
ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় : শ্রীনগর, ১৪ জুলাই, ২০২৬। 2022 আজ থেকে ৪ বছর আগে ২০২২ সালে লাদাখ গেছিলাম বাবাকে নিয়ে। শ্রীনগর থেকে আমার আরও দুই কাশ্মীরি বন্ধু মিলে গাড়িতে করে যাতে পথে কার্গিল সহ আরও অনেক কিছু দেখতে পারি। আশীষ কাঞ্জিলাল দা বলেছিলেন বাটালিক সেক্টর এ যেতে, ওখান থেকে টেলিস্কোপে এ pok এর ভেতরটা দেখা যায়।
কার্গিল ওয়ার মিউজিয়াম দেখে লেহ এর দিকে না গিয়ে অন্য রুট ধরে এগোতে থাকলাম। বাঁকের পর বাঁক, বুঝতে পারছিনা কোথায় এক্সাক্টলি যাব।
এক জায়গায় একটা আর্মি ভ্যান দেখে দাঁড়ালাম, জিজ্ঞেস করলাম pok দেখব কি করে? লোকটি হেসে বললো সামনের দিকে তাকান, ওটাই pok.
গাড়ি থেকে নামতেই নজরে পড়ল পাহাড়ের খাঁজে একজন লাদাখি লোক টেলিস্কোপ নিয়ে বসে। গেলাম তার কাছে। উনি লেন্স এ চোখ রাখতে বললেন। খালি চোখে জাস্ট একটা পাহাড় যেটাকে মনে হচ্ছিল, টেলিস্কোপ এ চোখ রেখে স্তম্ভিত। যা দেখলাম গায়ে কাঁটা দেওয়ার মত। সুরু নদীর (মাঝখানে লোহার জালের বাঁধ যাতে কেউ সাঁতরে এদিক ওদিক যেতে না পারে)এদিকে ভারত ওদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর।
ইন্ডিয়ার শেষ গ্রাম handerman এ আমাদের আর্মি কাঁধে বন্দুক নিয়ে যেমন ঘুরছে আবার ওদের ওখানকার শেষ গ্রাম brolmo তে পাকিস্তানি আর্মি ঘুরছে। এবং বাংকারের মুখেও কিছু বসে (নীচের ছবিতে পাহাড়ের গায়ে অজস্র গর্ত গুলো পাক বাংকার)। দুই পাড়ের দূরত্ব কিছুই নয়,জোরে কথা বললেও বোধহয় শোনা যাবে।
Brolmo গ্রামে আর লোক থাকে না,সবটাই পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে নিয়েছে কার্গিল যুদ্ধের সময়।
“আলোর উপত্যকা” এ নিয়ে লিখেছি, ইতিমধ্যে যারা পড়েছেন, তারা জানেন।
দেখা শেষ। গাড়িতে উঠব, দেখি দূরে একটা বাচ্চা ছেলে(আর্মির) ড্রামের ওপর বসে। আমি আলাপ করলাম,জানলাম চেন্নাইতে বাড়ি। এখানে পোস্টেড কিছু মাস। স্যালুট করলাম,দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে কজন পারে এ বয়সে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে থাকতে?আমি আমাদের আর্মিকে নিয়ে obsessed বলতে পারেন,আমার অনেক লেখায় এদের কথা উঠে আসে।
লাদাখ গেলে এদিকটায় যাবেন, অসম্ভব ভাল লাগবে।










Be First to Comment