Press "Enter" to skip to content

মৃত্যুর পরেও শান্তি নেই! অচল রেশন কার্ড নিয়ে হয়রানি মঙ্গলকোটে

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন- সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক হয়রানি কমাতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন জনহিতকর উদ্যোগ নিয়েছে। কখনো রাতে প্রত্যন্ত গ্রামে নিশিযাপন করছেন জেলাপ্রশাসনের আধিকারিকরা। আবার কখনো বা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সংযোগ পেতে অভাব-অভিযোগ শুনতে ‘দিদি কে বলো’ কর্মসূচি চলছে। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে চরম প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ উঠলো মঙ্গলকোটে। গত ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলকোট বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এই প্রশাসনিক হয়রানি নিয়ে। সেইসাথে মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে অচল রেশন কার্ড এর আবশ্যিকতা কিনা সেই বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা আছে কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। অচল রেশন কার্ড এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যা প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে সদুত্তর মেলেনি, এমনকি কলকাতা আইনজীবীদের একাংশের কাছে যেটা বেআইনী বলে দাবি করা হয়েছে। হ্যাঁ, কখনো শুনেছেন কোন সরকারি পরিষেবা পেতে গেলে অচল রেশন কার্ড এর আবশ্যিক প্রয়োজনীতা আছে? কেননা সচল রেশন কার্ডই তো কোন কিছু সরকারি ক্ষেত্রে দরকার পড়ে। সবথেকে বড় ব্যাপার, অচল রেশন কার্ড না দিলে চালু (সচল) রেশন কার্ড মেলেনা। পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসনের অদ্ভুত নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন দেখা গেছে মঙ্গলকোটে। তবে মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে কোন সরকারি গাইডলাইন (অচল রেশনকার্ড এর আবশ্যিকতা) আছে কিনা, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে। স্থানীয় সুত্রে প্রকাশ, গত ১০ নভেম্বর মঙ্গলকোটের গোতিস্টা গ্রামে নিজ বাসভবনে বয়সজনিত কারণে মারা যান পার্বতীচরণ ঘোষ মহাশয়। মৃত্যুর সাতদিন পর অর্থাৎ ১৮ নভেম্বর মৃতের পুত্র সুকান্ত ঘোষ প্রয়াত বাবার মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে লিখিত আবেদনপত্র নিয়ে যান সংশ্লিষ্ট গোতিস্টা পঞ্চায়েতের অফিসে। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ শংসাপত্র পেতে নিদিষ্ট ফর্ম দেয় আবেদনকারী কে।যেখানে রেশন কার্ড জমা দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এতটা অবধি সব ঠিকঠাক ছিল।আবেদনকারীর অভিযোগ – “প্রয়াত বাবার পুরাতন রেশন কার্ড না দিলে মৃত্যুর শংসাপত্র মিলবেনা বলে জানিয়ে দেন গ্রাম প্রধান”। এরপরে এই আবেদনকারী স্থানীয় রেশন ডিলারের কাছে যান এইরুপ রেশন কার্ডের নিয়মাবলি জানতে। ওই রেশন ডিলার জানিয়েছেন – ” সরকারি রেশন ভর্তুকিতে দূর্নীতি রুখতে সচল অর্থাৎ বর্তমান রেশন কার্ড টি জমা দিতে হয় আবেদনকারী কে, এর বাইরে কিছুই জানিনা “। গত ৯ ডিসেম্বর ওই আবেদনকারী মঙ্গলকোট ব্লক প্রশাসনের ফুড ইন্সপেক্টরের কাছে যান মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে অচল রেশন কার্ড লাগে কিনা, তা জানতে। মঙ্গলকোট ফুড ইন্সপেক্টর সরকারি কোন আদেশনামা দেখাতে না পারলেও বলে দেন – লাগবেই লাগবে পুরাতন রেশন কার্ড টি,সেইসাথে পুরাতন রেশন কার্ড হারিয়ে গেছে বলে স্থানীয় থানায় জেনারেল ডাইরি করার পরামর্শ দেন । রাজ্য খাদ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানান – ” আমরা যখন নুতন রেশন কার্ড দিই গ্রাহকদের, তখন পুরাতন রেশন কার্ডটি বাজেয়াপ্ত করে নেয় স্থানীয় খাদ্য দপ্তরের লোকজন। তাছাড়া মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে সচল রেশন কার্ডই লাগে, পুরাতন টি নয় “। মঙ্গলকোট বিডিও মুস্তাক আহমেদ বলেন – ” এই বিষয়ে আমার জানা নেই, স্থানীয় খাদ্য দপ্তর বলতে পারবে বিষয়টি “। অনুরূপভাবে কাটোয়া মহকুমাশাসক সৌমেন পাল জানান – ” মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে অচল রেশন কার্ড লাগে কি লাগেনা সেটা ফুড ডিপার্টমেন্ট ভালো বলতে পারবে “। বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কলকাতা হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী আনসার মন্ডল জানান – ” মৃত্যু ব্যক্তির রেশন সামগ্রী কেউ নিতে না পারে, সেজন্য নুতন রেশন কার্ড লাগে। বাতিল রেশন কার্ড চাওয়া টা একপর্যায়ে প্রশাসনিক হয়রানি “। গত ১১ ডিসেম্বর পঞ্চায়েত প্রধান থেকে রেশন ডিলার। আবার ব্লক খাদ্য দপ্তর থেকে বিডিও অফিস অবধি প্রশাসনিক হয়রানি নিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন মঙ্গলকোটের গোতিস্টা গ্রামে সুকান্ত ঘোষ নামে এক বাসিন্দা। জানা গেছে, অভিযোগকারী পেশায় স্থানীয় এক পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদক, তাঁর প্রকাশিত খবরে রুস্ট স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসনের একাংশ। তাই এইরুপ হয়রানি বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ।মঙ্গলকোট ব্লক অফিসের মূল গেটে হেল্ফ ডেস্কে জ্বলজ্বল করছে – জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে সপ্তাহের প্রতি সোমবার এবং বুধবার আবেদন জানান!

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *