Press "Enter" to skip to content

বিধাননগর পৌরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানবদরদী জননেতা মনীষ মুখার্জী…

Spread the love

গোপাল দেবনাথ/সুদীপ্ত সেন: কলকাতা, ২মে ২০২০। বিধাননগর পৌরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ২নম্বর বোরো চেয়ারম্যান মনীষ মুখার্জী। সব সময় মানুষের পাশে থাকেন যে কোনো প্রয়োজনে এই পৌরপিতা কে সব সময় পাশে পাওয়া যায়। এলাকার মানুষ বলেন তিনি কোনো রং দেখে কাজ করেন না। ওনার জনসেবামূলক কাজ নিজের এলাকার ভোটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি ওনার হৃদয় স্পর্শ করার মতো ঘটনা যেটা মানুষের জানা দরকার বলে আমার মনে হয়। বর্তমান সময়ে করোনার থাবায় দুঃস্থ মানুষের হাতে যেমন প্রতি নিয়ত তুলে দিচ্ছেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ঠিক তেমনই লকডাউনে অন্য অঞ্চলের বিপদে আটকে পড়া মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। দিনটা ছিল ২৪ শে মার্চ, সবে লকডাউন শুরু হয়েছে। সন্ধ্যেবেলা সাড়ে আটটা নাগাদ এই পৌরপিতার মোবাইলে একটা ফোন এলো, অচেনা নম্বর থেকে। কাজের চাপে প্রথমে ফোন না ধরলেও পরপর দুই-তিনবার ফোন আসছে দেখে ফোনটা ধরলেন। জানা গেল বাঁকুড়া জেলা থেকে এক ভদ্রমহিলা – তাঁর অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক স্বামী এবং মানসিক ভারসাম্যহীন একটি বাচ্চাকে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন এখানকার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য।

যেহেতু দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ব‍্যাপার আছে, তাই ওনারা কেষ্টপুরের তালবাগান, রবীন্দ্রপল্লী, প্রগতি সংঘ ক্লাবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। ওই সময়ে হঠাৎ শুরু হলো লকডাউন ওনারা আটকে গেলেন, শুধু তাই নয় এই পরিস্থিতির মধ‍্যেই ভদ্রমহিলা জানতে পারলেন যে তিনি গর্ভবতী। চরম আর্থিক দুরাবস্থা, হাতে অর্থ বা নূন্যতম খাদ্য সামগ্রীও নেই। এই শহর কলকাতায় পরিচিতও কেউ নেই যার কাছে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।

এমতাবস্থায়, তিনি চরম দূর্দশা এবং খাদ্য সঙ্কটের মধ্যে পড়ে, আশেপাশের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জনদরদী পৌরপিতা মনীষ মুখার্জীর কথা জানতে পেরে, মোবাইল নম্বর জোগাড় করে ফোন করেন।সব কথা শুনে এই পৌরপিতা ওনার নাম এবং কোন বাড়িতে ভাড়া আছেন জেনে নিয়ে বললেন ঠিক আছে আমি দেখছি। এরপর উনি ওনার বিশ্বস্ত দুই – তিন জনকে পাঠালেন ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে এবং জানতে পারলেন যে পুরো ঘটনাটাই সত্যি। শুধু তাই নয় ওই পরিবারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সাথে সাথে এই পৌরপিতা দোকান থেকে কিছু শুকনো খাবার, দুধ, জল পাঠিয়ে দিলেন রাত্রিটুকু যাতে চলে যায় সেই মতো । পরেরদিন সকালেই একটা পরিবারের চলার জন্য যাবতীয় যা যা প্রয়োজন, জ্বালানি সহ সবকিছু পাঠিয়ে দিলেন ওনার বাড়িতে। এখানেই শেষ নয়, স্থানীয় ডাক্তারবাবু শ্রী তপন চ‍্যাটার্জীর কাছে বিনামূল্যে ওই ভদ্রমহিলার চিকিৎসার সাথে সাথে রক্ত পরীক্ষা ও ইউ এস জি এবং ওষুধেরও ব্যবস্থা করে দিলেন। শুধু তাই নয় যে বাড়িতে ওই ভদ্রমহিলা পরিবারসহ ভাড়া আছেন, বাড়ির বাড়িওয়ালাকেও জানিয়ে দিলেন ওনার থেকে যেন ভাড়া না নেওয়া হয়, ভাড়া এই পৌরপিতাই পাঠিয়ে দেবেন।সেইদিন থেকে আজ অবধি পৌরপিতা নিঃশব্দে সবরকম সহযোগিতা করে চলেছেন ওই পরিবারের মানুষগুলোর জন্য। এই রকম একটা ঘটনা নয়, অসংখ্য পরিবারের পাশে মনীষবাবু এইভাবে দাঁড়ান।

এই রাজ্যের অনেক নেতা ও নেত্রী মানুষের সেবা করেন। কিন্তু বলতে বাধা নেই মনীষ মুখার্জীর মতো এরকম মানুষ খুব বেশি দেখা যায়না। যিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা পরিবার – যাঁদের তিনি এখনো অবধি দেখেননি, কেবলমাত্র ফোনে কথা বলা ছাড়া, যাঁরা এখানকার ভোটারও নয়, তাঁদের জন্য এত ভাবনা! এই লকডাউনে সমস্ত পৌরপিতা যখন নিজের এলাকার করোনা মোকাবিলা নিয়ে ব্যস্ত সেই সময় এই রকম নিজ উদ্যোগে পরিষেবা দেওয়া এক কথায় অনবদ্য।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *