Press "Enter" to skip to content

যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিশ্বে শান্তি ফেরাতে গৌড়ীয় মিশন কর্তৃক ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ (স্কুল) স্থাপনের উদ্যোগ….।

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১২ মে, ২০২৬। বর্তমান সময়ে সারা বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, হিংসা ও অশান্তির যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শ্রীচৈতন্যদেব-এর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশে ‘পরা বিদ্যাপীঠ’ (স্কুল) স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে গৌড়ীয় মিশন।

সংস্থার উদ্যোগে ইতিমধ্যেই কলকাতা-র বাগবাজার গৌড়ীয় মিশন, নবদ্বীপ সহ দেশের বিভিন্ন গৌড়ীয় মঠে এই বিদ্যাপীঠ স্কুল চালু হয়েছে। এখানে শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষাই নয়, আধ্যাত্মিক, নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ চরিত্র গঠন এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

এবার এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে লন্ডন, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৌড়ীয় মিশনের শাখা কেন্দ্রগুলিতে ‘পরাবিদ্যাপীঠ’ স্কুল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হল।

 

গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী গোস্বামী মহারাজ আগামী ১৪ মে কলকাতা থেকে চারটি দেশে রওনা দিচ্ছেন এই প্রকল্প চালু করার লক্ষ্যে।

বাগবাজার গৌড়ীয় মিশনে এ বিষয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, “বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান হিংসা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষা ও আদর্শ। সেই ভাবনা থেকেই নীতি, আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধ নির্ভর শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এই উদ্যোগ”

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ভাষায় এই শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের মধ্যেও এই আদর্শের বিস্তার ঘটে।

উল্লেখ্য, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সার্বজনীন শিক্ষার প্রসারে গৌড়ীয় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদের উদ্যোগে ১৯৩৫ সালে পরাবিদ্যাপীঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়।

১৯৬৬ সালে ভারত সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘গৌড়ীয় মিশন পরাবিদ্যাপীঠ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’, যার লক্ষ্য গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার। এখানে সংস্কৃত ভাষা ও দর্শন শিক্ষার পাশাপাশি ভারতীয় দর্শনের ওপর বিশেষ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি গৌড়ীয় নৃত্য, মৃদঙ্গবাদন ও কীর্তন শিক্ষার মতো পাঠক্রমও চালু হয়েছে।

More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *