Press "Enter" to skip to content

বীরেন্দ্রকৃষ্ণের স্মৃতি এতই প্রখর ছিল যে মাত্র আট বছর বয়সে চণ্ডীপাঠ করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন….।

Spread the love

জন্মদিনে স্মরণঃ বী রে ন্দ্র কৃ ষ্ণ ভ দ্র

বাবলু ভট্টাচার্য : এখনও তাঁকে মানুষ চেনে শুধুই মহালয়া দিয়ে! অথচ অসীম প্রতিভাধর মানুষটির অনায়াস যাতায়াত ছিল কত বিচিত্র ক্ষেত্রে! যাঁর শেষবেলা কেটেছে সতীর্থদের অনাদরে, অবহেলায়, অপমানে। তিনি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।

ঠাকুমা যোগমায়া দেবীর কাছেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণের সংস্কৃত শেখা। সেখান থেকেই বোধহয় ‘চণ্ডীপাঠ’-এ মন গিয়েছিল তাঁর। স্মৃতি এতই প্রখর ছিল যে আট বছর বয়সে চণ্ডীপাঠ করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন।

ঠাকুমাই শেক্সপিয়ার আর গিরিশচন্দ্র-এর নাটক পড়ে পড়ে শোনাতেন ছোট্ট বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে। ১৯২৮ সালে স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। তারই ফাঁকে ফাঁকে চলেছিল কম্বুলিয়াটোলায় ‘চিত্রা সংসদ’ ও সাহিত্যিসাধক নলিনীরঞ্জন পণ্ডিত প্রতিষ্ঠিত ‘অর্ধেন্দু নাট্য পাঠাগার’-এ গানবাজনা ও অভিনয় চর্চা।

১৯২৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ের সদর দফতরে যোগ দিয়েছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ, কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকত ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসের বেতার কেন্দ্রে। চাকরি তো করতেন, কিন্তু যেই না দুপুর গড়াল, টিফিনের সময় বা বিকেলে ছুটির পরে, তিনি পৌঁছে যেতেন রেডিয়োর বন্ধু-আড্ডায়।

সেখানে তখন জমাটি আসর। যার মধ্যমণি ছিলেন প্রেমাঙ্কুর আতর্থী। সেই আসরও মাত করতেন বীরেনবাবু নিজের কথা দিয়ে। খুব সুন্দর করে কথা বলতেন। এই আসর থেকে ধীরে ধীরে বেতার নাটকে সুযোগ পেয়ে গেলেন তিনি। প্রথমবারেই তাঁর পরিচালনায় নাটকে অভিনয় করলেন বাণীকুমার, পঙ্কজ মল্লিক, পশুপতি চট্টোপাধ্যায়।

১৯২৮-এর ২৬ অগস্ট বেতারে সম্প্রচার হল ‘চিকিৎসা সংকট’ (রচনা: পরশুরাম)। সেই সময় ঘটল এক যুগান্তকারী ঘটনা! স্টেশন ডিরেক্টর তখন নৃপেন মজুমদার। তাঁর ডাকেই ১৯২৮-এ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ রেডিয়োয় সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন। তার পর থেকে কী-না করেছেন রেডিয়োর জন্য।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণের সর্বাধিক পরিচিতি তাঁর মহিষাসুরমর্দিনী নামক বেতার সঙ্গীতালেখ্যটির জন্য। ১৯৩১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মহালয়ার দিন ভোর চারটের সময় কলকাতার আকাশবাণী থেকে এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ এই অনুষ্ঠানের ভাষ্য ও শ্লোকপাঠ করেছেন।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ একাধিক নাটকে অভিনয় ও পরিচালনার কাজও করেন। ১৯৫৫ সালে ‘নিষিদ্ধ ফল’ নামে একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও রচনা করেছিলেন তিনি।

তাঁর পিতা কালীকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন বহুভাষাবিদ। তিনি ১৪টি ভাষা জানতেন। নিম্ন আদালতে দো-ভাষীর কাজ করতেন তিনি। পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যের জগতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। কালীকৃষ্ণ পুলিশ কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী কালীচরণ ঘোষের দ্বিতীয় সন্তান সরলাবালা দেবীকে বিবাহ করেন। ১৯২৭ সালে তিনি ‘রায়বাহাদুর’ খেতাব পান।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ১৯০৫ সালের আজকের দিনে (৪ অগস্ট) উত্তর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

More from CultureMore posts in Culture »
More from EntertainmentMore posts in Entertainment »
More from InternationalMore posts in International »
More from MusicMore posts in Music »
More from Theater/DramaMore posts in Theater/Drama »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *