Press "Enter" to skip to content

ঘূর্ণিঝড় “উম-পুন” মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুমে মুখ্যমন্ত্রী। সাহায্যে প্রস্তুত ভারত সেবাশ্রম সংঘ।

শুভদ্যুতি দত্ত: কলকাতা, ১৯মে ২০২০। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিয়েছে। উপকূল অঞ্চলে আছড়ে পড়তে চলেছে। সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলে এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সতর্ক সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বৈঠক করে পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উপকূল বাহিনীও সজাগ দৃষ্টি রাখছে। দীঘা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলছে মাইকে প্রচার। পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনবরত ঘোষণা করা হয়েছে। আকাশ মেঘলা। বৃষ্টি ও পড়ছে। ঝোড়ো হাওয়া বইছে জোর। সেইসঙ্গে বাড়ছে জলোচ্ছ্বাস। ইঙ্গিত আগেই ছিল, ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান। এই মূহুর্তে ঝড়ের নাম নিয়েও বিভ্রান্তি। আসলে তা উম – পুন। কেউ বলছেন উম্পুন। এই শব্দের মানে হল – আকাশ। এবার ঝড়ের নাম দিয়েছে থাইল্যান্ড। ২০১৪ সালে এই ঝড়ের নামকরণ করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমেও আমপান বলে তা বহু প্রচলিত।

এই মুহূর্তে সে নাম নিয়ে বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রায় তিন লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উপকূল অঞ্চল থেকে বিশেষ ভাবে নির্মিত শিবিরে সরিয়ে আনা হয়েছে। উপকূল অঞ্চল লাগোয়া – দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর। পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দারা ও রয়েছেন।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপকূলবর্তী অঞ্চলে পৌঁছেছেন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক দল। উপকূল বাহিনীও সবরকমের প্রস্তুতি নিয়েছে। এদিকে, এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন টেলিফোনে। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার নেতৃত্বে টাস্ক ফোর্স গড়ে তোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। রাজ্য সচিবালয় নবান্নের কন্ট্রোল রুম নম্বর – ০৩৩/২২১৪-১০৭০ (টোল ফ্রি)।
এছাড়াও যোগাযোগের আরও দুটি হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে – ২২১৪-৩৫২৬, ২২১৫-১৯৯৫।
এই মুহূর্তে কন্ট্রোল রুমে মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতির তদারকিতে করছেন ।

অন্যদিকে, যে কোনও ধরনের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে প্রস্তুত ভারত সেবাশ্রম সংঘের শাখাগুলি। সংঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, ইতিমধ্যেই ভারত সেবাশ্রম সংঘের সুন্দরবনের মৌসুনি দ্বীপ, নামখানা, গঙ্গাসাগর, ঘোড়ামারা, মহেন্দ্রগঞ্জ, কাকদ্বীপ সহ সুন্দরবন এলাকায় যে সমস্ত শাখা রয়েছে সেগুলো পুরোদমে কাজে নেমেছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘাতে সংঘের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম পূর্বাভাস পেয়ে বহু মানুষকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা ঐ সমস্ত শাখাগুলিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

ঝড়ের পর যে কোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও উদ্ধার কাজে সহযোগিতার জন্য। সংঘের প্রধান আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় আয়লার কথা মাথায় রেখেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ সমস্ত এলাকায় ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পৌঁছেছে ।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.