Press "Enter" to skip to content

মেদিনীপুর শহরে নবকুঞ্জ উৎসব

গোপাল দেবনাথ: মেদিনীপুর, শ্রীচৈতন্যদেব নবদ্বীপ ধাম থেকে পুরীর জগন্নাথদেব দর্শন-এর উদ্দেশ্যে সংকীর্তন যাত্রা সহযোগে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমির উপর দিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। সেই সংকীর্তন যাত্রাকে স্মরণ করে ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরে নবকুঞ্জ উৎসব কমিটি বিগত সাত বছরের ঐতিহ্যকে বজায় রেখে অষ্টমবর্ষে উদ্‌যাপন করল ‘নবকুঞ্জ উৎসব’। বিগত ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ১১ দিন ব্যাপী এই নবকুঞ্জ উৎসবের উদ্বোধন করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘ, মেদিনীপুর শাখার অধ্যক্ষ স্বামী মিলনানন্দ মহারাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর সদর মহকুমার মহকুমা শাসক দীননারাযণ ঘোষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) উত্তম অধিকারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নবকুঞ্জ উৎসব কমিটির সভাপতি, উদ্যোগপতি মদনমোহন মাইতি ও সম্পাদক, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী মধুসূদন ভূঞ্যা। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবন-এর প্রধান শিক্ষক স্বামী জয়েশানন্দ মহারাজ। তৃতীয় দিনের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত যশস্বী শিক্ষক ও চিকিৎসক ডাঃ হৃষিকেশ দে ও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত। চতুর্থ দিনের অধিবেশনের উদ্বোধন করেন জলপাইগুড়ি উদ্যান পালন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা, ড. প্রভাত কারক। ঐদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌমেন খাঁন। পঞ্চম দিনের অধিবেশনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর রয়েল একাডেমীর অধ্যক্ষ সত্যব্রত দোলই ও পালপাড়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুধীরচন্দ্র মেইকাপ। ষষ্ঠ দিনের অধিবেশন উদ্বোধন করেন গুরুকুল পাঠশালার অধ্যক্ষ মৃত্যুঞ্জয় জানা। ঐদিন প্রধান অতিথি ও বক্তা ছিলেন কুমারী উপাসনা জানা, যিনি ‘জনশিক্ষা ও চরিত্র গঠন আন্দোলন’ বিষয়ে একটি মনোগ্রাহী বক্তব্য পরিবেশন করেন। ঐদিনের অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাড়াজোল কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক অজিত কুমার বেরা। সপ্তম দিনের অধিবেশন উদ্বোধন করেন যশস্বী অস্থিবিদ্যা বিশারদ ডাঃ গোলক বিহারী মাজি। ঐদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হিজলী কলেজের অধ্যক্ষ (ড.) আশিষ কুমার দণ্ডপাট। ঐদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব অধ্যাপিকা ড. সত্যবতী গিরি, যিনি ‘সমাজ ক্ষেত্রে শ্রীচৈতন্যের অবদান’ শীর্ষক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অষ্টম দিনের অধিবেশনের উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাঞ্চন ধাড়া। ঐদিন প্রধান অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপৎ সিং কলেজ-এর অধ্যাপিকা (ড.) দেবযানী ভৌমিক চক্রবর্তী, যিনি ‘সমাজ ও সাহিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাব’ শীর্ষক বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি-পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রবীন্দ্র গবেষক ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী, যিনি ‘শ্রীচৈতন্যদেবের দর্শন ও তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক বক্তৃতা করেন। নবম দিনের অধিবেশনের উদ্বোধক ছিলেন ডাঃ রবি হেমব্রম ও প্রধান অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব অধ্যাপক ড. বরুণ কুমার চক্রবর্তী, যিনি ‘চৈতন্যচর্চার প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ে আলোচনা করেন। দশম দিনের অধিবেশনের উদ্বোধক ছিলেন বিভাগীয় বনাধিকারিক সন্দীপ কুমার বেরওয়াল। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মেন্টর প্রণব বসু। এদিনের বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, আনন্দবাজার পত্রিকার লেখক দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ‘নির্মল শ্রীচৈতন্যপ্রেমে কীর্তনের প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ে বক্তৃতা করেন। বিভিন্ন দিনে পালা কীর্তন এ অংশগ্রহণ করেনঃ
গোপালকৃষ্ণ পাল ও তাঁর সম্প্রদায়, মধ্যমগ্রাম; জগন্নাথ ঘোষ ও তাঁর সম্প্রদায়, বসিরহাট; ভজনদাস বৈরাগ্য ও তাঁর সম্প্রদায়, বর্ধমান; শম্পা গোস্বামী ও তাঁর সম্প্রদায়, উত্তর ২৪ পরগণা; শ্রী শ্যামসুন্দর দাস ও তাঁর সম্প্রদায়, তমলুক; মনোরঞ্জন চক্রবর্তী ও তাঁর সম্প্রদায়, পুরুলিয়া; শ্রী পদ্মপলাশ হালদার ও তাঁর সম্প্রদায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা; শ্রী পলাশ সরকার ও তাঁর সম্প্রদায়, নদীয়া; শ্রী কৃষ্ণ পাল ও তাঁর সম্প্রদায়, কলকাতা।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সমাপ্তি বক্তব্য রাখেন নবকুঞ্জ উৎসব কমিটির সম্পাদক মধুসূদন ভূঁঞ্যা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেনঃ “ভারতবর্ষের অন্যতম উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক মহামানব শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। যিনি সারা বিশ্বকে এই পথ দেখিয়েছেন যে, সত্যাগ্রহই একমাত্র পথ। প্রকৃতপক্ষে শ্রীচৈতন্যদেব বাংলার নবজাগরণের প্রথম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। শ্রীচৈতন্যের সমাজ দর্শন ও আধ্যাত্মিক দর্শন আপামর জনসাধারণের মধ্যে প্রচারের লক্ষ্যে এই নবকুঞ্জ উৎসব। এই নবকুঞ্জ উৎসবে যাঁরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের সবার উদ্দেশ্যে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি”। ঐদিন নবকুঞ্জ উৎসবের স্মরণিকা ‘তুলসী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সবশেষে দধিমঙ্গল ও আবির খেলার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি সূচিত হয়।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.