Press "Enter" to skip to content

শচীন দেব বর্মনের পরিচালনায় কণ্ঠ দিয়েছেন। কে নেই সেই তালিকায়? লতা, গীতা, মহম্মদ রফি, মান্না দে, আশা ভোঁসলে, মুকেশ বা তালাত মহমুদ- তাবড় তাবড় শিল্পীরা কাজ করেছেন শচীনকর্তার সঙ্গে…..।

Spread the love

স্মরণ : শ চী ন দে ব ব র্ম ণ

বাবলু ভট্টাচার্য : ‘শোনো গো দখিনও হাওয়া’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু’ বা ‘বর্ণে গন্ধে ছন্দে…’, কয়েক যুগ আগে তৈরি এই সমস্ত গান এখনও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। আট থেকে আশি, শচীন দেব বর্মনের নাম শোনেনি এমন হয় না, তা সে যে বয়সেরই হোক না কেন!

১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্ম নেন শচীন দেব বর্মন। এমন এক সঙ্গীত পরিচালক যিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতীয় লোকসঙ্গীতের মেলবন্ধনে বুঁদ করিয়েছিলেন আপামর দেশবাসীকে।

তিনি একাধারে সঙ্গীত পরিচালক ও গায়কও ছিলেন। প্রায় ১০০টিরও বেশি ছবির গানের অ্যালবাম বাস্তব রূপ পেয়েছে তাঁরই সৃজনশীলতার জোরে।

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সারির কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পীরা শচীন দেব বর্মনের পরিচালনায় কণ্ঠ দিয়েছেন। কে নেই সেই তালিকায়? লতা, গীতা, মহম্মদ রফি, মান্না দে, আশা ভোঁসলে, মুকেশ বা তালাত মহমুদ- তাবড় তাবড় শিল্পীরা কাজ করেছেন শচীনকর্তার সঙ্গে।

ত্রিপুরার আগরতলায় ‘কুমার বোর্ডিং স্কুল’-এ পড়াশোনা শুরু শচীন দেব বর্মনের। পরে শিল্পীর বাবা তাঁকে কুমিল্লার ‘ইউসুফ স্কুল’-এ ভর্তি করান। এরপর পঞ্চম শ্রেণি থেকে পড়াশোনা ‘কুমিল্লা জিলা স্কুল’-এ। ১৯২০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাশ করেন তিনি।

কুমিল্লার ‘ভিক্টোরিয়া কলেজ’ থেকে ১৯২২ সালে আইএ পাশ করেন, এবং ১৯২৪ সালে বিএ। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাকোত্তর পড়ার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু পড়াশোনা আর শেষ করেননি শচীন দেব।

সঙ্গীতশিল্পী কে সি দে-র তত্ত্বাবধানে সঙ্গীতের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেন শচীন দেব বর্মন। এরপর ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, উস্তাদ বাদল খান ও উস্তাদ আলাউদ্দিন খানের অধীনে সঙ্গীতের তালিম নেন।

১৯৩৭ সালে বাংলা সিনেমার হাত ধরে নিজের কর্মজীবনের সূচনা করেন শচীন দেব বর্মন। ১৯৪০ সালে শশধর মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে মুম্বইয়ে থাকা শুরু করেন তিনি।

‘মাটির ঘর’, ‘শিকারী’, ‘দিল কি রানি’, ‘মিস ইন্ডিয়া’, ‘তেরে ঘর কে সামনে’, ‘ক্যায়সে কহুঁ’, ‘জয়তী’, ‘প্রেম পূজারী’ ইত্যাদি হচ্ছে তাঁর কর্মজীবনের কাল্ট অজস্র কাজের মধ্যে অন্যতম কিছু ছবির নাম।

‘ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর অ্যাওয়ার্ড’, ‘সঙ্গীত নাটক অ্যাকডেমি অ্যাওয়ার্ড’, ‘এশিয়া ফিল্ম সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘পদ্মশ্রী’র মতো বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত হন তিনি।

শচীন দেব বর্মণ ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে (৩১ অক্টো) মুম্বাইতে মৃত্যুবরণ করেন।

More from EntertainmentMore posts in Entertainment »
More from InternationalMore posts in International »
More from MusicMore posts in Music »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *