Press "Enter" to skip to content

নৃশংস নির্ভয়া কাণ্ডের চার ধর্ষকদের ফাঁসি পিছিয়ে গেল…….

Spread the love

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কলকাতা, ৪মার্চ ২০২০ আশঙ্কা আবার সত্যি হলো। নির্ভয়া কাণ্ডের চার নৃশংস ধর্ষক ও খুনীর ফাঁসি আপাতত বাতিল। দুবার পিছিয়ে যাওয়ার পর স্থির হয়েছিল ফাঁসি, তিহার জেলে সব প্রস্তুতও ছিল।কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবীর কুশলী পদক্ষেপ সেই ফাঁসি কে আটকে দিল। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আদালতের কাছে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার আদেশ চাওয়া হয়। কিন্তু আইনের বিধান মেনে শীর্ষ আদালত চলবে বলে জানায়। ফাঁসি সংক্রান্ত আইনে যে অসংখ্য ফাঁকফোকর আছে তা প্রতি পদে পদে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এ পি সিং। বেশ কয়েকদিন আগে দিল্লির পাতিয়ালা আদালত দু দুবার পিছিয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় বার আদেশ দেয় ফাঁসির দিন ৩ মার্চ সকাল ছটায়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী যে সহজে ছাড়বার পাত্র নন, তা বোঝা গেলো গত শনিবার। তিনি কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করেন। রাষ্ট্রপতির কাছে নতুন করে আবেদন করে বলা হয়েছে, এর আগের রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর মক্কেলের তরফ থেকে যে ক্ষমার আবেদন গিয়েছিল তাতে সব তথ্য ছিল না। ছিল বেশকিছু ভুলভ্রান্তি। তাই নতুন করে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানো হলো। অন্যদিকে ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন করার আবেদন করে আরেক অপরাধী পবন গুপ্তা। যদিও সেই আবেদন অগ্রাহ্য হয় আদালতে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ না হওয়ায় ফাঁসি স্থগিত হয়ে গেলো। স্বাভাবিকভাবেই ফাঁসি স্থগিত হওয়াতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। মানবিকতাবাদিরা ফাঁসির কার্যকারিতার দুর্বলতা নিয়ে বলার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্ভয়ার অভিভাবক ও সমাজের বহু সংখ্যক মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছেন ফাঁসি স্থগিত হওয়াতে। চার ধর্ষক ও নৃশংস খুনের খুনিরা চরম অমানবিক অপরাধ করেছে। এই বিষয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু চারজনকে একসঙ্গে ফাঁসিতে লটকে দিলেই কি সমস্যা মিতে যাবে ? এমন প্রশ্নই বারবার করছেন ফাঁসি বিরোধীরা। অন্য দিকে ফাঁসির সমর্থকরা বলছেন, ফাঁসির মতো কঠোর শাস্তি দিলে এরপর অপরাধীরা এই অপরাধ করতে গেলে দুবার ভাববে। এই ধারণা যে কতটা ভ্রান্ত তার প্রমাণ মিলেছে। নির্ভয়া কাণ্ডে ফাঁসির আদেশ আদালত দেওয়ার পরও দেশে অগুনতি ধর্ষণ হচ্ছে। ধর্ষণ। ধর্ষণ করে খুন হচ্ছে। একটুও কমেনি। কমার কথাও নয়। কেননা এই ধর্ষণ বা ধর্ষণ করে খুন করে কারা? সমীক্ষা বলছে, দু ধরণের মানুষ আছেন এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত।এক,গরীব,প্রান্তিক অশিক্ষিত মানুষজন।দুই,সমাজের উচ্চ অংশে থাকা মানুষ। কেউ ব্যবসায়ী। কেউ রাজনীতিবিদ। কেউ ধর্মগুরু।সাধারণ মানুষ এত গভীরে গিয়ে ভাবেন না ।চারিদিকে অসাম্য, অস্তিত্ব সংকট, এসবে মানুষ জেরবার, তখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সহজে ভোগবিলাসের বস্তু নারী শিকার।

সুতরাং অহিংসার পূজারী বাপুজির ভারতের নাগরিক কিন্তু মারের বদলে মারেই বিশ্বাসী। অপরাধীর প্রতি ঘৃণা উগরে দিয়ে বলে গোলি মারো শালেকো।গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাংসদ হয়ে বিগ বি পত্নী জয়া বচ্চন তো বলেই বসেন, ধর্ষকদের রাস্তার মোড়ে সকলের সামনে গুলি করে মারা উচিত। অর্থাৎ সাংসদ বিচার প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখেন না।তিনি বিশ্বাস করেন গোলি মারো সালে কো তে বিশ্বাসী। সামনে আসে আফজল গুরুর ফাঁসির কথা। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি আফজল গুরুর প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করেছিলেন।কিন্তু তিনি বলেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে ফাঁসির তিনি বিরোধী। সংসদে ও আইনপ্রণেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার জন্য। জন মিডিয়া নামে একটি গবেষণামূলক পত্রিকার সম্পাদক অনিল চামাড়িয়া তাঁর একটি নিবন্ধে লেখেন,…… মধ্যযুগীয় ফাঁসি প্রথা অবলুপ্তির জন্য বিশ্বজুড়ে মানবতাবাদী জনতা আন্দোলন করছেন তার অন্যতম একটি কারণ ভারতে ফাঁসির শাস্তি যারা পান অধিকাংশ সমাজের দুর্বল অংশের মানুষ। কয়েকটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া। আমরা যতটা হায়দ্রাবাদের ড,প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির ধর্ষণকারীদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছি, যতটা নির্ভয়াকাণ্ডের অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছি ততটা কি ধর্ষক রাজনৈতিক নেতা বা ধর্ষক বাবাজিদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছি? কেন হই না?
(শেষাংশ আগামীকাল)

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *