Press "Enter" to skip to content

স্যার ক্রিস্টোফার ফ্র্যাঙ্ক কারান্ডিনি লি ‘শয়তান’ চরিত্রগুলোর দক্ষ অভিনেতা হলেও নিজে মোটেও পছন্দ করতেন না ‘শয়তান’ শব্দটিকে…………….

স্মরণ : স্যার ক্রিস্টোফার ফ্র্যাঙ্ক কারান্ডিনি লি

বাবলু ভট্টাচার্য: ঢাকা, ‘শয়তান’ চরিত্রগুলোর দক্ষ অভিনেতা হলেও নিজে মোটেও পছন্দ করতেন না ‘শয়তান’ শব্দটিকে। গত শতকের ৫০ থেকে ৭০ দশকের মধ্যে ব্রিটিশ এই অভিনেতা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য, স্টার ওয়ারস সিরিজের কাউন্ট ডকু এবং লর্ড অফ দ্য রিং সিরিজের সারুয়ান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতিমান।গমগমে, অথচ শ্রুতিমধুর কন্ঠস্বর এবং ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার সুঠাম দেহের অধিকারী এই তারকা ছিলেন নির্বাক চলচ্চিত্র যুগে অভিনয় করতে আসা সর্বশেষ অভিনেতা। নির্বাক যুগে হ্যামার কোম্পানির জন্য অভিনয় করা এই অভিনেতা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

পাঁচটি সিনেমায় ভয়ঙ্কর অপরাধী ফু মাঞ্চু, ১৯৭৪ সালে জেমস বন্ড সিরিজের ‘দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান’, এমনকি কয়েকটি সিনেমায় বিখ্যাত গোয়েন্দা শার্লক হোমসের চরিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। ২০০২ সালে ‘স্টার ওয়ার্স : এপিসোড টু- অ্যাটাক অব দ্য ক্লোনস’ এবং ২০০৫ সালে ‘স্টার ওয়ার্স : এপিসোড থ্রি– রিভেঞ্জ অব দ্য সিথ’ চলচ্চিত্রে খলচরিত্র কাউন্ট ডকুর চরিত্র রূপায়ন করেন তিনি। এরপর ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালে পিটার জ্যাকসনের বিখ্যাত ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিং’ ট্রিলজির ক্ষমতালোভী জাদুকর সারুয়ানের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ২০১২ ও ২০১৪ সালে ‘হবিট’ সিরিজের দু’টি সিনেমাতেও একই চরিত্রে রূপায়ন করেন তিনি।

২০১১ সালে মার্টিন স্করসিসের ‘হুগো’ এবং ২০১২ সালে টিম বার্টনের কমেডি সিনেমা ‘ডার্ক শ্যাডোজ’-এও অভিনয় করেন তিনি। ডার্ক শ্যাডোজে তার সহ অভিনেতা ছিলেন জনি ডেপ।১৯২২ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন ক্রিস্টোফার ফ্র্যাঙ্ক কারার্ডিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের রয়াল এয়ার ফোর্সের হয়ে কাজ করা ক্রিস্টোফার এক ভাইয়ের পরামর্শে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেন। ১৯৪৭ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পুরো অভিনয় জীবনে দুইশত র বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অনেক খল চরিত্রে অভিনয় করলেও ‘ড্রাকুলা’ চরিত্রের সঙ্গেই ক্রিস্টোফারের নামটি উচ্চারিত হয় সবচেয়ে বেশি। ক্রিস্টোফার এ চরিত্রটিকে দানবীয় এবং ভয়ঙ্কর করে ফুটিয়ে তোলেন।

এ চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন ‘ড্রাকুলা’ (১৯৫৮), ‘ড্রাকুলা: প্রিন্স অব ডার্কনেস’ (১৯৬৬), ‘ড্রাকুলা হ্যাজ রিজেন ফ্রম দ্য গ্রেভ’ (১৯৬৮), ‘কাউন্ট ড্রাকুলা’ (১৯৭০), ‘টেস্ট দি ব্লাড অব ড্রাকুলা’ (১৯৭০), ‘স্কারস অব ড্রাকুলা’ (১৯৭০), ‘ড্রাকুলা এ ডি ১৯৭২’ (১৯৭২), ‘দি স্যাটানিক রাইটস অব ড্রাকুলা’ (১৯৭৩) ও ‘ড্রাকুলা অ্যান্ড সান’ (১৯৭৬) সিনেমায়।

এসব খল চরিত্রগুলোতে এক ধরনের করুণার ভাব ফুটিয়ে তুলতেন লি— যাকে তিনি নিজে বলতেন ‘শয়তানের একাকিত্ব’।

স্যার ক্রিস্টোফার ফ্র্যাঙ্ক কারান্ডিনি লি ২০১৫ সালের আজকের দিনে (১২ জুন) মৃত্যুবরণ করেন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.