Press "Enter" to skip to content

জবা ফুল(CHINA ROSE)….।

ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতা, ৮ জুন, ২০২৬। জবা ফুল কে বলা হয় স্বয়ং ভগবতী , সর্ববিদ্যা স্বরূপিনী ৷ মুন্ডমালা তন্ত্রে জবা সর্ম্পকে আরো বলা হয়েছে “যে সাধকা জগন্মাতরর্চয়ন্তি শিব প্রিয়ম্ “!

রক্তজবা ফুলে কালী পুজো করলে মা তৃপ্ত হয়ে ভক্তকে বর দেন ৷ লাল জবা রজগুণের , শক্তি ,

সৌভাগ্য ও গৌরবের প্রতীক ৷

” বলরে জবা বল, কোন সাধনায় পেলি শ্যামা

মায়ের চরণতল “!

“জবা ” আমার প্রিয় ফুল ৷ কারণ , তা কালী মায়ের শ্রীচরণে অর্পণ করি ৷ জবার ইংরেজি নাম

” China Rose’ ‘ ! যদিও এর সঙ্গে “গোলাপের ” কোন মিল খুঁজে পাই নি অবশ্য চীন ও তিব্বতে তা গোলাপের মত আদৃত ৷লামারা মনে করেন জবা ফুলে মনের বাসনা পূরণ হয় ৷ তন্ত্রের অনেক কিছু চীন -তিব্বত থেকে এসেছে ৷ তাই একে বলা হয় চীনাচার ৷ এমনকি আমরা যে কাপড় পরে কালী পুজো করি সেই বস্ত্র তৈরী হয় চীনাংশুক বা ঐ রেশম কাপড় পড়ে ৷ ক্যারলাস লিনেয়াস এর বৈজ্ঞানিক নাম দেন ” Hibiscus rosa – Sinensis জবা carolus Linneaeus হলো মিলভেসি গোত্রের চিরসবুজ ফুলধারী গুল্ম ৷ সাত / আট ফুট উঁচু ঝোপ জাতীয় চীনা গোলাপ – পূর্ব এশিয়ার গাছ ৷ বৃতি , পাপড়ি , পুংকেশর , গর্ভকেশর থাকায় সম্পূর্ণ ফুল৷ সঙ্করায়ণের ফলে অনেক রঙের হলেও পঞ্চমুখী এক পাপড়ির লাল বা রক্ত জবাই আসল ৷ তবে , ঝুমকো , লঙ্কা , বর্ষা , নীর ও সুগন্ধী  জবা হয় ৷ পাওয়া যায় বেশ কিছু রঙে ৷ মালয়ী ভাষায় “বুঙ্গা রায়য়া ” বলে জবাকে ৷ যা মালয়েশিয়ার জাতীয় ফুল ৷ জবাকে সংস্কৃতে – জবা পুষ্পম , গুজরাটিতে – জসুভা , কন্নড়ে – দাসনন , তেলেগুতে – ডাসানা , তামিলে – সেম্বারুথি , মালয়ালামে ( কেরলিয়ান)- সম্পারাত্তি , এবং হিন্দীতে – জবাকুসুম বলে ৷

আমরা রোজ সূর্য প্রণাম করি -” জবাকুসুম সংকাশং কাশ্যপেয়ং মাহাদ্যুতিং” বলে ৷তবে , কারো কারো মতে বৌদ্ধযুগে এদেশে জবার আগমন ৷ হয়তো আর্যরা সাদা ফুলে পূজার্চনা করত বলে এই ধারনা ৷ অনার্য ও দ্রাবিড়দের মধ্যে রঙিন ফুলে পুজোর প্রচলন ছিল ৷ নবম শতাব্দীর আয়ুর্বেদিক বইয়ে জবার ভেষজ গুণ লেখা আছে ৷ কবিরাজী ও ইউনানীতে রক্ত পরিষ্কার করতে , বমি করাতে , চোখ ওঠায় , মাথার টাকে ও খুশকিতে , নন ডায়াবেটিকদের অধিক প্রস্রাবে , অনিয়মিত ঋতু ও অতিস্রাবে , ধাতু দৌবর্ল্যে , জ্বর ও কাশিতে জবার নানা ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় ৷

কালনার সি কে সেনের “জবাকুসুম” (জবা ফুল দিয়ে তৈরী ) এক সময় বঙ্গ নারীর  নিত্যসঙ্গী ছিল ৷ তখন কেশবতী ভারতীয় ললনার  অভাব ছিলনা ৷ আধুনিক মতে, চুলের জন্য তেলের প্রয়োজনকে স্বীকার করা হয় না ৷ আমাদের উপমহাদেশের বাইরে তেলা মাথায় তেল দেওয়ার চল নেই ৷ তবে , আমাদের শ্যামা মা রাঙা

জবা খুব পছন্দ করেন ৷ নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতে আছে ,-” রাঙা জবার বায়না ধরে আমার কালো মেয়ে কাঁদে ৷/ সে তারার মালা সরিয়ে ফেলে এলোকেশ নাহি বাঁধে ৷৷”

 

 

 

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *