Press "Enter" to skip to content

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বেলেঘাটা শাখা পেনশনার মিট ও স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া পেনশনার অ্যাসোসিয়েশন, বেলেঘাটা কম্পোজিট ইউনিট এর সাধারণ সভা ২০২৬…।

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ২৩ আগষ্ট ২০২৬। গত ২০ আগস্ট বৃহষ্পতিবার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বেলেঘাটা শাখার পেনশনার মিট এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া পেনশনার অ্যাসোসিয়েশন এবং বেলেঘাটা কম্পোজিট ইউনিট এর সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হলো স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বেলেঘাটা শাখায়।

ব্যাংক এর পক্ষ থেকে পেনশনার মিট নির্ধারিত ছিল প্রথম পর্বে। দ্বিতীয় পর্বটি ছিল স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া পেনশনারস অ্যাসোসিয়েশন এর বেলেঘাটা কম্পোজিট ইউনিটের সাধারণ সভা। এর মধ্যে যে শাখা গুলি অন্তর্ভুক্ত আছে সেগুলি হলো ১) বেলেঘাটা ২) সি আই টি রোড, ৩) ইন্টালি, ৪) তালতলা, ৫) সেলস ট্যাক্স বিল্ডিং, ৬) পটারি রোড, ৭) ট্যাংরা, ৮) ক্যানাল দক্ষিণ পূর্ব, ৯) ট্যাংরা পঞ্চানন তলা।

মিটিং এর সঞ্চালক কমরেড সলিল সরকার সভার শুরুতে এডহক (adhoc) কম্পোজিট কমিটির সভাপতি কমরেড দীপক হোর ও সম্পাদক কমরেড প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য কে মঞ্চে ডেকে নেন। এরপর সম্মানীয় অতিথি বৃন্দদের প্রিয় সংগঠনের নেতৃত্বদের মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় যাদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমরেড দীপক বাসু, সভাপতি কমরেড অশোক দত্ত, সহ সাধারণ সম্পাদক কমরেড অঞ্জন চক্রবর্তী,জোনাল প্রেসিডেন্ট কমরেড কল্যাণ কৃষ্ণ দেব এবং জোনাল সম্পাদক কমরেড অমিত দে সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রথম পর্ব ব্যাংকের তরফ থেকে যে পেনশনার মিট নির্ধারিত ছিল, সেটা কেন হলো না , ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এবং অবহেলার কথা উল্লেখ করেন। এই ধরনের অসহযোগিতা কখনও কোন দিন দেখা যায় নি সেই বিষয়টি জানান। কর্তৃপক্ষের এই আচরণ সম্পুর্ন অনভিপ্রেত বলেই উল্লেখ করা হয়।

সাধারণ সভা পর্ব

————————

এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চে স্বাগত ভাষণ দেন কমরেড দীপক হোর। তিনি উপস্থিত সকলকে সাদর অভ্যর্থনা জানান।

এর পরে সম্পাদক কমরেড প্রদীপ ভট্টাচার্য তার সম্পাদকীয় বক্তব্য পেশ করেন। যে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আমাদের এই কম্পোজিট ইউনিট কাজ শুরু করেছে, তার জন্য তিনি জোনাল নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সকলকে ইউনিট এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

পরবর্তী পর্যায়ে আগামী ২০২৬-২৭ বর্ষের অডিটর হিসাবে শ্রী গৌতম ভট্টাচার্য এর নাম প্রস্তাব ও গৃহীত হয়।

এর পরে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার পদে দায়িত্ব প্রাপ্ত শ্রী অমিত গুপ্ত।

তিনি সকলের সামনে ৯ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে নির্বাচিত হলেন তাদের নাম ঘোষণা করেন।

এরপর বক্তব্য রাখেন জোনাল সম্পাদক কমরেড অমিত দে সরকার। তিনি তার সাংগঠনিক বক্তব্যে জোনাল কমিটির কার্য পদ্ধতি, বিভিন্ন ইউনিটের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, সদস্যদের স্বার্থে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার এই সমস্ত বিষয়ে উল্লেখ করেন। ফ্যামিলি পেনশনারদের সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখার জন্য বিশেষ তৎপরতা রাখতে উল্লেখ করেন।

পরের বক্তা ছিলেন কমরেড অঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ উল্লেখ করেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আমাদের অস্তিত্ব কে অস্বীকার করে ম্যানেজমেন্ট ভুল করেছে। সংগঠনের বিভিন্ন কাজে আগামী দিনে বেলেঘাটা কম্পোজিট ইউনিট অগ্রণী ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর পরে বক্তব্য রাখেন সার্কেল প্রেসিডেন্ট কমরেড অশোক দত্ত। প্রথমেই তিনি বেলেঘাটা কম্পোজিট ইউনিটের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। সংগঠন আমাদের সকলকে নিয়ে চলার জন্য, এটাই সংগঠনের প্রধান কাজ। প্রতিটি সদস্য যেন পলিসির আওতা ভুক্ত থাকে সেবিষয়ে নজর রাখার কথা উল্লেখ করেন। কি ভাবে এই সুবিধা আমাদের নিরাপত্তা দেয় সেই বিষয়ে বিশদে ব্যাখ্যা করেন। উপস্থিত সকল সদস্য কমরেড অশোক দত্তের কথা অত্যন্ত মনযোগ সহকারে শুনেছেন।

এরপরে বক্তব্য পেশ করেন সকলের শ্রদ্ধেয় কমরেড দীপক বাসু। প্রথমেই তিনি একটু রসিকতার সুরে এই ইউনিট যে বেশ অসুবিধার মধ্যে দিয়ে জন্মেছে তার উল্লেখ করেন। ব্রাঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অসযোগিতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে তিনি মনে করেন। যে ভাবে এই মিটিং সফল করবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার জন্য তিনি সকলকে সাধুবাদ জানান।

পেনশনারদের সামগ্রিক দাবি দাওয়া অন্য সুযোগ সুবিধা এই সমস্ত বিষয়ের ওপরে বিস্তৃত আলোচনা করেন। আমাদের যে নেগোসিয়েশন এ দুটি সংগঠনের ওপরেই ভরসা রাখতে হয় সেকথাও তিনি উল্লেখ করেন। সকল সদস্য অত্যন্ত মনযোগ সহকারে সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য শুনে সমৃদ্ধ হয়েছেন।

এর পরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব পেশ করা হয়। সব শেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। ৭২ জন সদস্যের উপস্থিতি সংগঠনকে আগামীদিনে এগিয়ে যাওয়ার পথ নিশ্চিত ভাবেই সুদৃঢ় করবে।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *