Press "Enter" to skip to content

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় আরিয়ান গুপ্ত দেশের সেরা…।

সুদীপা চৌধুরী : মেদিনীপুর, ১৮ জুলাই, ২০২৬। লুধিয়ানার ছেলে আরিয়ান গুপ্তা যেন এক স্বপ্নের নাম। না এই স্বপ্ন খুব সহজে জন্মায়নি। রয়েছে এক প্রতিজ্ঞা এক কাহিনী এবং চোখের জল। ডাক্তারের পরিবারে জন্ম বলে অনেকেই ভাবতে পারেন, তাঁর সাফল্যের পথটা বুঝি আগেই তৈরি ছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের পরিবারেও এমন কিছু যুদ্ধ থাকে, যেখানে স্টেথোস্কোপ, ওষুধ কিংবা অভিজ্ঞতা—কিছুই প্রিয় মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে না।

আরিয়ান তখন মাত্র তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। স্টেজ-ফোর ক্যানসারে তাঁর ঠাকুমা মারা যান। বাড়িতে একের পর এক ডাক্তার, তবু সবাই সেদিন অসহায়। সেই দিনই ছোট্ট ছেলেটি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল—একদিন সে এমন একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হবে, যে অন্তত আরও কিছু পরিবারের চোখের জল থামাতে পারবে।

তারপর শুরু হয় দীর্ঘ প্রস্তুতি। দিনের পর দিন ১৬-১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা। হাসপাতালের ব্যস্ততা শেষ করে বাবা রাত জেগে ছেলের পাশে বসেছেন। দিল্লিতে ডাক্তারি পড়া বড় ভাই আদিত্য প্রতিদিন সাহস জুগিয়েছেন। ভাইয়ের একটি কথাই আরিয়ানের জীবনের মন্ত্র হয়ে যায়—”শিক্ষকদের বিশ্বাস করো, আর নিজের ওপর আস্থা হারিও না।”

জীবনের পরীক্ষা শুধু প্রশ্নপত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনা থাকে ভাগ্যের হাতেও কর্মের বন্ধনে সম্পৃক্ত।

প্রথম NEET পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। এক মুহূর্তে ভেঙে পড়েছিল ছেলেটার সব স্বপ্ন যেন। এতদিনের পরিশ্রম যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। কিন্তু সেই কান্নাই শেষ কথা হয়ে থাকেনি। সে আবার বই খুলেছিল, আবার নতুন করে শুরু করেছিল।

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান।

দ্বিতীয়বার NEET-UG ২০২৬-এর ফল প্রকাশের দিন দেখা গেল, ৭২০-এর মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে আরিয়ান গুপ্ত অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ১ অর্জন করেছেন।

সে শুধু একজন মেধাবী ছাত্রই নয় । একজন ভালো খেলোয়াড়

দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯৮.৪% নম্বর পেয়েছে এবং সে একজন স্টেট-লেভেল টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ও।

আরিয়ানের গল্প আমাদের শুধু একটি র‍্যাঙ্কের গল্প শোনায় না। এটি শেখায়—ভাগ্য কখনও কখনও পথ আটকে দেয়, কিন্তু লক্ষ্য যদি স্পষ্ট থাকে, তাহলে মানুষ নতুন পথ তৈরি করে নেয়।

হয়তো একদিন AIIMS-এর একজন অনকোলজিস্ট হিসেবে সে অসংখ্য ক্যানসার রোগীর মুখে হাসি ফিরিয়ে দেবে। কারণ কিছু প্রতিজ্ঞা শুধু উচ্চারণ করা হয় না—সারা জীবন ধরে পালন করা হয়।

সব স্বপ্নই সহজে পূরণ হয় না। কিন্তু যে স্বপ্নের সঙ্গে মানুষের চোখের জল জড়িয়ে থাকে, সেই স্বপ্ন একদিন ইতিহাস লিখেই ছাড়ে।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। স্বপ্নে এমনই দেখতে হয় যা তুমি সত্যিই পূরণ করতে পারবে।  প্রতিজ্ঞা এমনই করতে হয় যা তোমাকে সত্যি কারের মানুষ করে তুলবে।

আজকের ছোট্ট এই যোদ্ধার গল্প আশা করি অনেক মানুষকে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করবে ।

 

 

More from EducationMore posts in Education »
More from WorldMore posts in World »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *