Press "Enter" to skip to content

১ এপ্রিল মোটেই মজা করার দিন নয়- বিশ্বাসঘাতকতার দিন…..

Spread the love

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কলকাতা, ৩১ মার্চ ২০২০ ১এপ্রিল। এপ্রিল ফুল বানানোর দিন। এককথায় কাউকে বোকা বানিয়ে মজা পাওয়ার দিন। আদতে দিনটি কিন্তু মজার নয়। এই দিনটি ঘিরে রয়েছে বরং এক ট্র্যাজিক ঘটনা। না, গুজব নয়, একশো শতাংশ সত্যি, সত্যি, সত্যি।
কি সেই ট্র্যাজিক ঘটনা? জানার আগে চলুন জেনে নিই এপ্রিল মাসের ইতিহাস। বছরের চতুর্থ মাস এপ্রিল। ইংরেজি ক্যালেন্ডার শব্দটির সৃষ্টি ক্যালেন্ডি ল্যাটিন শব্দ থেকে। খ্রিস্টের জন্মের ৩ হাজার দু”শো বছর আগে ক্রো ম্যাগনন মানবগোষ্ঠী এই ক্যালেন্ডারের আবিষ্কারক। ল্যাটিন শব্দ এপরিরে থেকে এপ্রিল শব্দের মানে দ্বিতীয়। রোমান ক্যালেন্ডারে এপ্রিল মাস ছিল বছরের দ্বিতীয় মাস।

অনেকে বলেন, গ্রীক দেবী আফ্রোদিতি থেকে এইমাসের নামকরণ। লোককে বোকা বানানোর দিন হিসেবে মাসের প্রথম দিনটি নির্ধারিত। এই দিনে যাদের বোকা বানানো হয়, তাকে ফরাসি ভাষায় বলা হয় poisson Davril. যার ইংরেজি অর্থ এপ্রিল ফিশ। ফিশ বলার অর্থ,, প্রবাদ মাছের বুদ্ধিমত্তা কম। ছিপের বড়শিতে খাদ্যের টোপ দিয়ে মাছকে প্রলুব্ধ করে ধরা হয়।অর্থাৎ মাছকে বোকা বানানো হয় তার গলায় বড়শি গেঁথে। কষ্ট দিয়ে। যে কষ্ট দিয়ে মারা হয় যিশুখৃষ্টকে। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ইহুদীদের চালু করা যিশুকে বিদ্রুপ করার প্রথা। পরবর্তী সময়ে যা খ্রিস্টান সমাজ অদ্ভুত ভাবে নিজেদের মধ্যে প্রথা করে নেয়। মুসলিম সম্প্রদায় আবার বিষয়টিকে অর্থাৎ মানুষকে বোকা বানানোর কাজটাকে গুণহা হিসেবে দেখেন। ধোঁকা দেওয়া, অপরকে কষ্ট দেওয়া, মিথ্যে বলা সর্বোপরি নবীর ব্যাপারে বেআদবি নিন্দার যোগ্য হিসেবে মানেন।প্রতিবেদনের শুরুতে বলেছিলাম, ১এপ্রিল মোটেই মজার দিন নয়।

যদিও ভিলেন করোনা ভাইরাসে প্রভাবে এবারে বিশ্বের কেউ এপ্রিল ফুল করবেন না। কেননা বিশ্ববাসীকে বোকা বানানোর কাজটাতো কেড়ে নিয়েছে করোনা।আমেরিকা, ব্রিটেন আর ইতালি যার বড় প্রমাণ। কিন্তু আমরা ট্র্যাজিক ঘটনার দিনটিকে এতদিন না জেনে এপ্রিল ফুল দিবস মানুষকে বোকা বানিয়ে মজার দিন হিসেবে মেনে এসেছি। এপ্রিলের প্রথম দিনটি বিশ্বের নিষ্ঠুরতম ঘটনার একটি কলঙ্কিত দিন। কি সেই ঘটনা ? ফিরে যেতে হবে অষ্টম শতাব্দীতে। স্পেনে সদ্য কায়েম হয়েছে মুসলিম শাসন।বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি সভ্যতার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি হতে থাকে। এরপর কেটেছে ৮০০বছর। দেশটি তখন অর্থসম্পদে পরিপূর্ণ। এরপর ভোগবাদী ভাইরাসে মুসলিম নেতারা পথভ্রষ্ট হতে লাগলেন। এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে এগিয়ে এলো খ্রিস্টান দুনিয়া। উদ্দেশ্য, যেমন করেই হোক স্পেন থেকে মুসলিম শাসন উচ্ছেদ ।পরিকল্পনামাফিক পর্তুগিজ রানী ইসাবেলা চরম ইসলাম বিরোধী রোমসম্রাট ফার্দিনান্দ কে বিয়ে করেন। এর আগে সরাসরি মুসলিমশাসিত স্পেনকে পরাজিত করতে পারেননি। রানী ইসাবেলার পরামর্শে এবার স্পেনের প্রধান শস্য খামার ভোগা উপত্যকা পুড়িয়ে দেন। সম্রাট ফার্দিনান্দ। ফলে স্পেনে নেমে আসে দুর্ভিক্ষ। সম্রাট ফার্দিনান্দ ঘোষণা করেন, মুসলিমরা যদি শহরের প্রধান ফটক খুলে দেয় এবং নিরস্ত্র হয়ে মসজিদে আশ্রয় নেয় তবে তাদের ক্ষমা করে মুক্তি দেওয়া হবে। সম্রাটের কথা বিশ্বাস করে এবং ক্ষুধার্ত সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা মায়ের কথা ভেবে শহরের প্রধান ফটক খুলে দেন। স্পেনের মুসলিম নাগরিকেরা। দিনটি ছিল ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল। সম্রাটের বাহিনী শহরে ঢুকে মসজিদের দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে দেয় । ধরিয়ে দেয় আগুন। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান হাজার হাজার মুসলিম নাগরিক। এরপর কেটে গেছে বহু বছর, বহু শতাব্দী। ১৯৯৩ সালে ১ এপ্রিল এই ট্র্যাজিক ঘটনার ৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে খ্রিস্টীয় সমাজ এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয় মুসলিম আগ্রাসন রুখতে হবে। আজ শুধু বছরের এই একটি দিন নয়, সব দিনেই আমরা একে অপরকে বোকা বানাচ্ছি। মনোবিদরা বলেন, মানুষ জিনগত ভাবে প্রতিমুহূর্তে অবচেতন মনে অস্তিত্ব সংকটে ভোগে। বুদ্ধিমান মানুষ অন্যকে বোকা বানিয়ে আত্মসুখ অনুভব করেন। দোকানদার ওজন কম দেন। সেখানে ক্রেতা বোকা। ক্রেতা যখন বিক্রেতার অন্যমনস্কতার সুযোগে ছেঁড়া বা অচল টাকা বিক্রেতাকে গছিয়ে দেয় তখন বিক্রেতা বোকা। বাস, ট্রাম বা ট্রেনের টিকিট না কেটে যদি ঘুরে আসি তখন আমরা চালাক।
ট্যাক্সিওলা যখন মিটারের কারচুপি করে বা শহরের নতুন অতিথিকে দুনিয়া ঘুরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয় তখন প্যাসেঞ্জার বোকা। আবার গলির মোড়ে ট্যাক্সি থামিয়ে আমরা যখন ন দু এগারো হই তখন ট্যাক্সিচালক বোকা।

আমরা প্রেমে যখন ঠকাই তখন অপরপক্ষ বোকা। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে যখন ভোট দিয়ে জেতাই সেই পছন্দের জয়ী প্রার্থী দল বদলে আমার অপছন্দের দলে চলে যায় তখন আমরা বোকা। সুতরাং বোকা বানানোর মধ্যে একটা তৃপ্তি, মজা পাওয়া আমাদের জীবন যুদ্ধে না পাওয়া অতৃপ্তি কে কিছুটা ভুলিয়ে দেয়। সে যাই হোক ,আসলে ১ এপ্রিল মোটেই এপ্রিল ফুল হিসেবে মজার দিন নয়। বিশ্বাসের অমর্যাদার দিন। বিশ্বাসঘাতকতার দিন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *