Press "Enter" to skip to content

দেওয়ালের ওই চকচকে এলইডি টিভিটার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক মারাত্মক আন্তর্জাতিক জালিয়াতি… ! 

টিভিতে বড় ধোঁকা     খেলাটা কিন্তু বন্ধু…

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। দেওয়ালের ওই চকচকে এলইডি টিভিটার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক মারাত্মক আন্তর্জাতিক জালিয়াতি !

তাতে আপনার পকেটের হাজার হাজার টাকা এক নিমেষে ফাঁকা !

 

কি এই ‘ফটোশপ এলইডি টিভি’?

বাজারে এখন নামী ব্র্যান্ডের হুবহু নকল স্মার্ট টিভির দেদার বিক্রি !

বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। আসলে সস্তা চাইনিজ প্যানেল এনে, তার ওপর নামী কোম্পানির লোগো লেজার প্রিন্ট বা স্টিকার দিয়ে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, টিভির সফটওয়্যার সিস্টেমের ভেতর এডিটিং বা ‘ফটোশপ’ কারসাজি করে ভুয়ো সিরিয়াল নম্বর আর ৪কে (4K) ডিসপ্লের কারসাজি!

 

কোথায় চলছে এই জালিয়াতির রাজত্ব?

কোনো বড় শোরুম নয়, এই জালিয়াত চক্রের মূল ফাঁদ লুকিয়ে, অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটপ্লেস এবং শহরের কিছু অফবিট ইলেকট্রনিক্স হোলসেল মার্কেটে।

“পুজোর অফার” বা “স্টক ক্লিয়ারেন্স সেল”-এর টোপ দিয়ে ৩০ হাজার টাকার ৪৩ ইঞ্চি ৪কে স্মার্ট টিভি মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় আপনার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কম দামের লোভনীয় টোপে পড়ে যাচ্ছেন মধ্যবিত্তরা!

 

কেনার পর কি হবে

এই টিভিগুলো কেনার ঠিক ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যাকলাইট উড়ে যাওয়া, মাদারবোর্ড জ্বলে যাওয়া বা ডিসপ্লেতে দাগ পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

আপনি কাস্টমার কেয়ারে ফোন করবেন, জানতে পারবেন এই সিরিয়াল নম্বরের কোনো টিভি ওই কোম্পানি কোনোদিন বানায়ইনি!

কোনো ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি না থাকায় পুরো টাকাটাই এক ধাক্কায় জলে।

 

বাঁচার উপায় কি –

সস্তায় নামী ব্র্যান্ডের টিভি দেখলেই হড়বড় করে কিনতে যাবেননা।

টিভি কেনার আগে সবসময় অফিশিয়াল শোরুম বা ভেরিফাইড অনলাইন সেলারের ওপর ভরসা রাখুন।

টিভির বিল, বক্সের বারকোড এবং টিভির ভেতরের সিস্টেম সেটিংসের বারকোড মিলিয়ে দেখে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

একটু অসতর্ক হলেই কিন্তু নিজের ড্রয়িংরুমে ঢুকে পড়বে চোরের গ্যাং!

 

কোথায় তৈরি হচ্ছে এই ‘ফটোশপ’ টিভি?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই নকল টিভি তৈরির গ্যাংদের মূল আস্তানা দিল্লির ওন্ডা, ওমরপুর এবং নয়ডা সংলগ্ন কিছু লোকাল অ্যাসেম্বলিং কারখানায়।

চীন থেকে কন্টেইনারে করে সস্তা, আনব্র্যান্ডেড এবং নিম্নমানের খোলা এলইডি প্যানেল নিয়ে আসা হয় এই সব জায়গায়।

তারপর চলে জালিয়াতির সেকেন্ড ফেজ—কম্পিউটার ও লেজার মেশিনের মাধ্যমে নামী ব্র্যান্ডের ভুয়ো লোগো আর কোড বসিয়ে দেওয়া হয়।

দিল্লির লাজপত রাই মার্কেটের কালো সাম্রাজ্য!

এই চক্রের মূল সাপ্লাই চেইন বা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ হয় দিল্লির কুখ্যাত ওল্ড লাজপত রাই মার্কেট এবং গাফ্ফার মার্কেট থেকে।

এখান থেকেই লোগো লাগানো জাল টিভিগুলো হোলসেলে ছড়িয়ে পড়ে কলকাতা-সহ সারা ভারতের লোকাল মার্কেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার বুস্ট হওয়া বিজ্ঞাপনে।

পুলিশ ও নামী ব্র্যান্ডের কোম্পানিগুলো যৌথভাবে হানা দিয়ে ইতিমধ্যেই এই সমস্ত মার্কেট থেকে কোটি কোটি টাকার জাল স্যামসাং বা সোনি এলইডি টিভি এবং স্টিকার বাজেয়াপ্ত করেছে!

 

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *