কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।
সরকারি বিজ্ঞাপনে ‘একাদশভুজা’ ট্র্যাজেডি!
দুর্গাপূজার কাউন্টডাউন শুরু হতেই রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের একটি মেগা সরকারি বুকলেট এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ঘিরে নেটপাড়ায় চরম হাসাহাসি ও ট্রোলিং শুরু হয়েছে।
মা দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী অর্থাৎ ১০ হাতের দেবী, কিন্তু সরকারের রিলিজ করা অফিশিয়াল ব্যানারে গ্রাফিক ডিজাইনারের চরম গাফিলতিতে মায়ের ১০টির জায়গায় পরিষ্কার ১১টি হাত ফুটে উঠেছে!
মায়ের এই নতুন ‘একাদশভুজা’ রূপ পাবলিকের চোখে পড়তেই ফেসবুক-এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মিমের বন্যা বয়ে যায়।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী!
বিতর্কের ডালপালা ছড়াতেই আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে বাধ্য হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজ্য পুজো সমন্বয় কমিটির মেগা মিটিংয়েই তিনি এই ঐতিহাসিক ভুলের কথা স্বীকার করে নেন এবং প্রকাশ্য মঞ্চে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।
পাশাপাশি যে প্রাইভেট এজেন্সি এই ব্যানার ডিজাইন করেছিল, তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পুরো বিজ্ঞাপনটি রাতারাতি তুলে নেওয়ার টেকনিক্যাল অর্ডার জারি করেছেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের ‘১১ হাত’ থিওরি!
এই নিয়ে সরকারের মুখ পুড়লেও, দলের সম্মান বাঁচাতে আসরে নেমে এক অদ্ভুত ও হিউমারাস যুক্তি খাড়া করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য!
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একটুও না ঘাবড়ে চওড়া হেসে দাবি করেন— “আরে ভাই, এতে বিতর্কের কী আছে?
মা দুর্গা তো সর্বশক্তিমান। ১১ নম্বর হাত থাকা মানে মা এবার বাংলাকে অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ধরা দিয়েছেন!”
সভাপতির অশাস্ত্রীয় অথচ মারাত্মক রাজনৈতিক থিওরি শুনে হাসির রোল খোদ পলিটিক্যাল সার্কেলসে !
দলীয় ‘অজুহাত’ বনাম মুখ্যমন্ত্রীর সততা!
তবে এই গোটা বিতর্কের মাঝে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
যেখানে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ‘১১ হাতের আজব থিওরি’ খাড়া করে গ্রাফিক্স এজেন্সির কাঁধে বন্দুক রেখে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু কোনো সস্তা অজুহাত বা আমলাতান্ত্রিক সাফাইয়ের আড়ালে লুকোননি।
তিনি সরাসরি ফ্রন্টফুটে খেলে নিজের ক্যাবিনেট এবং তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের এই ঐতিহাসিক গাফিলতিকে মাথা পেতে নিয়েছেন।
কোন ‘তৃতীয় হাত’ অজুহাত না দেখিয়ে, পুজো সমন্বয় কমিটির প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি যেভাবে রাজ্যবাসীর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন—তা বিরোধী শিবিরকেও এক ঝটকায় ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
ভুল ঢাকার চেষ্টার চেয়ে ভুল স্বীকার করার এই সাহসিকতা ড্যামেজ কন্ট্রোলের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল, যা সাম্প্রতিক রাজনীতিতে সত্যিই বিরল!
পুজো-বিরোধী’ বামেদের হঠাৎ মাথাব্যথা কেন !
এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় বিরোধী শিবির। তবে সবচেয়ে মজার কাণ্ড ঘটেছে আলিমুদ্দিনের অন্দরে!
সারাবছর সনাতন ধর্মের রীতিনীতিকে বুর্জোয়া দেগে পুজোর দিনে মণ্ডপের বাইরে মার্ক্সবাদী বইয়ের স্টল খোলে এবং চিরকাল পুজোর সংস্কৃতির বিরোধিতা করে এসেছে, সেই বামেদেরও এবার দুর্গাপুজো নিয়ে হঠাৎ কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন !
মায়ের হাতের সংখ্যা গোনা নিয়ে তাদের এই আকস্মিক ‘ধর্মীয় মাথাব্যথা’ ও তোপ দাগা দেখে আমজনতাও হাসাহাসি করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একটাই প্রশ্ন— “পুজোকে যারা উৎসবই মনে করে না, সরকারি ভুলে মায়ের হাত একটা বাড়লে তাদের এত গায়ে ফোসকা পড়ছে কেন !”










Be First to Comment