Press "Enter" to skip to content

১৯২৬ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব ছিলেন- অমিয় চক্রবর্তী…….

——জন্মদিনের শ্রদ্ধাঃ অমিয় চক্রবর্তী—– বাবলু ভট্টাচার্য: ঢাকা, বাংলা কবিতার আধুনিকতার পথিকৃৎ পঞ্চপান্ডবদের অন্যতম অমিয় চক্রবর্তী। তিনি ১৯২৬ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব ছিলেন ৷ কবির পিতা দ্বিজেশচন্দ্র চক্রবর্তী আসামের গৌরীপুর রাজ্যের দেওয়ান ছিলেন। মা অনিন্দিতা দেবী ছিলেন সাহিত্যিক৷ ‘বঙ্গনারী’ ছদ্মনামে তিনি লিখতেন৷ সংস্কৃতে পারদর্শী ছিলেন৷ চার সন্তানকে সংস্কৃত শিখিয়েছিলেন নিজেই৷ বিশ্বনাগরিক অমিয় চক্রবর্তীর শৈশব কাটে গৌরীপুরে। পরে কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। অমিয় চক্রবর্তী ১৯২১ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজ) বি.এ পাশ করেন এবং ১৯২৬ সালে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ করেন।

শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লেখেন৷ ১৯২৬ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. ফিল ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৪০–৪৮ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন। এরপর ১৯৭৭ পর্যন্ত সপরিবারে বিদেশে বসবাস। এইসময় হাওয়ার্ড, বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক প্রাচ্য ধর্ম ও সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন। কবি ইয়েটস, জর্জ বার্নাড’শ, আইনস্টাইন, রবার্ট ফ্রস্ট, বরিস পাস্তেরনাক, সোয়াইটজর প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য লেখকদের সঙ্গে তাঁর ছিল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। বিশ্বের সবকটি মহাদেশে নানা কর্মসূত্রে তিনি ভ্রমণ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসাবে বক্তৃতা দিয়েছেন। অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা বিশ্বময়তাকে ধারণ করেছে। তাঁর কবিতায় আন্তর্জাতিক পরিবেশের অনেক ভৌগোলিক স্হানের নাম, বর্ণনা ও চিত্র লক্ষ্য করার মতো। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম। ক্ষীণকায়, মৃদুভাষী মানুষটি বিতর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতেন৷ আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতায় আবেগের সঙ্গে মিশে গেছে মননশীলতা।

অমিয় চক্রবর্তীর কবিতায় প্রগাঢ় দার্শনিকতার মধ্যে অন্তর্লীন হয়ে আছে প্রবল সময় ও সমাজ সচেতনতা। কাব্যগ্রন্হের সংখ্যা ১৫ টি। ইংরেজিতে ন’টি বই লিখেছেন। কবিতার জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ১৯৬০ সালে পেয়েছেন ইউনেস্কো পুরস্কার, ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশিকোত্তম ১৯৬৩ সালে এবং পদ্মভূষণ পান ১৯৭০ সালে।

শান্তিনিকেতনে অমিয় চক্রবর্তীর মৃত্যু হয় ১৯৮৬ সালের ১২ জুন।

অমিয় চক্রবর্তী ১৯০১ সালের আজকের দিনে (১০ এপ্রিল) হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে মামারবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.