Press "Enter" to skip to content

বহুগুণে সমৃদ্ধ ও বহু ফল কে টেক্কা দিতে পারে কেওড়াফল……..

Spread the love

——————কেওড়াফল——————
সুস্মিতা দাস: ১৪ জুন ২০২০। সুন্দরবন আমাদের কাছে খুব পরিচিত একটি ভ্রমণ স্থান। সুন্দরবন বেড়াতে গিয়ে এই ফল গাছ আমরা অনেকেই দেখেছি। আজ কেওড়া ফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। কেওড়া ফল সম্পর্কে কিছু তথ্য ??
কেওড়া ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Sonneratia apeta, পরিবার–Lythraceae, গণ– Sonneratia এর অন্তরভুক্ত। এই গাছ উপকূলীয় এলাকায় ও অল্প বা অধিক লবনাক্ত মাটিতে ভালো জন্মায়। সুন্দরবনের গরান বনাঞ্চলের মধ্যে এই ম্যানগ্রোভ গাছটি সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ গুলির মধ্যে একটি।এই গাছ লম্বায়প্রায় ২০ মিটার হতে পারে। পাতা সরু, লম্বাটে, অখণ্ড,সরল ও বিপরীতমুখি। ছোট ছোট হলুদ উভয়লিঙ্গ ফুল হয়। ফাল্গুন মাসে ফুল হয়। ভাদ্র,আশ্বিন মাস পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। ফল কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ এবং পরিনত ফল হালকা সবুজ। ফলে অনেক বীজ থাকে, যা থেকে প্রাকৃতিক ভাবে এই গাছ জন্মায়। ফলের স্বাদ টক। লবনাক্ত মাটিতে জন্মায় তাই এদের শ্বাসমূল থাকে। এই শ্বাসমূল দিয়ে এরা বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে। এই কেওড়া ফল মানুষের সাথে সাথে হরিণ ও বানরের ও খুব প্রিয়। ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশে প্রচুর পরিমানে এই গাছ জন্মায়।পুষ্টিগুণ??
কেওড়া ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি,১২% শর্করা,১.৫% ফ্যাট,৪% প্রোটিন, এ ছাড়া ও এন্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা ফ্যাটি এসিড এবং চায়ের মতো ক্যাটেকিনসহ বিভিন্ন ধরণের পলিফেনল রয়েছে। কেওড়া ফল আপেল ও কমলালেবুর তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর। আমাদের দেশের ফল গুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি পলিফেন রয়েছে আমলকীতে তার পরই কেওড়া ফলে।এই কেওড়া ফল সুন্দরবনের উপকূলের মানুষদের জন্য স্বাস্থ কর।উপকারিতা ??
কেওড়া ফলের সাথে সুন্দরবন ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে আছে। এই গাছ উপকূলের মাটির ক্ষয় রোধ করে। এই গাছের পাতা ও ফল খেয়ে বন্যপ্রাণীরা (হরিণ ও বানর) বেঁচে থাকে। এই গাছের ফুলের মধু মৌমাছিরা মৌচাকে সঞ্চয় করে। কেওড়া ফলে প্রচুর ঔষধিগুন রয়েছে। এই ফলে ভিটামিন সি রয়েছে যা মানবদেহে প্রয়োজনীয় উপাদান, এ ছাড়াও শরীরের চর্বি, কোলেস্টেরল কমায়, চুলকানি পাঁচড়ার রোগ প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে, পাকস্থলীর এসিড কমায়, হজম শক্তি বাড়ায়, এর থেকে সংগৃহীত এসিড খাদ্য শিল্পে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে এবং খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়।ডায়রিয়া, আমাশয়, পেট ব্যথা, ডায়াবেটিস নিরাময়ে কর্যকারী। তা ছাড়া এই ফল আচার ও মাছের টক বানানোর জন্য প্রচলিত।
ছবি ~ গুগল থেকে সংগ্রহ করা।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *