Press "Enter" to skip to content

মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল২০২০

Spread the love

সুজিত চট্টোপাধ্যায়/গোপাল দেবনাথ:কলকাতা,১৫ইজানুয়ারি ২০২০ রিয়াজ – উ স – সালাতিন গ্রন্থের লেখক গোলাম হোসেন লিখেছেন, ষোলো শতকের শেষদিকে রচিত ভবিষ্য ব্রহ্মান্ড খণ্ডে ভাগিরথী তীরে এক দ্বীপের বর্ননা আছে। মাকসুদ খান নামে এক ব্যবসায়ী এলাকার উন্নতি সাধন করেন। তার নামেই এলাকার নামকরণ হয় মখসুসাদাবাদ। ১৭০৪ সালে বাংলার দেওয়ান মুর্শিদকুলি খান ঢাকা থেকে দেওয়ানি নিয়ে আসেন মুর্শিদাবাদে। পরবর্তীকালে ১৭১৬ সালে অ বিভক্ত বাংলার রাজধানী হয় মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদকুলি খানের নামেই এলাকার নতুন পরিচয় হয় মুর্শিদাবাদ। মানব সভ্যতার বিবর্তনের সূত্র ভারতের বিভিন্ন স্থানের মানুষের আগমন ঘটে মুর্শিদাবাদে। বাংলার জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ একদিকে যেমন রাজঘরণার ইতিহাসে সমৃদ্ধ, অন্যদিকে কৃষ্টি ও সম্পদেও মুর্শিদাবাদ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন। ২০১০ সালে স্থাপিত মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভলপমেন্ট সোসাইটি গড়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের স্হান মাহাত্ম্যকে রক্ষার স্বার্থে। তারই পদক্ষেপ মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল ২০২০।
মঙ্গলবার কলকাতার প্রেসক্লাবে সংগঠনের তরফে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হলেন সভাপতি প্রদীপ চোপড়া, সহসভাপতি সন্দীপ নওলাখা ও সম্পাদক দর্শন দুধোরিয়া। হিন্দু – মুসলিম – বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের সাম্প্রদায়িক ঐক্যের এক মিলনস্হলকে ঘিরে ২৪-২৫- ও ২৬ জানুয়ারি তিনদিন ব্যাপী হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ দর্শনীয় স্হানগুলি পরিক্রমার সঙ্গে সঙ্গে থাকছে পেটপুজোর এলাহি ব্যবস্থা। থাকবে আম মস্তানি শরবৎ, কাচ্চি আম কি পুলাও, মটর কা ফুট্টাপুরি, পানিফল কা সামোসা। টেরাকোটা শুধু বিষ্ণুপুর নয়, মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জের মন্দিরেও রয়েছে টেরাকোটার স্থাপত্যের নিদর্শন। উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি রাজস্থান থেকে আসা এক সম্প্রদায় যারা আজ অবাঙালি হয়েও বাংলার মাটিকে মাতৃভূমির শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দিয়ে বাঙালি হয়ে গেছেন এমন সেওহরালি সম্প্রদায়ের খানা পরিবেশন হবে। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে এই সংগঠন চায় মুর্শিদাবাদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলির সংরক্ষণ, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে অহিংসার মন্ত্রে দীক্ষিত করার কর্মযজ্ঞ পালন করতে সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করা, নতুন কর্মোদ্যোগী গড়ে তুলতে বিশেষ শিক্ষণ শিবির পরিচালনা করা। স্বাস্থ্যই সম্পদ বিষয়টিকে মনে রেখে আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলা। মুর্শিদাবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কর্মযজ্ঞ করতে চায় মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভলপমেন্ট সোসাইটি ।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *