Press "Enter" to skip to content

‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ সিনেমায় হলিউড অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো’র সাদা পোশাক যখন সাবওয়ে ভেন্ট-এর হাওয়ায় ফুলেফেঁপে উড়ে যাচ্ছে আর তিনি হাত দিয়ে ঢাকছেন লজ্জা ও পুলক………

———–জন্মদিনে স্মরণঃ মেরিলিন মনরো——–

বাবলু ভট্টাচার্য: ঢাকা, পিতৃপরিচয়হীন অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের গর্ভে জন্ম নেয় একটি মেয়ে। একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে অভিভাবকহীনতায় আশ্রয় জোটে এতিমখানায়। পরবর্তীতে জীবনের নানা উত্থান-পতন কাটিয়ে সময় যেন তাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে। ছোটবেলার এই অসহয়ত্বই যেন সাফল্যে তার মনোবল হয়ে দাঁড়ায়। ভাগ্যের সুপ্রসন্নতায় মডেল হিসেবে শুরু হয় তার ক্যারিয়ার। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মার্কিন অভিনেত্রী, মডেল এবং গায়িকা হিসাবে। দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্মালেও সৃষ্টিকর্তা যেন দু’হাত ভরে সৌন্দর্য দিয়েছিল তাকে।স্বর্ণকেশী এই সৌন্দর্যের রানীর নাম মেরিলিন মনরো। তাঁর সম্পর্ক ছিল দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। তাঁর সম্পর্ক নাকি ছিল প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি কখনও বিয়ে করছেন বিশ্বখ্যাত নাট্যকার আর্থার মিলার-কে, কখনও খ্যাতিমান বাস্কেটবল তারকাকে। ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ সিনেমায় তাঁর সাদা পোশাক যখন সাবওয়ে ভেন্ট-এর হাওয়ায় ফুলেফেঁপে উড়ে যাচ্ছে আর তিনি হাত দিয়ে ঢাকছেন লজ্জা ও পুলক— সেই দৃশ্য যৌন আবেদনের ‘আইকনিক’ প্রকাশ হিসেবে থেকে যাচ্ছে সিনেমার ইতিহাসে। সেই দৃশ্যই ধরা আছে পাম স্প্রিংস-এর ২৬ ফুট উঁচু স্ট্যাচুতে, প্রণয়ীযুগল থেকে বৃষ্টিপালানে-দর্শক যার তলায় খুঁজে নেয় আড়াল, আশ্রয়।

২০১৪-র সমীক্ষায় সেই পোশাকটি পাচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্রে ‘সেরা আইকনিক পোশাক’-এর সম্মান। তিনি মেরিলিন মনরো। মার্লন ব্র্যান্ডো তাঁর আত্মজীবনীতে গর্ব করে লেখেন— ‘আমারও ওর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল’! তবে মেরিলিনের যৌন দীপ্তির সবচেয়ে বড় ‘স্বীকৃতি’ এলো যার কাছ থেকে, সে ভদ্রলোক জন এফ কেনেডি। মার্কিন রাষ্ট্রপতি। এর সঙ্গে মনরোর আলাপ এক ডিনার পার্টিতে। পর দিনই মনরোর কাছে ফোন যায় অধৈর্য কেনেডির। আসছে মাসে যে তিনি পাম স্প্রিংস-এ যাচ্ছেন, সেখানে মনরোকেও সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেন। মনরো-কেনেডি সম্পর্ক যখন আন্তর্জাতিক কানাঘুষোর ইস্যু নাম্বার ওয়ান, তখন কেনেডির পঁয়তাল্লিশতম জন্মদিনের পার্টিতে ‘হ্যাপি বার্থডে মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ গেয়ে উঠছেন মনরো, এমন টাইট একটা পোশাক পরে, বলা হয়, মনরোর শরীরেই কাপড়টা ফেলে সেলাই করা হয়েছিল। মোটে ছত্রিশ বছরের জীবনে তিন-তিন বার ডিভোর্সের পাতায় সই করা মনরো নাকি ভালবেসেছিলেন কেনেডিকে। কিন্তু কেনেডির বোধহয় অমন কোমল ব্যাপার স্যাপার জাগেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বইয়ে বলা হয়েছে, কেনেডি যখন এড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁকে, মনরো নাকি সরাসরিই মার্কিন ফার্স্ট লেডি-র কাছে গিয়ে সব ফাঁস করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট তাঁকেই বিয়ে করবেন। একটুও বিচলিত না হয়ে কেনেডির স্ত্রী বলেন— ‘খাসা, বিয়ে করো ওকে! চলে এসো হোয়াইট হাউসে। ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব নাও। সব হ্যাপা গিয়ে পড়বে তোমার কাঁধেই।’ হয়তো এ সব কারণেই, বিষাদ থেকেই, ক্রমশ চড়া নেশার ভিতর ডুবে গিয়েছিলেন মনরো। ১৯৬২-র ৫ অগস্ট তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আত্মহত্যা, না হত্যা? সত্যিই ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন, সত্যিই কি তখন নগ্ন ছিলেন? মেরিলিন মনরোর আসল নাম ছিল নরমা জেন মর্টেনশন। মায়ের বহুগামিতার জন্য মনরোর আসল বাবার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বড়বেলাটা যতটা বর্ণিল ছিল, ছোটবেলাটা তার চেয়ে বেশি কষ্টে কেটেছে মনরোর। তিনি যখন খুব ছোট, তখনই তার মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। নয় বছর বয়সে এতিমখানায় ঠাঁই হয় মনরোর। এতিমখানায় থাকতে কিছুতেই মন চাইছিল না তার। তখন মনরো তার পাশের বাড়ির এয়ারক্রাফট প্লান্টের চাকুরেকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় মনরোর বয়স ছিল মাত্র ১৬। শুরু হলো মনরোর প্রথম দাম্পত্য জীবন। কিন্তু সবই এত সহজ ছিল না। সেই সঙ্গে ঝামেলাও শুরু হলো।

একাকী সময় কাটে মনরোর। তখনই ডেভিড কনোভার নামে এক ফটো সাংবাদিকের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে মনরোর। ডেভিড মনরোকে মডেলিংয়ে প্রস্তাব করলেন। বিষয়টি লুফে নিলেন মনরো। সেখান থেকেই অন্তরঙ্গতা আর ভালোবাসাবাসি। সেই সময় ‘মাংকি বিজনেস’ নামে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন প্রযোজক জোয়ি ডি ম্যাগিওর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মনরো। তাদের বিয়েও হয় এক সময়। তবে বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায়ই বিচ্ছেদ ঘটে। আমেরিকার একজন খ্যাতিমান লেখক ও নাট্যকার ছিলেন মিলার। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মনরোর। সুন্দরী মনরো সহজেই যে কোনো পুরুষকে আকর্ষিত করতে পারতেন। মিলারও নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি। ১৯৫৬ সালের ২৯ জুন তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মনরো। এই বিয়েটিও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। এরপর আর কাউকে বিয়ে না করলেও অনেক সহ-অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে তার প্রেমের গুজব ছিল সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয়। তবে মনরোর সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের ঘটনাটি ছিল জন এফ কেনেডির সঙ্গে গোপন প্রেম— যা আগেই উল্লেখ করেছি।

মেরিলিন মনরো ১৯২৬ সালের আজকের দিনে (১ জুন) লস এঞ্জেলেস কাউন্টি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.