Press "Enter" to skip to content

যুবভারতীতে লাল-হলুদ সুনামি…।

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬। ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল।

প্রথমার্ধের ২-০ লিড শেষ পর্যন্ত ৪-১ এর অবিশ্বাস্য স্কোর ! মাঠ জুড়ে শুধুই এডমুন্ড লালরিনডিকার ম্যাজিক!

ডার্বির মেগা ফাইনালে খোদাই প্রথম ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক !

বিপিনের আরেকটি অসাধারণ গোল এবং সবুজ-মেরুনের হয়ে মনবীরের একমাত্র সান্ত্বনা গোল ।👇

মেগা ফাইনালে যুবভারতীতে লাল-হলুদ মহাবিস্ফোরণ !

সমস্ত জল্পনার অবসান শেষ।

আজ কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শেষ হল ডুরান্ড কাপ ২০২৬ এর মেগা ফাইনাল।

ভারতীয় ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী— ইস্টবেঙ্গল এফসি এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে মাঠের রণকৌশল আর গ্যালারির গগনভেদী চিৎকারে এই মেগা ফাইনালের এক ঐতিহাসিক রূপ !

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নের রাজমুকুট মাথায় তুলল লাল-হলুদ ব্রিগেড।

প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে চালকের আসনে ইস্টবেঙ্গল :

ম্যাচের শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবলের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠে নামে ইস্টবেঙ্গল।

খেলার ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশে প্রথম গোল করে লাল-হলুদকে এগিয়ে দেন উইঙ্গার বিপিন সিং।

মোহনবাগান সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, ঠিক ১২ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে এক দর্শনীয় শটে দলের এবং নিজের প্রথম গোলটি করে ব্যবধান ২-০ করেন স্ট্রাইকার এডমুন্ড লালরিনডিকা।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে মোহনবাগান আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গলের জমাট ডিফেন্সের সামনে প্রথমার্ধ ২-০ স্কোরলাইনেই শেষ হয়। তখনই মনে হয় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইস্টবেঙ্গলের হাতে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে এডমুন্ডের স্বপ্নের হ্যাটট্রিক ও ৪-১ গোলে ম্যাচ জয় :

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

তবে আজ যুবভারতীর সবুজ গালিচায় যেন শুধুই এডমুন্ডের ম্যাজিক ছিল।

মোহনবাগান রক্ষণভাগকে চুরমার করে অসাধারণ টিম গেমের ফসল হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে নিজের স্বপ্নের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড লালরিনডিকা ।

ডার্বির ইতিহাসে এটিই ডুরান্ড ফাইনালের প্রথম হ্যাটট্রিক হিসেবে সোনার অক্ষরে খোদাই হয়ে গেল। 💫

খেলার শেষলগ্নে মোহনবাগানের হয়ে উইঙ্গার মনবীর সিং একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমায় (৪-১)।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষে ৪-১ স্কোরের এক ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-হলুদ brigade।

ম্যাচ এক্স-রে:

দুই দলের সম্পূর্ণ স্কোয়াড এবং ‘ট্যাকটিক্যাল সাবস্টিটিউশন’ ::

ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC Lineup)

প্রথম একাদশ (Starting XI):

প্রভসুখান সিং গিল (GK), হার্দিক ভাট, আনোয়ার আলী, লালচুংনুঙ্গা, জয় গুপ্ত, সন্দীপ মান্ডি, জ্যাকসন সিং, বিপিন সিং, মোহাম্মদ রশিদ, ড্যানিয়েল রামিরেজ, এডমুন্ড লালরিনডিকা।

সাবস্টিটিউশন টাইমলাইন:

৪৬ মিনিট: মধ্যমাঠ আরও শক্ত করতে মোহাম্মদ রশিদ-এর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার প্রভার লাখরা-কে।

৬৫ মিনিট: আক্রমণভাগের গতি সচল রাখতে গোলদাতা বিপিন সিং-কে তুলে নামানো হয় উইঙ্গার নন্দকুমারকে।

৭৮ মিনিট:

মাঝমাঠে ক্লান্ত জ্যাকসন সিংয়ের জায়গায় ফ্রেশ লেগ হিসেবে আসেন বনলালপেকা গুইতে।

৮৫ মিনিট: হ্যাটট্রিক হিরো এডমুন্ড লালরিনডিকাকে গ্যালারির স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিয়ে তুলে নেওয়া হয়।

মাঠে নামেন স্ট্রাইকার ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা।

ব্যবহৃত না হওয়া বিকল্প বেঞ্চ:

দেবজিৎ মজুমদার (GK), সায়ন ব্যানার্জি, ইউসেফ এজজেজারি, জেসিন টিকে।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan SG Lineup)প্রথম একাদশ (Starting XI):

বিশাল কাইথ (GK), অভিষেক সিং, রাহুল ভেকে, আলবার্তো রদ্রিগেজ, শুভাশীষ বোস, অনিরুদ্ধ থাপা, লালেংমাইয়া (আপুইয়া), সমীর জেলজকোভিচ, লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং, জেমি ম্যাকলারেন।

সাবস্টিটিউশন টাইমলাইন:

৪৬ মিনিট (হাফ-টাইম):

২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে মাঝমাঠে আক্রমণের ধার বাড়াতে ডিফেন্ডার টেকচাম অভিষেক সিং-এর পরিবর্তে মাঠে আসেন তারকা মিডফিল্ডার সাহাল আব্দুল সামাদ। একইসাথে ক্লান্ত সমীর জেলজকোভিচের জায়গায় নামানো হয় গ্রেগ স্টুয়ার্ট-কে।

৬০ মিনিট:

উইংয়ের ধার বাড়াতে লিস্টন কোলাসোর জায়গায় মাঠে নামানো হয় হাই-প্রোফাইল স্ট্রাইকার জেসন কামিংস-কে।

৭২ মিনিট: ডিফেন্সের ভুলত্রুটি ঢাকতে এবং মাঝমাঠে বলের দখল নিতে অনিরুদ্ধ থাপাকে তুলে নিয়ে কোচ ভরসা রাখেন দীপক টাংরি-র ওপর।

ব্যবহৃত না হওয়া বিকল্প বেঞ্চ:

সৈয়দ জাহিদ হোসেন বুখারী (GK), অমি রনওড়ে, মেহতাব সিং, সুহেল আহমেদ ভাট, কিয়ান নাসিরি, মিগুয়েল ফিগেইরা।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। স্টেডিয়াম জুড়ে আতশবাজির আলো বুঝিয়ে দেয়, কেন এই ডার্বিকে এশিয়ার সেরা ফুটবল দ্বৈরথ বলা হয়।

 

 

More from SportsMore posts in Sports »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *