Press "Enter" to skip to content

গ্রীষ্ম কালীন জ্বালা যন্ত্রনা সহ্যের সীমা পার করেছে।

———————গরমে র পাঁচালী——————
মৃদুলা ঘোষ: কলকাতা,১৮ মে ২০২০। তাপপ্রবাহের মাত্রা যত ই তীক্ষ্ণ হচ্ছে, জনজীবনের গরম কালীন জ্বালা যন্ত্রনা সহ্যের সীমা পার করেছে। তবুও চেষ্টা চালাতে হয়, কিভাবে একটা দিন ভালো থাকা যায়। খাওয়া দাওয়া: যে কোনো গুরুপাক খাবার, যেমন ডিম, মাংস, তেল মশলাদার, দোকানের ভাজা ভুজি, এই গরমে যত কম খাওয়া যায় তত ই ভালো। তা নিজের শরীর ভালো রাখতে সহজ পাচ্য, হালকা খাবার খাওয়া অভ্যাস করুন। সঙ্গে টক জাতীয় খাবার রাখুন। গরমে ফলের প্রয়োজনীয়তা: গ্ৰীষ্ম ঋতুর ফল যেমন আম, জাম, তরমুজ, শসা, জামরুল, লিচু, আঙুর, অবশ্যই গরমে খাওয়া দরকার, এরা জলের ঘাটতি মেটাতে, পিপাসা দূর করতে অনবদ্য। তাছাড়া, ভিটামিন সমৃদ্ধ ফলগুলো

গরমে শরীর তরতাজা রাখে।
জলের মাপ: গরমে সারা দিনে, কম করে তিন লিটার জল খাওয়া দরকার। তবে যাদের অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাদের দিনে চার লিটার জল অবশ্যই খেতে হবে। তবে রোদ থেকে এসে সরবত বা রঙিন পানীয় কখনই গলায় ঢালবেন না। বরং সারা দিনে কয়েক বার নুন চিনির জল পান করুন। এতে রক্তে সোডিয়াম-পটাশিয়াম মাত্রায় সাম্যতা থাকে।
গরমে স্নানের আরাম: গরমের দাবদাহ এ শান্তি দেবে কয়েক বারের স্নান। অতিরিক্ত গরমে সারা দিনে দুবার গায়ে জল দিতেই হয়। তবে, রোদ থেকে ঘরে ফিরে এসে কখনোই নয়। সর্দি গর্মি হতে পারে মনে হলে, গরমে স্নান বারবার না করে, ভিজে কাপড়ে গা হাত পা মুছে নিতে পারেন। এতে সাময়িক স্বস্তি পাবেন।

গরমে ক্লান্তি: ছোটো বড়ো আমরা সবাই গরমে সহজেই ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ি। কারন, শরীরে ঘাম হওয়ার কারণে আমাদের শরীর থেকে নুন বেরিয়ে যায়, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্লুকোজ জল, লেবুর সরবত, চিনির জল বার বার পান করা দরকার। নয়ত, ক্লান্তি থেকে শরীর ভয়ানক অসুস্থ হতে পারে। তাই অতিরিক্ত গরমে কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম নিন।
গরমের পোশাক: গরমের কষ্ট অস্বস্তি দূর করার ক্ষেত্রে, সঠিক পোশাকের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। সূতির ঢিলেঢালা, হালকা, পোশাক পরে নিজেকে আরামদায়ক রাখুন। এই সময়, সিন্থেটিক, টেরিকটের পোশাক না পরাই ভালো।
রোদে ঘোরাঘুরি: জীবন ও জীবিকা র জন্য গ্ৰীষ্মের চূড়ান্ত রোদেও অসংখ্য মানুষ কে বাইরে ঘোরাফেরা করতে হয়। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে অবশ্যই ছাতা মাথায় দিতে হবে। দুপুর বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত রোদ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়টা এড়াতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারন, এই সময়ে র তাপ প্রবাহ সানস্ট্রোক, হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী অবস্থা তৈরি হয়। তাই সাবধান থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
প্রচন্ড গরমে ঝরঝরে থাকার উপায়: এই বিরক্তিকর গরমে শরীর ঝরঝরে রাখতে গেলে, রোদে কম বেরোতে হবে, অপেক্ষাকৃত ঠান্ডায় থাকা, পরিশ্রম কম করা, যথেষ্ট বিশ্রাম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, বার বার নুন চিনি র জল, কমপক্ষে দুই বার স্নান, বেশ কয়েকবার ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নেওয়া এই সতর্কতা গুলি ই শরীর তাজা ঝরঝরে রাখবে।

গরমে বিশেষ সমস্যা: ঘামাচি ও ফোঁড়া এই সময়ে র বিশেষ সমস্যা, এতে অনেকই আক্রান্ত হন। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে, গায়ে ঘাম জমতে কোনো ভাবেই দেওয়া যাবে না। কাজের তাগিদে রোদে বেরোতে হলে সাবধানতা নিয়ে নিন। বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে পারেন। অপর এক সমস্যা হল, সহজেই পেট খারাপ হতে থাকা। কারন, এই সময়, আমরা তেষ্টা মেটাবার জন্য যেখানে সেখানে জল খাই, কাটা ফল খাওয়ার অভ্যাস, রোদে ঘোরাঘুরি, সঠিক হজম না হওয়া, ইত্যাদি নানা পরিস্থিতি মিলিয়ে আমাশা, পেট খারাপ হবার সম্ভাবনা থাকেই। এর থেকে নিষ্কৃতি পেতে নিজেকেই সতর্ক থাকতে হবে কি করে ভালো থাকা যায়। গরমের কষ্ট সবাই কে সহ্য করতে হয়, সব অসুবিধার মধ্যেও সুস্থ, সচল, ঝকঝকে থাকার পরিকল্পনা আমাদেরকেই করতে হবে দিনের কাজ শুরু করার আগে।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.