Press "Enter" to skip to content

বরানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রখ্যাত ক্লাব বালক সংঘ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল করোনা’য় নিঃস্ব মানুষের জন্য…..

Spread the love

#বরানগর বালক সংঘের উদ্যোগে পাঁচশ মানুষকে খাবার বিতরণ#

গোপাল দেবনাথ: কলকাতা, ৫মে ২০২০ অনেকের মতে, এই মুহূর্তে বড়লোক আর ভিখিরি ছাড়া অন্য কোন শ্রেণীর মানুষকে চিহ্নিত করা যাচ্ছেনা। লকডাউন-এর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষগুলি সামান্য খাদ্যের অপেক্ষায় দিন গুজরান করছেন। কেউ আধপেটা খেয়ে থাকছেন, আবার কেউ কোনওমতে পরিবার নিয়ে সেদ্ধভাত খেয়ে প্রানপন বাঁচার লড়াই করছেন। এই ধরনের অসম লড়াইয়ে তারা যেমন শামিল হয়েছে, পাশাপাশি দিন আনা দিন খাওয়া শ্রেণীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা কর্মক্ষেত্র বন্ধ থাকার কারণে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন না। অথচ বেঁচে থাকার জন্য সকলের খাদ্যের প্রয়োজন। অভ্যাস এখানে হার মেনেছে। একেবারে উচ্চ, নিম্ম এবং মধ্যবর্তী পর্যায়ে সেই সমস্ত মানুষদের পেট বিদ্রোহের মশাল জ্বালিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই-এর সূচনা করলেও বাস্তবে বিদ্রোহটা কিন্তু পেটের সাথে বেঁচে থাকার লড়াই। লকডাউনের মাসাধিককাল পর্বে নীরবে সেই আর্তনাদের শব্দকে প্রশমন করতে এগিয়ে এসেছেন বহু মানব দরদী মানুষজন। তাঁরা কখনো খাদ্য সামগ্রী নিয়ে, আবার কখনো রান্না করা খাবার নিয়ে তথাকথিত মানুষের সামনে হাজির হয়েছেন এবং শিবির পরিচালনা করে সে সমস্ত তুলেও দিয়েছেন। বাস্তবে হাতে পয়সা না থাকায় ইন্ধন জোগাড় করতে পারছেন না অনেকেই। সেই বাড়তি বোঝা লাঘব করতে বরানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খ্যাতনামা ক্লাব বালক সংঘ এগিয়ে এসে দাঁড়ালো দুর্গত মানুষদের পাশে। ৪ঠা মার্চ ক্লাব প্রাঙ্গণে তাঁরা আয়োজন করেছিলেন রান্না করা খাবারের কর্মসূচি। ভাত-ডিম-সোয়াবিন সহযোগে দুপুরের খাবার তুলে দিলেন প্রায় পাঁচশ মানুষের মুখে। সারা বছর বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বালক সংঘ এই কঠিন সময়ে সংবেদনশীল হয়ে আগেও শুকনো খাবার বিলি করেছিল। কিন্তু পরিস্থিতির বিচারে দুর্গতদের শারীরিক শ্রম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাঁচানোর তাগিদ অনুভব করে রান্না করা খাবার বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। উক্ত দিন শিবিরে উপস্থিত থেকে বরানগর পৌরসভার সি আই সি সদস্য দিলীপ নারায়ণ বসু উদ্যোক্তাদের এই মহানুভবতার ভূয়ষী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকেই যদি নিজেদের সাধ্যমত এ জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তবে একক ব্যক্তি বা সংগঠনের উপর চাপ কমানো যায়। ক্লাব সভাপতি পুলক ঘোষ বলেন, মানুষের দায়বদ্ধতা থেকে জন্ম নেওয়া বালক সংঘ মানুষের পাশে ছিল, আছে ও থাকবে। সম্পাদক জয়ন্ত মাইতি এই প্রচেষ্টাকে তাঁদের নৈতিক কর্তব্য বলেই মনে করেন। তিনি জানান, যে কোন সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় এই ক্লাব তার নিজস্ব ধারাতেই লকডাউন দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্ষীয়ান নেতা গণপতি মজুমদার বলেন, লকডাউন চলাকালীন মানুষের খাদ্য সংকট মেটাতে তাঁরা সবসময় চেষ্টা করবেন। ঐদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী তনেন বন্দ্যোপাধ্যায়, রীতেশ দে সহ সমস্ত সদস্যবৃন্দ।

তথ্য সহায়তা ও ছবি: সুবল সাহা

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *