor-এর সঠিক দূরত্ব;
ergonomic seating; নিয়মিত বিরতি; blink;
প্রয়োজন অনুযায়ী corrective glasses;
এসবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
কাজের জায়গায় chemical, dust, metal particles বা অন্যান্য eye hazard থাকলে appropriate protective eyewear ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
“চোখ ভালো রাখার ১৫টি বৈজ্ঞানিক অভ্যাস”
১. নিয়মিত দৃষ্টি পরীক্ষা করুন।
২. diabetes ও hypertension থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখ পরীক্ষা করুন।
৩. স্ক্রিনে একটানা তাকিয়ে থাকবেন না।
৪. 20-20-20 ধরনের নিয়মিত visual break নিন।
৫. সচেতনভাবে blink করুন।
৬. স্ক্রিনের দূরত্ব ও অবস্থান ঠিক রাখুন।
৭. শিশুদের পর্যাপ্ত outdoor activity-এর সুযোগ দিন।
৮. শিশুর চোখ কুঁচকে দেখা বা দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হলে দ্রুত পরীক্ষা করান











Be First to Comment