প্রবীর রায় : প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা। ৪ মে, ২০২৬। আজ আমার নিজের সাথে কথা বলার দিন। আজকের দিনটার অপেক্ষায় আমি বহু… বহুদিন অপেক্ষা করে আছি। সুদীর্ঘ জীবনে কতো রাজনৈতিক উত্থান পতন দেখেছি। সেই বিধানচন্দ্র রায় থেকে শুরু করে প্রফুল্লচন্দ্র সেন, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় থেকে জ্যোতি বসু …শেষে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য…একের পর এক মহীরুহ মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি। এক সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব বিষয়ে এ রাজ্য দেশের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিল। আস্তে আস্তে রাজ্যের সার্বিক পতন শুরু হলো। ভুল ideology, এবং সেই সুবাদে ভুল পলিসি, অযাচিত আত্মবিশ্বাস, আত্ম অহমিকা- বামফ্রন্টের শেষ ১০ বছর রাজ্যটাকে শেষ করে দিয়েছিল।
এই ছিদ্র দিয়েই লক্ষীন্দরের বাসর ঘরে কাল সাপের প্রবেশ। তৎকালীন শাসকদলের বদান্যতায় একের পর এক অন্যায়, অবিচার করে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সিংহাসনে উপবেশন …সিঙ্গুর গেল, শিল্প গেল ( খাওয়া-দাওয়া করে ২৭ দিনের অনশন), জঙ্গলমহল গেল (কিশানজী পৃথিবী ছাড়লেন) , প্রবল ভাঙচুর করে সপারিষদ বিধানসভায় প্রবেশ তাঁর। মহাকরণ গেল … তারপর শুধুই বিদায়ের পালা।
একের পর এক ছোট এবং অনুসারী শিল্প গেল, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সব চুরমার হয়ে গেলো চোখের সামনে – মাত্র ১৫ বছরেই। একমেবাদ্বিতীয়ম হয়ে অধিশ্বরী মুখ্যমন্ত্রীর পায়ের তলায় নেতাজী, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল….। বাঙালি হিসেবে নিজেকেই ধিক্কার জানিয়েছি।
পাশাপাশি দূর্নীতি, মিথ্যাচার শিল্পের পর্যায়ে চলে গেলো। ২০১২ সালে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে একের পর এক আর্থিক অনাচার … চাল- গম থেকে শুরু করে বালি, কয়লা, চাকরি, শিক্ষা, শিল্প সংস্কৃতি , স্বাস্থ্য …সব বিক্রি …। উপঢৌকন দিয়ে একদল মেরুদণ্ডহীন স্তাবক তৈরী করা হয়েছে – তাদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি/ আধা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার চূড়ায়। ভাবখানা যেন – সবাই বিশাল বোদ্ধা। সবাই শিল্পটাও বোঝে, অর্থনীতিও বোঝে। বিশাল সংখ্যক মানুষকে কি চিরকালের জন্য বোকা বানানো যায় ?
বাংলা ছিল শিল্প, সংস্কৃতির পীঠস্থান। শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত , চলচ্চিত্র সবেতেই ছিল প্রতিভার ছড়াছড়ি। যন্ত্রণাহত হয়ে দেখেছি – কি ভাবে রাজনীতি সব কিছু গ্রাস করে নিল। মনে আছে ২০১৪-১৫ সালে আমরা (আমি, দেবিকা মুখার্জি,রূপা গাঙ্গুলী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, স্বপন রায় , পুলকিতা ঘোষ, দেবরাজ রায় ও আরো অনেকে) তৎকালীন সভাপতি রাহুল সিনহার হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করি। এবং আমরা শিল্পীরা একটা সংগঠন করেছিলাম। জর্জ বেকার সভাপতি এবং আমি সহ-সভাপতির পদ গ্রহণ করি। তখন আমাদের কোনো কাজ করতেই দেওয়া হতো না। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রাসে ইন্ড্রাস্ট্রির ত্রাহি অবস্থা। ওনার হাবভাব তো উনি সত্যজিৎ রায়, উত্তমকুমার তুল্য মহামানব। বছরে একদিন গলায় উত্তরীয় পরিয়ে আর খামে ভরে টাকা দিলে শুধু চামচা বানানো যায় – আর কিছু হয় না।
এতো আত্ম অহমিকার শেষটা কখনো ভালো হতে পারে না। তাই আজ এই দিনটা দেখে বড় তৃপ্তি অনুভব করছি।
নতুন সরকারের কাছে একজন পশ্চিমবঙ্গবাসী হয়ে অনুরোধ – আমার/ আমাদের রাজ্য আবার স্বমহিমায় গৌরবান্বিত হোক।













Be First to Comment