Press "Enter" to skip to content

ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে অরবিন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন….৷

Spread the love

জন্মদিনে স্মরণঃ ঋ ষি অ র বি ন্দ

বাবলু ভট্টাচার্য : সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতির এক অন্যতম পুরোধা, স্বদেশী আন্দোলনে উত্তাল বঙ্গদেশে যাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল, তিনি অরবিন্দ ঘোষ।

জন্ম কলকাতায় হলেও তিনি ছিলেন হুগলি জেলার কোন্নগরের প্রাচীন ঘোষ বংশের সুযোগ্য বংশধর। বংশ পরম্পরায় তাঁদের পরিবার ছিল খুবই সুশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত।

অরবিন্দের বাবা কৃষ্ণধন ঘোষ ছিলেন রংপুর জেলার জেলা সার্জন। মা স্বর্ণলতা দেবী ছিলেন ব্রাহ্ম আন্দোলনের নেতা রাজনারায়ণ বসুর কন্যা।

মাতামহর কাছ থেকেই সমাজ সংস্কারের প্রাথমিক পাঠ পেয়েছিলেন অরবিন্দ। যার মূল ভিত্তি ছিল জাতপাত ব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাত, নারী-পুরুষ সমানাধিকার।

পাশ্চাত্য ভাবধারায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে পিতা অরবিন্দকে প্রথমে দার্জিলিঙে ইংরেজি স্কুলে এবং পরে বিলেতে সেন্ট পলস স্কুলে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি কেমব্রিজ থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কিংস কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি প্রথম ভারতীয় হিসাবে ট্রাইপস পাশ করেন৷

১৮৯০ সালে অরবিন্দ ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, কিন্তু শিক্ষানবিশ কালে অশ্বচালনা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হন।

বিলেতে থাকা অবস্থায় অরবিন্দ সংবাদপত্রের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ অপশাসনের কথা জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তখন থেকেই তাঁর অন্তরে ভারতকে বিদেশি শাসনমুক্ত করার বাসনা জাগ্রত হয়।

তিনি ১৮৯৩ সালে দেশে ফিরে বরোদা এস্টেটে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯০০ সালে বরোদা কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক এবং ১৯০৪ সালে অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। অরবিন্দ বরোদায় বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠনের সংস্পর্শে আসেন এবং অনুজ বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে বিপ্লবীমন্ত্রে দীক্ষিত করে ওইরূপ দল গঠনের জন্য বাংলায় প্রেরণ করেন।

অরবিন্দের রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মপন্থার তিনটি দিক ছিল- এক. গুপ্ত বৈপ্লবিক প্রচারকার্য চালানো এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রস্তুতি হিসেবে সংগঠন গড়ে তোলা৷ দুই. সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে প্রচারকার্য চালানো এবং তিন. অসহযোগ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করা।

ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে অরবিন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন৷ ১৯০৫ সালে বরোদার চাকরি ছেড়ে তিনি বাংলায় আসেন এবং জাতীয় কংগ্রেসের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন৷ ১৯০৬ সালে জাতীয় কলেজের (বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) প্রথম অধ্যক্ষ ও ‘বন্দেমাতরম’ ইংরেজি সংবাদপত্রের সম্পাদক হন৷

পাঁচ বছর সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত থেকে তিনি কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী নেতা ও বিপ্লবী দলের নেপথ্য নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন৷ ১৯০৮ সালের ৩ মে গ্রেফতার হন আলিপুর বোমা মামলায়৷ ১৯০৯ সালের ৬ মে মুক্তি পান নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে৷ জেলে থাকা অবস্থায় অরবিন্দের জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়৷

অরবিন্দ আধ্যাত্মিক সাধনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ১৯১০ সালে রাজনীতি ছেড়ে পন্ডিচেরী গমন করেন এবং সনাতন ধর্ম প্রচার ও আশ্রম প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেন৷ বিপ্লবী অরবিন্দ ঋষি অরবিন্দে পরিণত হন৷ তিনি ধর্ম, দর্শন ও ভারতীয় সংস্কৃতির ওপর বহু গ্রন্থ রচনা করেন৷ তাঁর ৩৮টি গ্রন্থের মধ্যে ৬টি বাংলা গ্রন্থ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ– The Life Divine, Savitri, Essays on Gita, The age of kalidasa, পন্ডিচেরীর পত্র, ধর্ম ও জাতীয়তা, কারাকাহিনী, ভারতের নবজন্ম প্রভৃতি৷

১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর ঋষি শ্রী অরবিন্দের মহাপ্রয়াণ হয় পন্ডিচেরীর আশ্রমে৷

অরবিন্দ ঘোষ ১৮৭২ সালের আজকের দিনে (১৫ আগস্ট) কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

More from BooksMore posts in Books »
More from GeneralMore posts in General »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *