Press "Enter" to skip to content

দেশভাগের স্মৃতি বুকে নিয়ে কলকাতায় রুবি পণ্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজো, ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে উদ্বাস্তু জীবনের ইতিহাস…।

প্রিয়জিৎ ঘোষ : কলকাতা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬।  বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো মানেই বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য, পারিবারিক আভিজাত্য ও প্রাচীন রীতিনীতির মেলবন্ধন। তবে রুবি পণ্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস কিছুটা স্বতন্ত্র। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশভাগের স্মৃতি, ভিটেমাটি হারানোর বেদনা এবং নতুন করে শিকড় গেড়ে বাঁচার এক দৃঢ় প্রত্যয়।

১৯৫১ সালে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতায় চলে আসে পণ্ডিত পরিবার। তার আগে পূর্ববঙ্গের সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ১৯৫০ সালের দাঙ্গা-অশান্তির অভিঘাত তখনও কাটেনি। সব মিলিয়ে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের পরিস্থিতি বহু পরিবারের মতো পণ্ডিত পরিবারের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

চট্টগ্রামের পরিচিত পরিবেশ, ফেলে আসা ভিটেমাটি এবং শিকড়ের স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই কলকাতায় শুরু হয় নতুন জীবনের পথচলা। নতুন শহরে ঘর তৈরি করা, জীবনের ভিত মজবুত করা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখা—সবটাই ছিল এক দীর্ঘ সংগ্রামের অংশ।

সেই প্রেক্ষাপটে রুবি মোড়ের কাছে পণ্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এটি এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে বয়ে চলা স্মৃতি, আত্মপরিচয় ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীক। ভৌগোলিক সীমানা বদলেছে, বদলেছে বসবাসের ঠিকানা, কিন্তু শিকড়ের টান এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার আকাঙ্ক্ষা রয়ে গিয়েছে অটুট।

আজ রুবি পণ্ডিত বাড়ির দুর্গোৎসবের ইতিহাস ফিরে দেখলে উঠে আসে এক পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর  কাহিনি। দেশভাগের ক্ষত পেরিয়ে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার যে মানসিক দৃঢ়তা এই পরিবারের ইতিহাসে জড়িয়ে রয়েছে, দুর্গাপুজো তারই এক জীবন্ত স্মারক। তাই এই পুজো কেবল দেবী আরাধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এর প্রতিটি অধ্যায়ে মিশে রয়েছে হারানো ঠিকানার স্মৃতি, নতুন করে আপন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার লড়াই এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার।

More from CultureMore posts in Culture »
More from WorldMore posts in World »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *