সুদীপা চৌধুরী: মেদিনীপুর, ১৮ জুন ২০২৬। মেয়ে বেলায় সেই ইতিহাসের পাতায় পরিচয় ঝাঁসির রানী সঙ্গে। ১৮৫৮ এর ১৮ই জুন আজকের দিন গোয়ালিয়রের কাছে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি বীরগতি প্রাপ্ত হন। ইতিহাসের পাতায় নয়, প্রতিরোধের ভাষায়
কিছু মানুষ জন্ম নেন রাজমুকুট পরার জন্য, আর কিছু মানুষ জন্ম নেন ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়ার জন্য। ঝাঁসির রানী ছিলেন দ্বিতীয় দলের মানুষ। তিনি কেবল একটি রাজ্যের শাসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সেই আগুনের শিখা, যা পরাধীনতার অন্ধকারে স্বাধীনতার প্রথম আলো জ্বালিয়েছিল।
যখন চারদিকে ভয়, আপস আর আত্মসমর্পণের গল্প লেখা হচ্ছিল, তখন এক তরুণী নারী তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন— অধিকার ভিক্ষা করে নয়, লড়াই করে অর্জন করতে হয়। তাঁর যুদ্ধ ছিল শুধু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নয়; তাঁর যুদ্ধ ছিল সেই ধারণার বিরুদ্ধেও, যেখানে নারীদের দুর্বল ভাবা হতো।
ঝাঁসির রানীর জীবন আমাদের শেখায়, সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয়; ভয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের পথ থেকে সরে না যাওয়া। তাঁর ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ আজ আর শোনা যায় না, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতিটি কণ্ঠে তাঁর উত্তরাধিকার বেঁচে আছে।
তিনি হারিয়ে যাননি। তিনি রয়ে গেছেন প্রতিটি সেই নারীর মধ্যে, যে প্রতিকূলতার সামনে মাথা নত করে না; প্রতিটি সেই মানুষের মধ্যে, যে সত্যের জন্য একা দাঁড়াতে জানে।
ঝাঁসির রানী একটি নাম নয়— তিনি এক অদম্য মানসিকতা, এক চিরন্তন বিদ্রোহ, এক অনির্বাণ সাহসের প্রতীক।





Be First to Comment