সুদীপা চৌধুরী : মেদিনীপুর, ১ জুলাই, ২০২৬। মানুষ ঈশ্বরকে চোখে দেখে না, কিন্তু মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের কাছে চিকিৎসকই অনেক সময় ঈশ্বরের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি। আবার কখনও সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেই ওঠে অবহেলা, বাণিজ্যিক মনোভাব কিংবা মানবিকতার অভাবের অভিযোগ। এই দুই ছবিই আমাদের সমাজের বাস্তব।
একজন চিকিৎসক বছরের পর বছর কঠিন পরিশ্রম, নির্ঘুম রাত, অসংখ্য ত্যাগের বিনিময়ে মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। অপারেশন থিয়েটারের আলো নিভে গেলে, হাসপাতালের করিডোর ফাঁকা হয়ে গেলে, কত না অজানা ক্লান্তি তাঁদের সঙ্গী হয়—তার হিসাব কেউ রাখে না।
কিন্তু এই পেশার গায়ে যখন অতি মুনাফার লোভ, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, কমিশনের সংস্কৃতি কিংবা রোগীর প্রতি অবহেলার কালো দাগ লাগে, তখন আঘাতটা শুধু একজন চিকিৎসকের নয়—আঘাত লাগে মানুষের বিশ্বাসে। আর বিশ্বাস ভেঙে গেলে চিকিৎসা শুধু ওষুধে হয় না, সম্পর্কেও হয় না।
তাই আজকের দিনটি কেবল শুভেচ্ছা জানানোর নয়, আত্মসমালোচনারও। চিকিৎসকের কাছে যেমন দক্ষতার পাশাপাশি মানবিকতা অপরিহার্য, তেমনি রোগী ও তাঁর পরিবারের কাছেও ধৈর্য, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চিকিৎসা কখনও একতরফা সম্পর্ক নয়; এটি আস্থা, বিজ্ঞান এবং মানবতার এক যৌথ যাত্রা।
ডক্টরস ডে-তে সেই সব চিকিৎসকদের প্রণাম, যাঁদের কাছে স্টেথোস্কোপ শুধু একটি যন্ত্র নয়, মানুষের হৃদস্পন্দন শোনার পাশাপাশি মানুষের কষ্ট বোঝারও একটি ভাষা। আর প্রার্থনা—কয়েকজনের ভুল যেন হাজারো সৎ, নিষ্ঠাবান চিকিৎসকের সম্মানকে কখনও ম্লান না করে। কারণ একটি সমাজের সুস্থতা নির্ভর করে শুধু হাসপাতালের ওপর নয়, মানুষে মানুষে বিশ্বাসের ওপরও।।










Be First to Comment